রংপুরে হিন্দু বাড়িতে আগুন: নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি

ছবির কপিরাইট .
Image caption রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অন্তত ১১টি ঘরে আগুন দেয়া হয়।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা রংপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি আজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের রিপোর্ট দিতে পারেনি।

কমিটি তদন্তে শেষ করতে আরও সাতদিন সময় নিয়েছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপি।

আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট করতেই এ ধরনের আক্রমণ চলছে। আর বিরোধী দল বিএনপি বলছে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর জন্য সরকারই দায়ী।

গত ১০ই নভেম্বর রংপুরের সদর উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার ও এর ধারাবাহিকতায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেয়ার কথা ছিলো আজ।

কিন্তু রিপোর্ট না দিয়ে তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আরও সাতদিন সময় নিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মো: আরিফের নেতৃত্বাধীন কমিটি।

মিস্টার আরিফ বিবিসিকে বলেছেন ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর আর সে কারণেই একটি নির্ভুল তদন্তের জন্যই তাদেরকে সময় নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, "এখানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার না করে আমরা কিছু লিখতে পারবোনা। বিভিন্ন সেক্টরের দৃষ্টিভঙ্গি আছে সেগুলো আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে।ডাটা কালেকশন হয়ে গেছে। আমরা অপেক্ষায় আছি রিপোর্ট দিয়ে দিবো"।

ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের একজনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কয়েক হাজার ব্যক্তির মিছিল থেকে হিন্দুদের অন্তত দশটি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছিলো। পরে এ ঘটনায় দুটি থানায় প্রায় দু হাজারের মতো ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা করেছিলো পুলিশ।

বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে এমন ঘটনার ভিডিও ছবিসহ নানা উপাদান থাকা সত্ত্বেও তদন্ত বিলম্বিত হচ্ছে কেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান আবু রাফা মো: আরিফ বলেন, "যেহেতু অনেক মানুষ ছিলো, এখন প্রকৃত ঘটনার উৎস, কারা জড়িত ছিলো, কি কারণে হয়েছে, অন্য কোন বিষয় ছিলো কি-না, এধরনের বিষয়গুলো তদন্তের বিষয় আছে। সেজন্যই একটু সময় লাগছে"।

যদিও জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট না এলেও বাংলাদেশের প্রধান দুটি দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপি রংপুরের ঘটনা নিয়েও একে অন্যকে দোষারোপ করতে শুরু করেছে।

আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন যে প্রতিবেশী দেশের সাথে সুসম্পর্ক নষ্ট করতেই এ ধরনের হামলা গুলো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, "কক্সবাজারের রামু, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ার নাসিরনগর ও রংপুরের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। তারা পরিবেশ অস্থিতিশীল করে, সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে বাংলাদেশে একটা স্থিতিহীন পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পর্ক নষ্টের চক্রান্ত করছে"।

তবে তার এমন তথ্যের ভিত্তি কি আবার কারা ষড়যন্ত্র করছে সেগুলো পরিষ্কার না করলেও বিরোধী দল বিএনপি মনে করছে সরকার এ ঘটনাতে বিএনপিকে জড়ানোর চেষ্টা করছে।

দলটির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন উত্তরাঞ্চল সফরে রয়েছেন এবং দলীয় কর্মকর্তারা বলছেন তিনিও কাল রংপুরের ঠাকুরপাড়া গ্রামের আক্রান্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করবেন।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বিবিসিকে বলছেন তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগেই সরকারের মন্ত্রীরা এসব হামলা নিয়ে রাজনীতি করে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চাইছে।

তিনি বলেন, "বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের আগেই বিএনপি বা বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। যে ক'টি ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর সাথে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনই জড়িত ছিলো"।

ওদিকে রংপুরের ঘটনায় ফেইসবুকে 'ধর্ম অবমাননার' অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইনের এক মামলায় গত ১৪ই নভেম্বর নীলফামারী থেকে আটক হওয়া টিটু রায় এখন পুলিশী রিমান্ডে আছেন। আজ নতুন করে আর কাউকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় গমে ছত্রাক সংক্রমণ হলো কিভাবে?

ভারতে প্রকাশ্য স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করে ৭০ কোটি লোক

সম্পর্কিত বিষয়