নিউইয়র্ক হামলার পর ঢাকার জিগাতলার যে বাড়ি ঘিরে সবার কৌতূহল

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption ঢাকার জিগাতলায় মনেশ্বর রোডে আকায়েদ উল্লাহর শ্বশুর বাড়ি

ঢাকার জিগাতলার মনেশ্বর রোডে একটি সরু গলিতে জুলফিকার হায়দারের বাসা। নিউ ইয়র্কে আত্নঘাতি বোমা হামলায় আটক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আকায়েদ উল্লাহর শ্বশুর তিনি। মনেশ্বর রোডে ছয় তলা একটি ভবনের নিচতলায় জুলফিকার হায়দারের বসবাস।

গতকাল থেকেই এ বাসার সামনে সংবাদিকদের ভিড় লেগে আছে। আশপাশের মানুষেরও উৎসুক দৃষ্টি বাড়িটির দিকে।

শিশু সন্তানকে নিয়ে এই বাড়িতেই থাকেন আকায়েদ উল্লার স্ত্রী এবং শিশু সন্তান।

আজ সকালে সেখানে গিয়ে দেখি সংবাদিকদের জটলা। কয়েকজন মার্কিন সাংবাদিকও আছেন সেখানে। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা এবং টিভি নেটওয়ার্ক এবিসি'র জন্য সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছেন তারা।

সবার উদ্দেশ্য আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের সাক্ষাৎকার নেয়া। কিন্তু বাসার দরজা-জানালা সবই বন্ধ। ঘরের ভেতরের বাতিও তাঁরা বন্ধ রখেছেন। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে ভেতরে মানুষ আছে।

বাড়িতে ঢুকতেই দেখা মিলল বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন মাঠ কর্মীর সাথে। গতকাল থেকেই এ বাসার সামনে তারা দায়িত্ব পালন করছেন। এ বাড়িতে কারা আসা-যাওয়া করছে সে বিষয়ে নজর রাখছেন তারা। সাংবাদিকদের কাজে তারা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছেন না। বরং সাংবাদিকরা যেসব তথ্য পাচ্ছেন সেগুলো সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলেন তারা।

আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী বসবাস করেন মা-বাবার সাথে। ভবনের সামনের মূল দরজায় কয়েকবার কলিং বেল দিয়ে এবং ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে হামলাকারী সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?

নিউইয়র্কে হামলাকারী 'বাংলাদেশী অভিবাসী': পুলিশ

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption নিউইয়র্কে হামলার পর সতর্কাবস্থায় পুলিশ

আমার পরিচয় দিয়ে অনেক ডাকাডাকির পরে ভেতর থেকে একজন নারী বললেন, "আমাদের কোন কথা নাই। আপনারা আমাদের উপর অত্যাচার করছেন। কী বলবো?"

অনেক অনুরোধের পর দরজা সামান্য খুললেন তিনি। খুব কষ্ট করে আমার হাতটি দরজার ফাঁক দিয়ে ঢুকিয়ে অডিও রেকর্ডারটি ধরলাম। তবে দরজার অপর দিক থেকে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না।

পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানালেন, তিনি আকায়েদের শ্বাশুড়ি। নাম মাহফুজা আক্তার।

তিনি বললেন, "আমার মেয়ের জামাই নির্দোষ। আমার মেয়ের জামাই এ ধরনের লোক না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে মসজিদে গিয়ে। বাচ্চা নিয়া খেলছে-দুলছে।"

এর বেশি আর কোন কথা বলতে চাননি আকায়েদের শ্বাশুড়ি। তাঁর মেয়ে অর্থাৎ আকায়েদের স্ত্রী সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জানালেন, সে অসুস্থ।

গত প্রায় ২০ বছর ধরে আকায়েদ উল্লাহর শ্বশুর এখানে বসবাস করেন। ২০১৬ সালে তিনি মেয়েকে বিয়ে দেন আমেরিকা প্রবাসী আকায়েদ উল্লাহর সাথে।

বিয়ের পর থেকে আকায়েদ উল্লাহ তাঁর স্ত্রীকে আমেরিকা নিয়ে যাবার চেষ্টা করেছে বলে জানানো হয় পরিবারের তরফ থেকে।

বাড়ির আশে পাশে বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেল, আকায়েদ উল্লাহর শ্বশুর এলাকায় একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। তবে আকায়েদ উল্লাহ সম্পর্কে কারো কোন ধারণা নেই।

গত সেপ্টেম্বর মাসে আকায়েদ উল্লাহ বাংলাদেশে এসে একমাস এখানে ছিলেন। প্রতিদিন পাশের একটি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েছেন তখন।

সেই সূত্র ধরে পাশের মসজিদে গেলাম। ইন্টারনেট থেকে আকায়েদের ছবি দেখিয়ে মসজিদের মুয়াজ্জিনকে জিজ্ঞেস করলাম, এ ব্যক্তিকে তিনি চেনেন কি না?

"কত লোকই তো আসে নামাজ পড়তে। সবার কথা তো মনে রাখতে পারি না," বললেন মসজিদের মুয়াজ্জিন।

আকায়েদ উল্লাহর শ্বশুর যে বাড়িতে বসবাস করছেন সেখানে কেউ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী নয়। তাদের ধারণা, কোন কথা বললে পুলিশ 'ঝামেলা' করতে পারে। একই কথা বলেছেন আকায়েদ উল্লাহর শ্বশুর বাড়ির লোকজনও।