মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ভিডিও রেফারি বা ভিএআর কিভাবে বদলে দেবে ফুটবলকে?

ফুটবল খেলায় একটা বড় পরিবর্তনের সূচনা হচ্ছে। ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে দুটি টুর্নামেন্টের খেলায় এই প্রথমবারের মতো প্রয়োগ হয়েছে ভিএআর বা ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারি।

ঐতিহ্যবাহী ইংলিশ ফুটবল প্রতিযোগিতা এফএ কাপে ব্রাইটন এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের মধ্যে একটি খেলায় ব্যবহৃত হয়েছে ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভি এ আর। এটিই হচ্ছে ইংল্যান্ডের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক খেলা যেখানে ভি এ আর ব্যবহৃত হলো।

এ ছাড়া চেলসি আর আর্সেনালের মধ্যেকার কারাবাও কাপের খেলাতেও ভিএআর ব্যবহৃত হয়েছে ।

এই খেলায় একেবারে শেষদিকে একটি গোল করেন ব্রাইটনের গ্লেন মারে - যাতে বলটি তার হাতে লেগেছিল বলে সংশয় প্রকাশ করেন বিপক্ষের খেলোয়াড়রা।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভিডিও রেফারির সাথে কথা বলছেন রেফারি

রেফারি আন্দ্রে মারিনার তখন ভিডিও রেফারি নিল সোয়ারব্রিকের এর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নেন যে বল তার গ্লেন মারের হাঁটুতে লেগে জালে ঢুকেছে, হাতে লাগে নি। রেফারি তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হন, যদিও এজন্য মাঠের রেফারির নিজের ভিডিও রিপ্লে দেখার কোন দরকার হয় নি। । দুই দলের ম্যানেজারও পরে বলেন যে তারা ভিএআর-এর রায়ে সন্তুষ্ট, এবং ওই গোল সঠিক ছিল।

শুধু তাই নয় - ওই খেলায় ১১টি ক্ষেত্রে রেফারি মারিনার ভিএআরের সাহায্য নেন। খেলার শেষে ক্রিস্টাল প্যালেসের ম্যানেজার রয় হজসন বলেন, মনে হয়েছিল গ্লেন মারের হাতে বল লেগেছিল, অন্য খেলোয়াড়রা তাই মনে করেছিলেন, কিন্তু বার বার রিপ্লে দেখলে বোঝা যায় - রেফারি সম্ভবত ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। হয়ত তার সিদ্ধান্ত যে কোন দিকেই যেতে পারতো - কিন্তু ভিএ আর সিস্টেমকে অভিনন্দন জানানো উচিত - কারণ এটা রেফারিকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে।

রেফারি মাই রাইলি বলছিলেন, কি ভাবে এ পদ্ধতি কাজ করবে, এবং এটা খেলার গতি ধীর করে দেবে না।

"ভিডিও এসিসস্ট্যান্ট রেফারি মাঠের রেফারিকে সহায়তা দিচ্ছেন, বিশেষ কিছু কিছু ক্ষেত্রে - সেগুলো হলো গোল হলো কিনা, পেনাল্টি কিক দেবার মতো কোন ফাউল হয়েছে কিনা, সরাসরি লাল কার্ড দেবার কারণ ঘটেছে কিনা, অথবা একজনের ফাউলের কারণে আরেকজন শাস্তি পাচ্ছেন কিনা।"

"যদি মাঠের রেফারি কোন স্পষ্টভাবেই ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন, তাহলে ভিডিও রেফারি তার রিপ্লে সুবিধা ব্যবহার করে রেফারিকে সহায়তা দেন। তাদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকছে। কার্যত ভিএআর একটা খেলায় পঞ্চম রেফারি হিসেবেই কাজ করছেন। তিনি যদি মাঠের রেফারিকে ভিডিও ফুটেজ দেখতে বলেন, তাহলে তিনি মাঠের পাশেই মনিটরে তা দেখবেন, সিদ্ধান্ত নেবেন এবং খেলা আবার শুরু করে দেবেন।"

Image caption মাঠের পাশে মনিটর - যাতে রেফারি নিজে চাইলে রিপ্লে দেখতে পারবেন

সুতরাং এখন ফুটবল খেলাতেও কখনো কখনো দেখা যাবে ক্রিকেটের মতোই রেফারিও দুই হাত দিয়ে চারকোণা টিভি স্ক্রিন আঁকার মতো সংকেত দিচ্ছেন। এই সংকেত দিলে ভিডিও রেফারি রিপ্লে দেখে রেফারির সিদ্ধান্তে কোন ভুল হয়ে থাকলে তা জানাবেন

চেলসির ম্যানেজার এন্টোনিও কন্টেও বলছিলেন তিনিও এই ভিএআরকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, এটা একটা ভালো সমাধান কারণ, কারণ খেলা মধ্যে কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ হলে রেফারি তার রিপ্লে দেখে তা যাচাই করে নিতে পারবেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এতে ভুলের পরিমাণ কমে যাবে, ভালো হবে।

তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল এসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ডেভিড এলেরি বলছেন, এই ভিএআরের ফলে এখন যে রেফারির সব সিদ্ধান্তই সঠিক হবে তা নয়, বরং শুধু গুরুতর ভুলগুলোর ক্ষেত্রেই এ প্রযুক্তি ব্যবহার হবে যাতে ফুটবল খেলার গতিময়তা বার বার বাধা পড়ে নষ্ট হয়ে না যায়

মি. এলেরি বলেন, আমার মনে হয় এই ভিএআর কত বার ব্যবহার হচ্ছে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক খেলাতেই আপনি এর অস্তিত্ব টেরই পাবেন না। অনেকে উদ্বিগ্ন বোধ করছেন যে ফুটবল খেলার যে প্রবহমানতা বা আবেগ - তা এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু আমরা একটা পদ্ধতি বের করেছি যাতে এই ভি এ আর যত কম সম্ভব ব্যবহার হয়, কিন্তু যখন ব্যবহার হয় তখন তা সত্যিই কাজে লাগে।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption হয়তো আর কিছুদিন পর পেশাদার ফুটবলে ভিএআর একটা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে যাবে

"দর্শকদেরও এটা বুঝতে হবে যে এটা এমন এক পদ্ধতি - যাতে প্রতিটি সিদ্ধান্তই যে সঠিক হবে এমনটা হবে না। শুধু যে সব ক্ষেত্রে রেফারি স্পষ্টই একটা ভুল করেছেন - সেটাই সংশোধনের ব্যবস্থা থাকবে। আমাদের সব সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না, এবং তা করতে গেলে খেলাটা নষ্ট হয়ে যাবে - কারণ আমরা দেখেছি অন্য খেলায় ভিডিও প্রযুক্তির জন্য কিভাবে বার বার খেলা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।"

"আমরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করবো সর্বনিম্ন মাত্রায়। শুধু প্রকৃত ভুল সিদ্ধান্তগুলো সংশোধনের জন্য - যার ফলে খেলার ভাগ্য বদলে যেতে পারে। আমার সাথে রেফারিদের কথা হয়েছে তারাও একে স্বাগত জানাচ্ছেন কারণ এর ফলে তারা অপেক্ষাকৃত নিশ্চিন্তে খেলা পরিচালনা করতে পারবেন।"

তবে যতটুকুই ব্যবহার হোক - ভিএআরের কারণে এখন থেকে ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ স্তরের ফুটবলে যে একটা বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ক্রিকেট বা রাগবিতে যেটা আগেই হয়েছে, এবার অনেকটা দেরিতে হলেও ফুটবলেও প্রযুক্তি আসতে শুরু করেছে। প্রথম গোললাইন প্রযুক্তি আর এবার তার সাথে যোগ হলো ভি এ আর।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption এ্যাশেজ হারানোর পর বিষণ্ণ ইংলিশ ক্রিকেটাররা

এ্যাশেজ হারানোর পর ইংলিশ ক্রিকেট কি সংকটে?

এ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডকে ৪-০তে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শেষ টেস্টটি ড্র হওয়ায় ৫-০ হয় নি।

কিন্তু এ্যাশেজ সফর শুরুর আগে যেমন বলা হচ্ছিল যে ইংল্যান্ড জোর লড়াই করবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, এমনকি সিরিজ জিতে যেতেও পারে।

তা তো হয়ই নি - তেমন কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে নি ইংল্যান্ড।

ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত বড় রান করতে পারেন নি, বোলাররা উইকেট নিতে পারেন নি।

অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলারদের গতি আর বাউন্সে নাকাল হয়েছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা।

এ অবস্থা কেন হলো? ইংল্যান্ডের ক্রিকেট কাঠামোর ভবিষ্যত নিয়ে এখন কি ভাবার সময় এসেছে?

অনেকে বলছেন, ইংল্যান্ড দলের কোচ ট্রেভর বেইলিস-কে সরানো হোক।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption এ্যাশেজ জয়ের পর উল্লসিত অস্ট্রেলিয়া দল

ক্রীড়া ভাষ্যকার মিহির বোসকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিরাট কোন পরিবর্তন হয়তো এখনই হবে না। ট্রেভর বেইলিসও আরো কিছু দিন থাকবেন। কিন্তু কিছু পরিবর্তন হয়তো হবে।

তিনি বলেন, ইংল্যান্ড হেরেছে এটা হয়তো মেনে নেয়া যায়, কিন্তু যেভাবে হেরেছে এবং তারা যে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে নি - এটা নিয়েই ক্রিকেট কর্তাদের ভাবতে হবে যে কি করা দরকার। এলিস্টেয়ার কুক, জেমস এন্ডারসনদের মতো কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার হয়তো শিগগীরই অবসর নেবেন, কিন্তু তাদের জায়গা নেবার মতো ক্রিকেটার কেন কাউন্টি থেকে উঠে আসছে না এটা দেখতে হবে।

তার কথা, ক্রিকেটে এখন এটা খুব দেখা যাচ্ছে যে অনেক দেশই নিজের মাটিতে ভালো খেলছে, কিন্তু দেশের বাইরের কন্ডিশনে ভালো করতে পারছে না। হয়তো ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে এটা একটা কারণ ছিল, তা ছাড়া বেন স্টোকসের মতো অলরাউন্ডার দলে না থাকাটাও হয়তো একটা কারণ।

এর পর ইংল্যান্ড দেশের মাটিতে ভারত আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে, এবং এমন হতে পারে যে নিজেদের কন্ডিশনে তারা দুটি দলকেই হারাতে পারবে - বলেন মি. বোস।

এবারের মাঠে ময়দানে পরিবেশন করেছেন পুলক গুপ্ত।

সম্পর্কিত বিষয়