বিজ্ঞানের আসর: ভেড়াও মানুষ চিনতে পারে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিজ্ঞানের আসর: ভেড়াও মানুষ চিনতে পারে

ভেড়া প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে তারাও পরিচিত মানুষকে চিনতে পারে। সেই ক্ষমতা তাদের রয়েছে। ব্রিটেনে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, একবার যখন এই প্রাণীটিকে কোন একজন মানুষের ছবি দেখানো হয়েছে, পরে ওই প্রাণীটি আবার তাকে চিনতে পেরেছে।

কয়েকজন চলচ্চিত্র তারকা, সংবাদ পাঠক এবং রাজনীতিকের ছবি ব্যবহার করে এই পরীক্ষাটি চালানো হয়।

প্রথমে আটটি ভেড়াকে এবিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদেরকে দেখানো হয় বিখ্যাত লোকজনের ছবি। বারবার দেখিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় কোন ছবিটা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার, কিম্বা কোন ছবিটা অভিনেত্রী এমা ওয়াটসনের।

তারপর প্রশিক্ষিত ভেড়াগুলোকে ছবি বাছাই করতে বলা হয়েছে। দেখা গেছে, তারা অপরিচিত ছবির তুলনায় পরিচিত লোকজনের ছবিই বেশি ধরতে পারছে। বিশেষ করে যারা সেলেব্রিটি তাদের ছবি।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই গবেষণা থেকে স্নায়ু-জনিত চিকিৎসা সম্পর্কে আরো বেশি করে জানা সম্ভব হবে। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে হানটিংটন্স এবং পারকিনসন্স।

কিভাবে চালানো হয়েছে এই গবেষণা? যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি প্রফেসর জেনি মরটন, তিনি বলছেন,

বিস্ময়করভাবে দেখা গেছে, এই কাজটা তারা বেশ ভালোভাবেই করতে পেরেছে।

"তাদের সুপরিচিত চার ব্যক্তির ছবি দেখিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তারা চিনে ফেলেছে কোন ছবিটি কার। এই পরীক্ষায় আমরা কম্পিউটারের স্ক্রিন ব্যবহার করেছি। একসাথে দুটো করে ছবি তোলা হয়েছিলো। একটি ছবি ছিলো ওই সেলিব্রিটিদের একজনের। অন্যটি ছিলো এমনি কোন একটি বস্তু কিম্বা অপরিচিত কোন ব্যক্তি।"

Image caption পরীক্ষা চালানো হচ্ছে

"ভেড়াগুলোকে শেখানো হয়েছিলো সেলিব্রিটি ব্যক্তিদের ছবি চিহ্নিত করার জন্যে। দেখা গেছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভেড়া সেলিব্রিটি ব্যক্তির ছবিই বাররার তুলেছে। এবং যখনই তারা পেরেছে, প্রত্যেকবারই তাদেরকে খাবার দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।"

এখন প্রশ্ন হতে পারে- এই গবেষণায় ভেড়া কেন ব্যবহার করা হলো?

গবেষক জেনি মরটন বলছেন, "প্রথম কথা হলো ভেড়ার মস্তিষ্ক অনেক বড় হয়। এখন আপনি যদি চিকিৎসার ব্যাপারে কোন মস্তিষ্কের উপর গবেষণা করতে চান তাহলে আকারের দিক থেকে ইঁদুর আর মানুষের মস্তিষ্কের মাঝামাঝি ভেড়ার মস্তিষ্ক। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে- ভেড়ার মস্তিষ্ক এমন যে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণের ফলে সেখানে যে ধরনের পরিবর্তন ঘটে সেটা পরিমাপও করা যায়। এবং তৃতীয়ত ভেড়াকে আপনি প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যেই রেখে দিতে পারেন।"

গবেষণার ফলাফল হলো - মানুষ ও বানর যেভাবে পরিচিত মানুষকে চিনতে পারে, কোন কিছু চিহ্নিত করার ব্যাপারে ভেড়ার মস্তিষ্কও হয়তো একইভাবে কাজ করে। এর আগেও ভেড়ার উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, তারা অন্য ভেড়াকেও চিনতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পর তারা পরীক্ষা করে দেখবেন ভেড়া মানুষের মুখের ভঙ্গি আলাদা করে কতোটা ধরতে পারে।

পানিতে রাসায়নিক দূষণ

এক বিশ্ব সমীক্ষায় ভবিষ্যতে নিরাপদ খাবার পানির দূষণের ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, কৃষি খাতে যেসব সার ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখান থেকে পানিতে নাইট্রেটের দূষণ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আগামী কয়েক দশকে মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে ও ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যৌথভাবে এই সমীক্ষাটি চালিয়েছেন।

ছবির কপিরাইট CATE GILLON/GETTY IMAGES
Image caption খাবার পানি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ক্রমশই দুষণের হুমকির মুখে

তারা বলছেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১৮ কোটি টন নাইট্রেট মাটির নিচে বালিতে জমা হয়ে আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব নাইট্রেট চুইয়ে মাটির আরো গভীরে চলে যাওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তারা বলছেন, এই রাসায়নিক পদার্থটি যখন খাবার পানির ভাণ্ডার একুইফারের সাথে গিয়ে মিশে যাবে তখনই সেটা আর খাওয়ার জন্যে নিরাপদ থাকবে না।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বের যেসব এলাকায় বড় রকমের কৃষি উৎপাদন হয় সেখানে এই নাইট্রেটের দূষণ সবচেয়ে বেশি।

আর এই দূষণের সবচাইতে খারাপ অবস্থা হলো ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনে।

খাবার পানিতে নাইট্রেট দূষণের উপর এই প্রথম এধরনের কোন গবেষণা চালানো হলো। বিবিসির সাংবাদিক রজার হারাবিন বলছেন, এই দূষণকে বলা হচ্ছে, নাইট্রেট টাইম বোমা।

Image caption পানি শোধন করতে খরচ হয় কোটি কোটি ডলার

"কৃষিকাজে যে সার ব্যবহার করা হয় সেসব প্রথমে মাটিতে মিশে, পরে সেটা চলে যায় ভূগর্ভস্থ বালিতে যেখানে পানি জমে থাকে। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন সময়ের সাথে সাথে এই নাইট্রেট আরো গভীরে অ্যাকুইফারে গিয়ে মিশে যাবে। এর ফলে এমন এক ধরনের বুদবুদের সৃষ্টি হবে যার কারণে নদী নালায় খালে বিলে মাছের মৃত্যু ঘটবে। আর এই দূষিত পানি শোধন করে নিরাপদ করে তুলতে খরচ হবে কোটি কোটি ডলার।"

রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের খাবার পানিতে রাসায়নিকের দূষণ নিয়ে শুনুন একজন গবেষক এবং ওয়াটার এইড বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ লিয়াকত আলীর সাক্ষাৎকার। শুনতে হলে উপরের অডিও লিঙ্কে ক্লিক করুন।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান।

সম্পর্কিত বিষয়