মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

দিন-রাতের টেস্ট কি পাঁচদিনের ক্রিকেটে আরো দর্শক টেনে আনবে?

এডিলেইডে দ্বিতীয় এ্যাশেজ টেস্টে ব্যাপক দর্শক সমাগম হয়েছিল। । দিন রাতের টেস্ট খেলা কি পাঁচদিনের ক্রিকেটকে নতুন করে জনপ্রিয় করে তুলতে পারবে?

পরিসংখ্যান বলছে, এই টেস্টে মোট দর্শক হয়েছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ জন - এই মাঠে এর আগে টেস্ট ম্যাচে কখনোই এত দর্শক হয় নি।

এর আগে ১৯৩৩ সালে 'বডিলাইন' সিরিজের সময় এ মাঠে দর্শক হয়েছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৬১। সেটাইএতদিন ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড।

এই টেস্টের প্রথম দিনেও দর্শক হয়েছিল ৫৫ হাজার ৩১৭ জন এবং সেটাও একটা নতুন রেকর্ড।

কারণটা কি? যখন আমরা শুনছি টি২০-র দাপটে টেস্ট ক্রিকেটের দর্শক ক্রমাগত কমে যাচ্ছে তখন - অস্ট্রেলিয়ায় এডিলেইডের মাঠে এত দর্শক কেন?

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলছেন, এর কারণ একাধিক।

প্রথমত এটা এ্যাশেজ সিরিজ - যা এদেশের ঐতিহ্যের অংশ। তার পর দিন-রাতের খেলা , অনেক লোকই কাজ শেষে খেলার মাঠে এসে কয়েক ঘন্টা খেলা দেখতে পারে।

তা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ যেভাবে এই দিন-রাতের গোলাপি বলের টেস্ট ক্রিকেটকে বিপণন করেছে - তাও দর্শক টেনে আনার ক্ষেত্রে একটা কারণ ছিল, বলছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption দিল্লিতে খেলার সময় কয়েক জন শ্রীলংকান ক্রিকেটার অসুস্থ হয়ে পড়েন

বায়ুদূষণের কারণে দিল্লিতে কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হওয়া উচিত?

দিল্লিতে শ্রীলংকা এবং ভারতের মধ্যে তৃতীয় টেস্টের সময় বায়ুদুষণের জন্য শ্রীলংকার ক্রিকেটারদের অসুস্থ হয়ে পড়া, মুখে ঢাকনা পরে মাঠে নামা, ড্রেসিং রুমে গিয়ে বমি করা, অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করা, এবং কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ থাকা - ইত্যাদি খবর ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছে।

দিল্লি শহরের বায়ুদূষণের কথা সবারই জানা। কিন্তু এর মধ্যে ক্রিকেট খেলা বন্ধ হয়ে যাবার ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

শ্রীলংকা দলের কোচ ও ম্যানেজার উভয়েই এ পরিবেশে ক্রিকেট খেলার কড়া সমালোচনা করেছেন। এমন কি ভারতীয় মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি্ও এ নিয়ে কথা বলেছেন।

অবশ্য ভারতীয় মিডিয়ায় অনেকে এমন কথাও বলেছেন, এগুলো ছিল আসলে শ্রীলংকার খেলোয়াড়দের কৌশল কারণ অন্য খেলোয়াড়দের বা দর্শকদের তো এরকম কোন অসুবিধা হয়নি।

কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি বলছে, ব্যাপারটি তাদের নজরে এসেছে এবং তাদের মেডিক্যাল কমিটি এ নিয়ে একটি রিপোর্ট দেবে - যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের পরিস্থিতিতে কি করা হবে সে ব্যাপারে সুপারিশ থাকবে।

তবে অনেকেই যে প্রশ্নটি তুলেছেন যে দিল্লির বায়ুদূসণ যে পর্যায়ে তাতে কি এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা কি সত্যি সম্ভব?

এ ব্যাপারটিকে ভারতের ক্রিকেট সংস্থা কিভাবে দেখছে? এ নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই-এর একজন সদস্য বিশ্বরূপ দে। তিনি বলছেন, এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে হলে তা আইসিসিই নেবে।

এই টেস্টে ম্যাচ রেফারি ছিলেন ডেভিড বুন। ক্রিকিনফো ওয়েবসাইটের রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিনি তার রিপোর্ট তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহ করছেন।

আর আইসিসি ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে আগামি ফেব্রুয়ারি মাসে এক বৈঠকে প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।