নেপালে মা ও শিশুর জীবন বাঁচাচ্ছে সৌরবাক্সের আলো

ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption সৌর বাক্স

নেপালে ইদানিং সৌরবাক্সের ব্যবহার ক্রমশই বাড়ছে। হলুদ রঙের এই বাক্সটি আসলে হচ্ছে একটি সৌরশক্তিচালিত বাতি - যা বিদ্যুৎ নেই এমন জায়গাতেও আলোর উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায় - এবং বিশেষ করে তা কাজে লাগানো হয় নিরাপদে সন্তান জন্মদান নিশ্চিত করতে।

নেপালে এখন ১১০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই সৌরবাক্সগুলো দিচ্ছে পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক শক্তি।

এর আগে মায়েরা বাচ্চার জন্ম দিতেন হয় অন্ধকার ঘরে, নয়তো বহু মাইল পথ পেরিয়ে সবচেয়ে কাছের হাসপাতালে গিয়ে। নেপালে প্রতি চারজনের একজনের কাছে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি। অনেক সময় সন্তানের জন্ম হয় মোমবাতির আলোতে।

প্রায়ই দেখা যায় আলো না থাকায় হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন বিলম্বিত বা বাতিল করতে হয়।

কিন্তু নেপালের পাণ্ডবখনি গ্রামে ২০১৪ সালে এই যন্ত্রটি স্থাপিত হওয়ার পর, প্রসবকালীন কোনও প্রসূতি বা বাচ্চার মৃত্যু ঘটেনি এখনও পর্যন্ত, এই কেন্দ্রে।

এই ছোট্ট হলুদ বাক্সগুলিতে কী এমন শক্তি আছে যা জীবন বাঁচাতে পারে?

ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption শিশুর হৃৎস্পন্দন পরীক্ষা করার যন্ত্রও থাকে সৌর বাক্সের সাথে

প্রসবের সময় অত্যধিক রক্তপাত, উচ্চ রক্তচাপ বা বাধাজনিত জন্ম, সবগুলিই পরীক্ষা করতে হলে দরকার প্রচুর আলো। বাচ্চার জন্ম দেওয়ার সময় জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে এই আলোর উপস্থিতি।

সন্তান জন্মের জায়গাটিতে আলো না থাকলে সাধারণ সমস্যাও বিপজ্জনক - এমনকি মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে। আর সেরকম অবস্থায় একটি সৌরশক্তিচালিত বাতি বাঁচাতে পারে প্রসূতি এবং সদ্যোজাত বাচ্চাদের প্রাণ।

সৌরবাক্সের উদ্ভাবক আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ড. লরা স্ট্যাচেল। এই বাক্সে থাকে একটি সোলার প্যানেল, একটি ব্যাটারি, চার্জ কনট্রোলার এবং কিছু চিকিৎসা যন্ত্রপাতি। গর্ভস্থ শিশুর হৃৎস্পন্দন মাপার যন্ত্রও থাকে।

গোটা বিশ্বে এখন আড়াই হাজারের কাছাকাছি সৌরবাক্স স্থাপিত রয়েছে।

সৌরবাক্সের ব্যবহারের সুফল সম্পর্কে নেপালের হারি সুনার বলেন, তার প্রথম সন্তানের জন্ম হয় খুব কম আলোতে। কিন্তু তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হতে যাচ্ছে সৌর বাক্সের আলোতে।

"আমি আনন্দিত যে এখন শুধু আমার জন্যে নয় - আমার গ্রামের সব নারীর জন্য আছেএই সৌরবাক্স" - বলেন হারি সুনার।