দুদকের গণশুনানী: অধিকাংশ লোকই কোন সমাধান পান নি

ছবির কপিরাইট TIB:MASUMM
Image caption গণশুনানীতে অধিকাংশ অভিযোগকারীই সমস্যার সমাধান পান নি -বলছে টিআইবি

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ শোনার জন্য যেসব গণশুনানী করেছে - তার মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই অভিযোগকারীই তাদের সমস্যার কোন সমাধান পান নি।

দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বা টিআইবির এক জরিপ রিপোর্টে এ কথা বলা হয়।

আজ এক সংবাদ সম্মেলনে গণশুনানীর কার্যকারিতা নিয়ে তৈরি রিপোর্ট উপস্থাপন করে টিআইবি বলছে, এর মধ্যে দিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি রোধ, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের ঘাটতি দূর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গণশুনানীতে তোলা অভিযোগ সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পদক্ষেপ গ্রহণের হারও 'উল্লেখযোগ্য' - বলা হয় রিপোর্টে।

তবে একই সঙ্গে রিপোর্টে বলা হয়, জরিপ চালানোর সময় পর্যন্ত দেখা গেছে যে অধিকাংশ অভিযোগকারীই কাংখিত সমাধান পান নি।

রিপোর্টে এর কারণ হিসেবে ফলো-আপের ঘাটতি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সেবা প্রদানে পেশাদারিত্বের ঘাটতি, দুদক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জনবল ইত্যাদি সক্ষমতার ঘাটতি - এসব কারণের কথা বলা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ৭৮ শতাংশ অভিযোগকারী গণশুনানীতে অভিযোগ সমাধানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। কিন্তু এর পর মাত্র ২৭ শতাংশ চুড়ান্তভাবে অভিযোগের সমাধান পেয়েছেন, ৭৩ শতাংশই তথ্য সংগ্রহের সময় পর্যন্ত কোন সমাধান পান নি।

এর কারণ হিসেবে অভিযোগকারীদের অধিকাংশ উল্লেখ করেছেন কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতাকে। ঘুষ চাওয়া এবং উদ্যোগের অভাব এসেছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কারণ হিসেবে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, হয়রানি, দায়িত্বে অবহেলা, খারাপ আচরণ ও প্রতারণার অভিযোগ।

টিআইবির ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে এটা দেখতে হবে যেন তাদের এই গণশুনানী আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত না হয়।

দুদকের গণশুনানী যখন শুরু হয়েছিল তখন অনেকেই আগ্রহী হয়ে সেই শুনানীতে অংশ নিয়ে অভিযোগ জানাতেন। কিন্তু দিনের পর দিন কোন সমাধান না পেয়ে এই প্রক্রিয়া এবং সর্বোপুরি প্রতিষ্ঠানের প্রতিই কি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে?

দুদকের একজন কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিনের কাছে একথা জানতে চাইলে তিনি বলছিলেন, এই কাজটা শুরু করেছি বেশিদিন হয়নি। আরো কিছু সময় লাগবে।

"আস্থার বিষয়টাতো বড় বিষয়। বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থাহীনতার একটা বিষয় রয়েই গেছে। আমরা কিছুটা চেষ্টা করেছি কাজ করার মাধ্যমে।সেকারণেই আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি, যেটা আগে ছিল না" - বলেন ড. নাসিরউদ্দিন।

সম্পর্কিত বিষয়