পেটে গজ রেখে সেলাই,ক্ষতিপূরণ ৯লক্ষ টাকা

পটুয়াখালীর একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের সময় রোগির পেটে গজ রেখে সেলাই করে চিকিৎসক
Image caption পটুয়াখালীর একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের সময় রোগির পেটে গজ রেখে সেলাই করে চিকিৎসক

বাংলাদেশের পটুয়াখালীর একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের সময় রোগির পেটে গজ রেখে সেলাই করে ভুল চিকিৎসার দায়ে ৯ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট আজ বুধবার ।

ভুল চিকিৎসা করার জন্য ক্ষতিপূরণের নজির বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না।

ক্ষতিগ্রস্ত মাকসুদা বেগমকে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. শাহ্ মোজাহেদুল ইসলাম ঘটনাটি বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেন।

এই টাকার মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা দেবে ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাস যিনি অস্ত্রোপচার করেছিলেন, বাকি অর্থ দেবে বাউফলের নিরাময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ যেখানে মাকসুদা বেগমের অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জেসমিন সামসাদ।

ঘটনার শুরু এ বছরের মার্চ মাসে। সন্তান প্রসবের জন্য মাকসুদা বেগম বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে যান।

সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্য দেন। কিন্তু চিকিৎসক মাকসুদার পেটের মধ্যে গজ রেখেই সেলাই করে দেন।

এর তিনমাস পর তীব্র অসুস্থতা নিয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন, সেখানে আবার অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ বের করা হয়। দীর্ঘদিন পেটের মধ্যে গজ থাকায় তার খাদ্যনালী ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাসের আসল নাম এখন জানা যাচ্ছে অর্জুন চক্রবর্তী।

গত ১১ ডিসেম্বর তিনি হাই কোর্টে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে তাকে বাউফল থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করার নির্দেশ দেন আদালত।

আরো পড়ুন:

রাজস্থানে প্রকাশ্যে মুসলিম হত্যার নেপথ্যে কী?

কুমারখালীর নারীদের ক্ষেতে যেতে নিষেধ নেই

চীনের এক সন্তান নীতি,কেটির বদলে যাওয়া জীবন

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর