রুশ বিপ্লবের যেসব পোস্টার খ্যাতি পেয়েছিল

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption রুশ বিপ্লবের পোস্টার

রুশ বিপ্লবের সময় যেমন সমাজে এক বিরাট আলোড়ন তৈরি হয়েছিল - তেমনি এটা ছিল এক সৃষ্টিশীলতারও সময়। সেই সময় মানুষকে বিদ্রোহে উদ্দীপ্ত করার জন্য যেসব রাজনৈতিক পোস্টার বেরিয়েছিল - তার মধ্যে এর ছাপ আছে।

রাশিয়ার সমকালীন ইতিহাস বিষয়ত কেন্দ্রীয় জাদুঘরের পরিচালক ভেরা পানফিলোভা এই দশটি 'ক্লাসিক' পোস্টার নির্বাচন করেছেন বিবিসির জন্য।

'স্বাধীনতার জন্য দান'

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption স্বাধীনতার জন্য দান

এই পোস্টারটি এঁকেছেন বরিস কুস্তোদিয়েভ। এতে দেখা যাচ্ছে রাইফেল হাতে একজন সৈন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় লোকজনের কাছ থেকে টাকা তুলছেন।১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি প্রথম বেরোয়।

বিপ্লবের দিনগুলো

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption বিপ্লবের দিনগুলো

মস্কোর ভসক্রেসেনস্কায়া স্কোয়ার এবং পার্লামেন্ট ভবন এলাকাটি ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে বিপ্লবী সভা-সমাবেশের স্থান হয়ে উঠেছিল। এই পোস্টারটিতে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে মানুষ বিপ্লবের বার্তায় কতটা উদ্দীপ্ত হয়ে উঠেছিল - তার তখন প্রথম মহাযুদ্ধও চলছে।

নেতৃত্বে থাকা লোকেরা

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption নেতৃত্বে থাকা লোকেরা

এটি ঠিক পোস্টার নয়। আসলে এটা একটা সচিত্র লিফলেট - যাতে কিভাবে সেসময় ক্ষমতাকে চিত্রিত করা হতো তা ফুটে উঠেছে। এখানে যাদের দেখা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন সে সময়কার নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। অন্তর্বর্তী সরকারের মিখাইল রডজিয়াংকো, আলেক্সান্দর কেরেনস্কির মতো লোকদের এখানে দেখা আছে। ওপরে সশস্ত্র লোকরা শ্লোগান দিচ্ছে 'জমি আর স্বাধীনতা', এবং 'যুদ্ধ করেই অধিকার আদায় করতে হয়।'

পরিবর্তনের হাওয়া

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption পরিবর্তনের হাওয়া

লেখক ম্যাক্সিম গোর্কির প্রতিষ্ঠিত বামপন্থী প্রকাশনা সংস্থা পারুস এই পোস্টারটি বের করে। এসব পোস্টার প্রায়ই তৈরি করতেন মায়াকোভস্কি বা রাদাকভের মত নামকরা কবি ও শিল্পীরা। এখানে দেখা যাচ্ছে বিপ্লবের আগে সৈন্যরা বুর্জোয়াদের ও পরে সৈন্যরা জনতার দাবির পক্ষ নিয়েছিলেন।

সূর্যোদয়

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption সূর্যোদয়

১৯১৭ সালের মার্চ মাসে জার নিকোলাস ক্ষমতা ত্যাগ করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন। এই পোস্টারে দেখা যাচ্ছে জার বিপ্লবী কৃষক-শ্রমিকদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিচ্ছেন। পেছনে দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতার প্রতীক সূর্য উঠছে

সামাজিক পিরামিড

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption সামাজিক পিরামিড

এটিও মায়াকোভস্কি ও রাদাকভের উদ্যোগে করা পারুসের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার। এতে দেখা যাচ্ছে নানা স্তরের রুশ জনগণের দুপাশে জারের রাজকীয় পোশাক। বিপ্লবের আগে পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যঙ্গাত্মক গল্পগুলো ছিল জার দ্বিতীয় নিকোলাস ও তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে।

প্রচারাভিযান

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption প্রচারাভিযান

রাশিয়ার ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের প্রচারাভিযান শুরু হয় ১৯১৭ সালের হেমন্তকালে। বহু সংগঠনই এতে অংশ নেয়- কিন্তু সবচাইতে বড় দল ছিল সোশ্যালিস্ট রেভোলিউশনারি পার্টি। এই পোস্টারে বলা হচ্ছে: "কমরেডরা, সাংবিধানিক পরিষদের প্রথম দিনে সমাবেশের জন্য তৈরি হোন।"

'অরাজকতাকে হারাবে গণতন্ত্র'

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption অরাজকতাকে হারাবে গণতন্ত্র

এটি হচ্ছে ক্যাডেট পার্টির একটি পোস্টার, তারা নানা রকম রূপক অর্থে বিভিন্ন প্রাণী বা পৌরাণিক ছবি ব্যবহার করতো। অতিকায় গিরগিটিটি হচ্ছে অরাজকতার প্রতীক, আর সাদা ঘোড়ার ওপর একজন যোদ্ধা গণতন্ত্রের প্রতীক।

শিকল ভাঙার গান

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption শিকল ভাঙার গান

সোশ্যালিস্ট রেভোলিউশনারি পার্টির নির্বাচনী পোস্টার ছিল খুবই সহজ সরল - এর লক্ষ্য ছিল শ্রমিক ও কৃষকরা। তাদের বার্তাছিল এই রকম : 'যুদ্ধ করেই অধিকার আদায় করতে হয়', 'জমি আর স্বাধীনতা', 'শিকল ভাঙো, মুক্ত হবে সারা পৃথিবী'।

যারা দেরিতে এসেছিল

ছবির কপিরাইট SOVRHISTORY.RU
Image caption যারা দেরিতে এসেছিল

বলশেভিক পার্টি (রেভোলিউশনারি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক লেবার পার্টি) পোস্টার ছাড়া শুরু করে বেশ দেরিতে। ১৯১৭-র নির্বাচনী পোস্টারে শুধু বলা হয়েছিল 'আরএসডিএলপিকে ভোট দিন'। তবে নভেম্বর মাসে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে তারা সামনে চলে আসে। বিখ্যাত 'ওকনা রোস্টা' পোস্টারটি তৈরি করেন মায়াকোভস্কি ও রাদাকভ সহ একদল শিল্পী। এটা পরে সোভিয়েত যুগের একটা 'ডিজাইন ক্লাসিকে' পরিণত হয়।

সম্পর্কিত বিষয়