বাংলাদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে কোচিং সেন্টার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে একজন বললেন, "আমরাও দেখতে চাই, প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যায় কিনা"

ছবির কপিরাইট ALLISON JOYCE
Image caption পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস এখন বাংলাদেশে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ না উঠার বিষয়টি বেশ বিরল।

বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস যেন ঠেকানোই যাচ্ছে না।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে বহু পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

তাদের জিজ্ঞাসা হচ্ছে, পরীক্ষার আগে এবার প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হবে তো?

দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ দাবী করেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন ঘটনা ঘটেনি।

এনিয়ে যারা আলোচনা করছে উল্টো তাদের সমালোচনা করেছেন তিনি।

প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি তিনি যখন স্বীকার করেছেন, তখন দায় চাপিয়েছেন শিক্ষকদের উপর।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ এখন বলছেন প্রশ্ন ফাঁসের জন্য কোচিং সেন্টারগুলো দায়ী।

সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী কোচিং সেন্টারগুলোকে 'প্রশ্নপত্র ফাঁসের আখড়া' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি আরো বলেছেন, পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া বন্ধ করতে তারা 'মরিয়া' হয়ে উঠেছেন।

সেজন্য এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে থেকে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে।

কোচিং সেন্টার বন্ধ করা নিয়ে অভিভাবক এবং কোচিং সেন্টার পরিচালনাকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

একটি কোচিং সেন্টারের কর্মকর্তা নিশু কাজল বলেন, " আমরা তো প্রশ্ন ফাঁস করিনা। তারপরেও সরকার নির্দেশ দিয়েছে, আমরা বন্ধ করবো। এ সময়ের মধ্যে যদি প্রশ্ন ফাঁস হয়, তখন বোঝা যাবে প্রশ্ন কোথা থেকে ফাঁস হচ্ছে। আমরাও দেখতে চাই, প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যায় কিনা।"

ঢাকার একজন অভিভাবক জানালেন, সাধারণত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এ সময়ে এমনিতেই কোচিং সেন্টারে যায় না।

কারণ তাদের প্রস্তুতি শেষ। কিন্তু কোচিং সেন্টার একমাস বন্ধ রাখলে অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি মনে করেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর জন্য কোচিং সেন্টার ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ছবির কপিরাইট UNK
Image caption এবার পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত হতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র আসতে হবে।

এছাড়া পরীক্ষার সময় ফেসবুক বন্ধ রাখা যায় কিনা সে প্রস্তাবও দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কিন্তু এসব পদক্ষেপ প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে কতটা কার্যকরী হবে সেটি নিয়ে সন্দেহ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মো: মজিবুর রহমান।

তিনি মনে করেন, কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে সে বিষয়টি আগে অনুধাবন করতে হবে।

অধ্যাপক রহমান বলেন, " কোচিং সেন্টার কিংবা ফেসবুক বন্ধ - এগুলো সেকেন্ডারি বিষয়। কোন জায়গা থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় সেটি চিহ্নিত করতে হবে। কোচিং সেন্টার থেকে হয়তো ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সার্কুলেট (বিতরণ) হতে পারে।"

কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখলে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের বিস্তার হয়তো কিছুটা রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক রহমান।

গত বছরের বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিজি প্রেসের কর্মচারী এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষককে গ্রেফতার করেছিল গোয়েন্দা সংস্থা।

অধ্যাপক রহমান মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার না করায় পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁসের সাথে একটি চক্র জড়িত আছে বলে তাঁর ধারনা।

সেক্ষেত্রে কোচিং সেন্টারগুলোর দায় কতটা সেটি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয় বলে অধ্যাপক রহমান মনে করেন।

তাছাড়া প্রযুক্তির এ যুগে শুধু ফেসবুক বন্ধ করে কতটা ফল পাওয়া যাবে সেটি নিয়েও সন্দিহান অধ্যাপক রহমান।

সম্পর্কিত বিষয়