পুলিশের দুর্নীতি দমনে বাংলাদেশে কী ব্যবস্থা রয়েছে?

গ্রেফতারকৃত ডিবির সদস্যরা। ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption গ্রেফতারকৃত ডিবির সদস্যরা।

টেকনাফের ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর চীন এবং মিয়ানমার থেকে কম্বল আমদানি করে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার জন্য তিনি কক্সবাজার শহরে গেলে সেখানে গোয়েন্দা পুলিশের সাতজন সদস্য জোর করে গাড়িতে নিয়ে যায়।

ভোর চারটার দিকে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের গাড়িটি যখন টেকনাফ থেকে কক্সবাজার ফিরছিল তখন সেনা চেকপোস্টে টাকার বস্তাসহ ধরা পড়ে।

বেশ বড় অভিযোগ পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে, যেখানে তারা এসব অপরাধ দমণ করবেন, সেখানে এই অপরাধেই জড়িয়ে পড়ছেন, পুলিশ যাতে এমন সব ঘটনা না ঘটাতে পারে, বাহিনীতে এর কি কোন উপায় রাখা হয়েছে?

পুলিশের সাবেক আইজি নুরুল হুদা বলছিলেন , অনেক গুলো পথ রয়েছে ব্যবস্থা নেয়ার। সেগুলোর মধ্যে একটি হল তার বা তাদের উপরস্থ কর্মকর্তারা তত্ত্বাবধান করেন।

পুলিশ হেড কোয়াটারে একটি সিকিউরিটি সেল আছে যাদের কাজ এই ধরণের নৈতিক স্খলন জনিত বা অপরাধ মূলক কাজের অনুসন্ধান করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। প্রয়োজনে ফৌজদারী মামলা করার বিধান রয়েছে।

মি. হুদা বলছিলেন "এছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন রয়েছে, তাদের দায়িত্বের মধ্যেও এগুলো পরে। সুতরাং পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধ বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সেগুলো খতিয়ে দেখা, তদন্ত করা এবং মামলা করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সেগুলো কে অ্যাকটিভ অর্থাৎ কার্যকর করতে হবে"।

"অপরাধ প্রবণ যেসব এলাকা রয়েছে সেসব এলাকায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিজেরাই অপরাধে জরিয়ে যাচ্ছেন কিনা সেটা আগ বাড়িয়ে পুলিশ হেড কোয়াটারের সিকিউরিটি সেল এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে খোঁজ নিতে হবে" বলছিলেন তিনি।

আরো পড়ুন:‘ওরা আমার বাবা-মা, সন্ত্রাসী নয়’

ছবির কপিরাইট ছবির কপিরাইটফোকাস বাংলা
Image caption আটক টাকাসহ ডিবি'র কর্মকর্তারা।

প্রায়ই পুলিশের বিরুদ্ধে নানা উপায়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠে। কক্সবাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গোয়েন্দা পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু এর কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না বলে তারা অভিযোগ করছেন।

কক্সবাজার জেলায় যেহেতু ইয়াবার চোরাচালান হয়, সেজন্য বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে ইয়াবা পাচারের নামে অনেককে আটক করার হুমকি হুমকি দেয় গোয়েন্দা পুলিশের কিছু সদস্য। এমনটাই অভিযোগ করছেন কিছু ব্যবসায়ী।

পুলিশের এই দুর্নীতির অভিযোগ কতটা ব্যাপক?

মি. হুদা বলছিলেন, যেখানে ক্ষমতা আছে সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার হওয়া আশ্চর্যের কিছু না। এটা শুধু পুলিশ বাহিনীতেই হয় না যার কাছে ক্ষমতা আছে তার কাছে থেকেই অপব্যবহার হতে পারে।

আরো পড়ুন:

সেনা চেকপোস্টে যেভাবে আটক হলো গোয়েন্দা পুলিশ

কর্মক্ষেত্রে অর্ধেক নারীই যৌন হয়রানির শিকার: বিবিসির জরিপ

ভারতের সিনেমা হলে জাতীয় সঙ্গীত বাজানো নিয়ে চ্যালেঞ্জ

সম্পর্কিত বিষয়