শরিয়াভিত্তিক এসআইবি ব্যাংকে ব্যাপক পরিবর্তন

ছবির কপিরাইট এসআইবিএল
Image caption সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক

বাংলাদেশে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড নামে শরিয়া-ভিত্তিক একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে।

পর্ষদের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রধান পদগুলোতে থাকা ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

পুঁজি বাজারে নিবন্ধিত একটি ব্যাংকে এরকম দ্রুততার সাথে নাটকীয় পরিবর্তন আনায় প্রশ্ন উঠেছে, নেতৃত্বে রদবদল কতটা স্বচ্ছতার সাথে করা হয়েছে।

সোমবার বেসরকারি খাতের সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে হঠাৎ পরিবর্তন আনা হয়।

চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রধান পদগুলোতে থাকা ব্যক্তিরা পদত্যাগ করেন। একই দিনে এই পদগুলোতে নতুন নিয়োগ দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পরই এ নিয়োগ কার্যকর হবে বলে ব্যাংকটি থেকে জানানো হয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাধারণভাবে কোন ব্যাংকের পরিচালক হবার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। একই সঙ্গে পুঁজি বাজারে নিবন্ধিত কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনার বিষয়টিও একটি সময় সাপেক্ষ ব্যপার।

ফলে এই দুই ক্ষেত্রেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে দ্রুততার সঙ্গে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে এই পরিবর্তনের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, যে প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন করা হয়েছে, সেটি কতটা যথাযথ। প্রশ্ন রেখেছিলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের কাছে।

মি. খালেদ বলেন, "এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আমার চোখে পড়েনি। ব্যাংক শেয়ার বিক্রি করলে নতুন উদ্যোক্তারা প্রচুর পরিমানে শেয়ার কিনে মালিক হতে পারেন বা নেতৃত্বে চলে আসতে পারে। সেটা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রশ্ন হলো স্বচ্ছতা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে। এক্ষেত্রে বিদেশে হলে তারা আগে থেকে প্রেস কনফারেন্স করে বা কোনভাবে গ্রাহকদের জানিয়ে দেন, আমরা এটা কিনেছি। যাতে গ্রাহকদের মধ্যে শঙ্কা কাজ না করে।"

মি. খালেদ বলছেন, এক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা না থাকলে তার একটি প্রভাব পড়ে গ্রাহকদের ওপর। যেমনটি দেখা গেছে, ঢাকা ষ্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংকটি শেয়ারমূল্য বিকেল পর্যন্ত লেনদেনে সাড়ে পাঁচ শতাংশ কমেছে।

বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের পুরনো বা নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে বারবার যোগাযোগ স্বত্বেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিন্তু কোন ব্যাংকের এ ধরণের পরিবর্তনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকার কতটা মনিটরিং করে? অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলছিলেন, বিষয়টির দিকে তারা নজর রাখছেন, যদিও এক্ষেত্রে নিয়ম কতটা অনুসরণ করা হয়েছে, সে প্রশ্নের সরাসরি কোন জবাব তিনি দেননি।

"প্রথমেই বলা প্রয়োজন, বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধিবিধান রয়েছে। সেইসঙ্গে যেহেতু লিস্টেড ব্যাংক, সেহেতু সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেরও নিয়মকানুন আছে। আমরা বিষয়টির দিকে নজর রাখছি। আর আশা করি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও বিষয়টির দিকে নজর রাখছে।"

এদিকে, নতুন যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তাদের প্রায় সকলেরই চট্রগ্রাম ভিত্তিক ব্যবসায়িক সংস্থা এস আলম গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে জানা যাচ্ছে। মে মাসে এস আলম গ্রুপই প্রায় একই ভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড অধিগ্রহন করেছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংক ছাড়াও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ও আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা কিনে নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। কিন্তু হঠাৎ করে শরীয়াভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলোর মালিকানায় এ ধরণের পরিবর্তনের কি কোন বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে? জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের কাছে

"অনেকের একটা প্রচ্ছন্ন ধারণা যে সরকারের একটি সক্রিয় সমর্থন না থাকলে এত বড় একটা ঘটনা ঘটতে পারত না। আর যতগুলো ব্যাংক অধিগ্রহণের মত ব্যপার ঘটেছে, সব কটিই ইসলামী ব্যাংক। যদিও ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে সেটি বেশ জন সমর্থন পেয়েছিল। কিন্তু এখনো ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ঠিক যোগ্য লোক যাদের ওপর জনগণের আস্থা আছে, তাদের নিয়ন্ত্রনে আসেনি।"

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর এ ধরণের পরিবর্তনের কি প্রভাব পড়বে, সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে বলছিলেন মি. খালেদ।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে। শেয়ারবাজারে ২০০০ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া ব্যাংকটিতে আমানতের পরিমান ১২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির শেয়ারধারীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার।

সম্পর্কিত বিষয়