আলাস্কার তিমি শিকারী মানুষের জীবন

Flora Aiken gives a silent blessing to the first bowhead whale of the spring season.

কিলি ইয়ুয়ান একজন আদিবাসী নানাই চিত্রগ্রাহক, যিনি আদিবাসী মানুষজন ও তাদের বুনো জীবনযাত্রার ছবি তোলেন। তিনি আলাস্কার আদিবাসী গোত্র ইনুপিট সম্প্রদায়ের ছবি তুলেছেন, যাদের জীবনযাত্রা মূলত নির্ভর করে তিমি শিকারের উপর।

এই সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সংখ্যক বোহেড তিমি শিকার করতে পারেন। প্রথম যে নৌকা তিমির গায়ে হার্পুন ছোয়াতে পারে, তারা সবাই ভাগ পাবে।

ফ্লোরা আইকেনের আর্শীবাদ আছে ইনুপিটদের উপর। এই সম্প্রদায়ের গভীর ধর্মীয় জীবনযাত্রা রয়েছে, যার সবই আবর্তিত হয় তিমি কেন্দ্র করে।

ইনুপিটদের ক্যাম্পগুলো বসানো হয় সমুদ্রের বরফ থেকে কয়েক মাইল দূরে। এগুলো তাদের আসল বাড়ি থেকে অনেক দূরে, শিকারের অস্থায়ী ক্যাম্প।

ছয় বছরের স্টিভেন রেইখ তার বাবার ইউমিক পরীক্ষা করে দেখছেন। চামড়া দিয়ে তৈরি এসব বোট শিকারের কাজে ব্যবহার করা হয়। ছেলেকে নিয়ে প্রথমবার শিকারে যাচ্ছেন তার বাবা ইয়ুগু ক্রু।

তিনি বলছেন, আমি আমার ছেলেকে নিয়ে গর্বিত। কারণ সে শিখতে যাচ্ছে কিভাবে শিকার করতে হয়।

তিমি শিকারের সময় প্রচণ্ড ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার একটি উপায় হলো কোয়ক খাওয়া, যা বরফ ঠাণ্ডা মাংস আর মাছ দিয়ে তৈরি করা হয়।

সীল মাছও ইনুপিটদের জনপ্রিয় খাবার। মিশিগাক অথবা সীলের তেল তৈরি হয় বেয়ার্ড সীলের নাড়িভুড়ি দিয়ে। এগুলো বেশ কিছুদিন বরফে পাঁচিয়ে খাওয়ার উপযোগী করা হয়।

সিগভায়ুন কালেক এবং তার বাবা রালেইগ পুরো জীবন ধরেই তিমি শিকারি। যদিও বাণিজ্যিক তিমি শিকারের কারণে তিমির সংখ্যা অনেক কমে যাচ্ছে, কিন্তু ইনুপিটরা শিকারের পাশাপাশি এগুলোর সংখ্যাও বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

বের্নাদেত্তে অ্যাডামস হচ্ছেন প্রথম ইনুপিট নারী যিনি হার্পুন দিয়ে তিমি শিকার করেছেন।

''আমার কোন ভাই নেই, সুতরাং আমার পরিবারের জন্য আমার কোন একটি উপায় খুঁজে বের করতে হয়েছে'' তিনি বলছেন।

বেলুগা তিমিগুলো সাগরের বরফে আটকে পড়েছে। ইনুপিটরা অবশ্য বোহেড তিমি শিকারই পছন্দ করে।

বর্তমানের ইনুপিট নেতারা অবশ্য দ্বিধারা জীবনযাত্রা অনুসরণ করে। পুরনো ঐতিহ্যের জীবনযাত্রা অনুসরণের পাশাপাশি তারা আধুনিক জীবনযাত্রাও অনুসরণ করছেন।

নালুকাটাক শহরে গ্রীষ্মকালীন উৎসবে পুরো গ্রাম আনন্দে মেতে উঠেছে, কারণ এবার তাদের ভালো শিকার হয়েছে।

এখানে সফল শিকারীরা কম্বলের উপর খেলায় মেতে উঠেছেন। এসব কম্বলে লাফিয়ে তারা ত্রিশ মিটার পর্যন্ত উঠতে পারেন।

সম্পর্কিত বিষয়