মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

সচিনের ছেলে অর্জুন তেন্ডুলকারকে সুইংএর টিপস দিয়েছেন ওয়াসিম আকরাম

ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তী সচিন তেন্ডুলকারের ছেলে অর্জুনও ক্রিকেটার হিসেবে নাম করতে শুরু করেছেন।

অর্জুন তেন্ডুলকার প্রধানত একজন বাঁ-হাতি ফাস্ট বোলার - তার বাবার মতো ব্যাটসম্যান নন। কিন্তু তার ব্যাটিংও মন্দ নয়।

গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অর্জন তেন্ডুলকার ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া নামের একটি দলের পক্ষ হয়ে একটি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন এবং তাতে তিনি চারটি উইকেট নিয়েছেন, আর ২৭ বলে ৪৮ রান করেছেন।

এই টি২০ ম্যাচে তার ব্যাটিং-বোলিং দুটোই সমালোচকদের নজর কেড়েছে।

বিখ্যাত পিতার যোগ্য উত্তরাধিকারী হওয়া সহজ কাজ নয়। কিন্তু ভারতের কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান সচিন তেন্ডূলকারের ১৮ বছরের ছেলে এই অর্জুনের খেলা দেখে আজকাল অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, হয়তো যাকে সহজ বাংলায় বলে 'বাপ কা বেটা' - সেটাই হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে তার ।

অস্ট্রেলিয়ান এবিসি টিভির নিক রাইনবার্গারকে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন অর্জুন। তিনি বলছিলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি খেলা-পাগল।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বাবা সচিনের সাথে অর্জুন

"অনেক ধরণের খেলা খেলেছি - ফুটবল, সাঁতার, তায়েকান্ডো, আর ক্রিকেট। একজন রানারও ছিলাম আমি। আমার বাবা আমাকে সাহায্য করেছেন, কিন্তু আমি কি খেলবো তা তিনি বলে দেন নি। আমিই ঠিক করেছি। এখন আমি ক্রিকেটেই একটা কেরিয়ার গড়তে চাই, এজন্য অনেক পরিশ্রমও করছি আমি।"

ভারতে একজন ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ স্তরে ওঠা খুব কঠিন। আপনাকে শুধু নির্বাচকদের নজর কাড়ার জন্যই কয়েক মওসুম ধরে থারাবাহিক ভাবে ভালো খেলে যেতে হবে - ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়া তো বহু দুরের কথা।

মাঝখানে এক-দু বছর ভালো না খেললেই আপনি শেষ, বলছিলেন অর্জুন তেন্ডুলকার।

"আমি বয়েস বাড়ার সাথে সাথে লম্বা হয়েছি, শক্তিশালী হয়েছি। তখন থেকেই আমি জোরে বল করতে খুব ভালোবাসতাম। আমি ঠিক করলাম, আমি ফাস্ট বোলারই হবো। কারণ ফাস্ট বোলার ভারতে বেশি নেই।"

অর্জুন তেন্ডুলকার সাক্ষাৎকারে বলছিলেন তার আদর্শ ক্রিকেটার কারা।

"বোলার হিসেবে আমার আদর্শ জহীর খান, মিচেল জনসন, মাইকেল স্টার্ক, আর ওয়াসিম আকরাম। এদের অনেকের সাথেই আমার পরিচিত হবার সৌভাগ্য হয়েছে।"

"ওয়াসিম আকরাম আমাকে শিখিয়েছেন, সুইং করতে হলে কিভাবে বলটাকে ধরতে হয়। বলের শাইন কিভাবে রাখতে হয় - সেটাও শিখিয়েছেন তিনি। তিনি শিখিয়েছেন বল চকচকে করার জন্য মুখের লালা ব্যবহার করতে এবং তার পর সেটা শুকিয়ে গেলে ট্রাউজারে ঘষতে হবে। কিন্তু ঘাম ব্যবহার করা চলবে না।"

"অবশ্য মজার ব্যাপার হলো, আমার দলের মধ্যে আমারই সবচেয়ে বেশি ঘাম হয়।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption জহীন খানের কাছে বোলিং-এর কৌশল শিখছেন ছোট্ট অর্জুন

অর্জুন তেন্ডুলকার বলছিলেন, তার বাবা কিভাবে তাকে উপদেশ-পরামর্শ দিয়েছেন।

"আমার বাবা আমাকে একটা উপদেশই দিয়েছেন, নির্ভয়ে খেলো, নিয়ম মেনে খেলো, আর দলের জন্য খেলো।"

"আমি কোন মানসিক চাপে থাকি না। বল করার সময় জোরে বল করি, ব্যাট করার সময় শট খেলি, তবে মাথায় রাখি কোন বোলারকে মারতে হবে, কাকে নয়।"

"টেস্ট খেলতে গেলে আমি শুধু একজন ফাস্ট বোলারই হতে চাইবো। কিন্তু টি২০ এমন খেলা যাতে আপনি একটা ভালো ইয়র্কার বলেও মার খাবেন। তবে টি২০-তে ব্যাটিং করা আমি পছন্দ করি, কারণ সেখানে ইচ্ছেমত পিটিয়ে খেলা যায়।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ওয়াসিম আকরাম

ক্রিকেটই কি নিজের দেশের বাইরে সবচেয়ে কঠিন খেলা?

অন্য দেশের মাটিতে গিয়ে যে কোন খেলাতেই জিতে আসা কঠিন কাজ।

কিন্তু এক্ষেত্রে ক্রিকেট কি অন্য সব খেলার চেয়ে কঠিন?

এ কথাটা আরো উঠছে, কারণ অতি সম্প্রতি পাকিস্তান এবং ভারত, আর ক'দিন আগে ইংল্যান্ড - এই তিন দেশই বিদেশের মাটিতে বাজেভাবে হেরেছে।

নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে পাকিস্তান ৫-০ ম্যাচে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। ভারত দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে প্রথম দুটো টেস্ট হেরে সিরিজ হারিয়েছে। আর এই সেদিন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এ্যাশেজ সিরিজে নাকাল হয়েছে ইংল্যান্ড। আসলে ক্রিকেট খেলায় এটা বার বার ঘটতে দেখা গেছে।

ছবির কপিরাইট Ryan Pierse
Image caption দেশের বাইরে সব দলের জন্যই ক্রিকেট খেলে জিতে আসা কঠিন

তাই অনেকে বলছেন যে, অন্য দেশের মাঠে, অপরিচিত পরিবেশে ক্রিকেট খেলে জিতে আসা হয়তো অন্য যে কোন খেলার চাইতে কঠিন।

এ নিয়ে বিবিসির মার্ক হিগিনসন এক রিপোর্টে লিখছেন, এটাতে হয়তো কিছুটা যুক্তি আছে। কারণ ভিন্ন ধরণের উইকেট, বল, এবং আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিলে বলা চলে যে অন্য দেশে গিয়ে ক্রিকেট খেলে জিতে আসা এটা কঠিন কাজ। স্বাগতিক দেশগুলো এ জিনিসগুলো তাদের পক্ষে ব্যবহার করে, এব সফরকারী খেলোয়াড়দের এই ভিন্ন কন্ডিশনের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে হয়।

"ইংল্যান্ডে বল সুইং করে বেশি , অস্ট্রেলিয়ায় কম। আবার অস্ট্রেলিয়ায় বাউন্স বেশি ভারতে কম। কোকাবুরা বলে আচরণ একরকম. ডিউক বলের আরেক রকম। মনে রাখতে হবে অন্য খেলাতেও কিন্তু প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে খেলাটা একটা কঠিন ব্যাপার।"

"হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে - ফুটবল খেলায় এওয়ে ম্যাচে প্রতি ১০ হাজার দর্শকের জন্য এক গোলের এক দশমাংশ পরিমাণ এডভান্টেজ তৈরি হয়। একই জরিপে আরো দেখা গেছে এ্যাওয়ে ম্যাচে প্রতিপক্ষ কম গোল করে এবং তার বিপক্ষে পেনাল্টি বেশি হয়। কিন্তু আইস হকি, বাস্কেটবল, বা জার্মানির বুন্দেসলিগা নিয়ে একই থরণের গবেষণায় আবার দেখা গেছে হোম টিম যে এ্যাডভান্টেজ পায় তা নগণ্য।"

"এসব গবেষণা থেকে একেবারে নিশ্চিত কোন সিদ্ধান্তে আসা যায় না - কিন্তু প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় দেখা যায় ইংল্যান্ড দলের জন্য যে অস্ট্রেলিয়ায় এবং ভারতে জেতা কঠিন - এটা প্রায় নিয়মিত দেখা যায়। কিন্তু এটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।"

ছবির কপিরাইট Gallo Images
Image caption দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে গিয়ে ভারত ইতিমধ্যেই সিরিজ হারিয়েছে

আসলেই কি প্রতিপক্ষের মাঠে ক্রিকেট খেলা অন্য খেলার চেয়ে কঠিন?

এ সপ্তাহের মাঠে ময়দানেতে এ নিয়ে আরো কথা বলেছেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার এবং এখন লন্ডনে ক্রিকেট কোচ শহিদুল আলম রতনের সাথে।

"টেনিস খেলাতে দেখা যায় ক্লে কোর্ট, সিনথেটিক কোর্ট, আর ঘাসের কোর্টে খেলা অনেক পার্থক্য। রজার ফেডেরারের মতো খেলোয়াড়ও ক্লে কোর্টে সুবিধে করতে পারেন নি, যা রাফায়েল নাদাল পেরেছেন। এতেও বোঝা যায়, এ ব্যাপারগুলেঅ কত গুরুত্বপূর্ণ।"

শহিদুল আলম রতনের কথায়, ক্রিকেট অন্য সব খেলার মতো নয়। এখানে উইকেট, বলের সুইং, টার্ন, আবহাওয়া - এগুলো এমনভাবে খেলার ওপর প্রভাব ফেলে যা ফুটবল বা অন্য খেলায় হয় না।