বাংলাদেশে কক্সবাজার সৈকতে কাবিননামা না থাকায় দম্পতি হেনস্তা, ক্লোজড হলেন পুলিশ সদস্য

সৈকতে বেড়াতে যাওয়া দম্পতি ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption ছবিটি প্রতীকী

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যাওয়া এক দম্পতির কাছে কাবিননামা দেখতে চাওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখাসহ হেনস্তার অভিযোগে একজন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাতে। কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ কায়েদে আজম স্ত্রীকে নিয়ে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, কিছুক্ষণ বসার পর সেখানে টুরিস্ট পুলিশের তিনজনের একটি দল গিয়ে তাদের কাছে জানতে চায় তারা স্বামী-স্ত্রী কিনা।

মিঃ আজম যখন বলেন যে তারা স্বামী-স্ত্রী, তখন পুলিশ তাদের কাছে কাবিননামা দেখতে চায়। কাবিননামা দেখাতে না পারলে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানায় পুলিশ।

মিঃ আজম প্রশ্ন তোলেন, কোন বিবাহিত নারীপুরুষ কি কাবিননামা সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়?

ছবির কপিরাইট বাংলাদেশ টুরিস্ট পুলিশ ওয়েবসাইট
Image caption বাংলাদেশ টুরিস্ট পুলিশ

কিন্তু সে যুক্তি মানেনি পুলিশ। কথা বার্তা চলার এক পর্যায়ে বাসা থেকে দুইজন আত্মীয় এসে মিঃ আজম ও তার স্ত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করার পর পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।

তার আগে দুই ঘণ্টা তাদের আটকে রাখে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরে মিঃ আজম কক্সবাজারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

সেই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার টুরিস্ট পুলিশের একজন সহকারী উপ পরিদর্শককে ক্লোজ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের টুরিস্ট পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি।

তিনি জানিয়েছেন, মিঃ আজমের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যার নামে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই টুরিস্ট পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন:বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়ির মালিক সৌদি প্রিন্স?

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন

এছাড়া মিঃ আজমের কাছে অভিযোগের ব্যপারে পুলিশ তথ্য চেয়েছে বলেও জানিয়েছেন মিঃ রাব্বি।

তিনি স্বীকার করেন, অনেক সময় এমন অভিযোগের কথা শোনা গেলেও সাধারণত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনা।

এদিকে, মিঃ আজম বলেছেন, স্ত্রীর সামনে নাজেহাল হওয়ায় অপমানিত বোধ করার কারণেই তিনি অভিযোগ করেছেন।

সম্পর্কিত বিষয়