মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ফুটবল ম্যানেজাররা এত ঘন ঘন চাকরি হারান কেন?

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যানেজার জোসে মুরিনিও ক্লাবের সাথে এক নতুন চুক্তি সই করেছেন।

অবশ্য সব ফুটবল ম্যানেজার তার মত ভাগ্যবান নন। এ মওসুমে শুধু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেই আট জন ম্যানেজার চাকরি হারিয়েছেন। এমন কি বরখাস্ত হবার ঝুঁকিতে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজার জিনেদিন জিদানও।

ম্যানেজারদের চাকরি এত ঠুনকো কেন?

জোসে মুরিনিও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আছেন দু'বছর ধরে। কিন্তু তিনি ইউরোপা লিগ জিতে চ্যাম্পিয়্নস লিগে খেলার সুযোগ পাওয়া, এবং লিগ কাপ জেতা ছাড়া প্রিমিয়ার লিগে তেমন কোন সাফল্য পান নি। এবারও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় ম্যানচেস্টার সিটির চাইতে অনেক পিছিয়ে আছে। ফলে এবারও তারা লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে বলে মনে হয় না।

কিন্তু এসব সত্বেও জোসে মুরিনিও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আরো তিনবছর ম্যানেজার থাকার জন্য নতুন চুক্তি করেছেন।

ফুটবল বিশ্লেষক মিহির বোস এ ব্যাপারে বলছেন, জোসে মুরিনিও এর আগে বিভিন্ন ক্লাবকে এত সাফল্য এনে দিয়েছেন যে তার ওপর এখনও ইউনাইটেডের কর্তৃপক্ষ আস্থা রেখেছে।

মিহির বোস বলছেন, মুরিনিওর সমস্যা হচ্ছে তিনি এক ক্লাবে বেশি দিন থাকেন না। তাই নতুন চুক্তি সই করলেও তিনি আরো কতদিন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকবেন তা অনুমান করা মুশকিল।

অন্যদিকে চাকরি হারানোর শংকার মধ্যে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের জিনেদিন জিদান।

যদিও তিনি রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজার হবার পর দু'বছরে দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সহ আটটি ট্রফি জিতেছেন, কিন্তু এ বছর কোপা দেল রে থেকে রিয়াল মাদ্রিদ ছিটকে যাবার পর তিনি নিজেই আশংকা করছেন যে, আগামি মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলায় প্যারিস সঁ জার্মেইনের বিরুদ্ধে জিততে না পারলে তিনি চাকরি হারাতে পাররেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption জিনেদিন জিদান

জিদানের কথা, ক্লাবকে সাফল্য এনে দেয়াটা ম্যানেজার হিসেবে তারই দায়িত্ব।

"যা হচ্ছে তার দায়িত্ব আমার। আমি দলের কোচ , সমস্যার সমাধানও আমাকেই বের করতে হবে। আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে পারছি না। আমাকে পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে, দায়িত্ব নিতে হবে । দল যাতে ভালো খেলতে পারে - তার পথ আমাকেই বের করতে হবে।"

মিহির বোস বলছেন, রিয়াল মাদ্রিদ হচ্ছে এমন একটি ক্লাব যাদের প্রতি বছর ট্রফি চাই। তা না পারলেই ম্যানেজারদের বিপদ।

"তা ছাড়া বড় বড় ক্লাবকে খেলোয়াড়দের পেছনে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করতে হয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যেমন আলেক্সিস সানচেজকে কিনেছে এবার - তাকে বেতন দিতে হবে সপ্তাহে সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড। এই বেতন দিতে হলে ক্লাবকে আয় করতে হবে। সাফল্য না পেলে তাদের আয় কমে যাবে, স্পন্সরশিপ কমে যাবে, তাদের ফ্রানচাইজের পণ্য বিক্রি হবে না।"

সে জন্যই ম্যানেজাররা দলকে সাফল্য এনে দেবার জন্য এতটা চাপে থাকেন। এমনকি ছোট ক্লাবের ম্যানেজাররাও চাপে থাকেন - কারণ তাদের দায়িত্ব প্রিমিয়ার লিগে ক্লাবকে টিকিয়ে রাখা - বলেন মিহির বোস।

একারণে এ বছর শুধু ইংলিশ পিমিযার লিগেই মোট আট জন ম্যানেজার চাকরি হারিয়েছেন। মার্কো সিলভা, মার্ক হিউজ, পল ক্লিমেন্ট, টনি পিউলিস, স্লাভেন বিলিচ, রোনাল্ড কোম্যান, ক্রেইগ শেক্সপেয়ার, ফ্রাংক ডি বোর - এরা সবাই মাঝারি বা ছোট ক্লাবের ম্যানেজার ছিলেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption এনগিডি - দক্ষিণ আফ্রিকান নতুন বোলিং সেনসেশন

এনগিডি: দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন ফাস্ট বোলিং তারকা

ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে দারুণ বোলিং করে সবার নজর কেড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার লুংগিসানি এনগিডি।

অতি দরিদ্র পরিবার থেকে কিভাবে সর্বোচ্চ স্তরের ক্রিকেটে উঠে এসেছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত সিরিজের প্রথম দুটি টেস্ট জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে।

তবে এই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার নবাগত ফাস্ট বোলার লুংগিসানি এনগিডি - সবার নজর কেড়েছেন।

অভিষেক টেস্টেই দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৯ রানে ৬টি উইকেট নিয়ে তিনি ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।

তার বয়েস মাত্র ২১, এবং এখনই তাকে মনে করা হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ফাস্ট বোলারদের একজন হিসেবে।

তিনি উঠে এসেছেন খুবই সাধারণ পরিবার থেকে, তার বাবা ছিলেন এক স্কুলের কেয়ারটেকার, আর মা ছিলেন একজন গৃহকর্মী।

কিন্তু তিনি যখন ডারবানের ৫০ মাইল দুরে একটি প্রাইভেট বোর্ডিং স্কুলে লেখাপড়া করার জন্য বৃত্তি পেলেন তার পর তাকে তার পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি। ক্রিকেটার হিসেবে তার বিকাশের পথ খুলে যায়।

এই স্কুলেই সাবেক জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটার নিল জনসন তার কোচ ছিলেন। তার তত্বাবধানে এনগিডি গড়ে ওঠেন একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে - যার একসময় খাবার কেনার পয়সা জোগাতেও কষ্ট করতে হতো।

তনিল জনসন বলেন, এনগিডির উঠে আসার কাহিনী এক দারুণ গল্প।

ছবির কপিরাইট GIANLUIGI GUERCIA
Image caption এনগিডি

" এরকমও হয়েছে যে আমরা হয়তো কোথাও খেলতে গেছি, হয়তো পথে কোথাও থেমেছি, কিন্তু ওর কাছে কিছু একটা কিনে খাবার মতো পয়সাও থাকতো না। তার পরেও আমি তাদের বলবো একটা অসাধারণ পরিবার।"

"তার ভাইদের মধ্যে খুব আন্তরিক সম্পর্ক, সবাই একে অন্যকে সাহায্য করছে, অন্য কোন ভাইয়ের কাছে টাকা থাকলে তা দিয়ে তারা এনগিডিকে সাহায্য করেছে। কিন্তু সে যে সব সময়ই শুধু অন্যদের কাছ থেকে নিচ্ছে - তা মোটেও নয়, সে নিজেও অন্যদের সাহায্য করছে। সত্যি অসাধারণ।"

এখন কাগিসো রাবাদা, ভারনন ফিল্যান্ডার এবং এনগিডিকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণকে কি অনেকটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯৮০র দশকের মতো দেখাচ্ছে?

নিল জনসন বলছিলেন, এরকম আরো অনেকেই উঠে আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অশ্বেতাঙ্গদের মধ্যে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দারুণ উৎসাহ বাড়ছে।

"এনগিডির মতো যারা ক্রিকেটে বড় আসরে খেলার সুযোগ পেয়েছে - তারা যে কিভাবে এর মধ্যে দিয়ে তাদের পরিবারকে ওপরে উঠতে সহায়তা করছে, তা বলতে গেলে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি।"

সম্পর্কিত বিষয়