বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কূটনীতিকদের সাথে বিএনপির বৈঠক: কী বলেছেন তারা

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption আদালত চত্বরে খালেদা জিয়া (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির মামলায় আদালত রায়ের তারিখ দেয়ার পর গত কয়েকদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে দলটি আজ ঢাকায় বিদেশী কূটনীতিকদের সাথে কথা বলেছে।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, কূটনীতিকদের সাথে তারা মামলাটিসহ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৮ই ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছে।

আর জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতির মামলায় মঙ্গলবার যুক্তিতর্কে খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতারা মূলত তাদের দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার মামলা নিয়েই কথা বলেছেন বিদেশী কূটনীতিকদের সাথে।

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদ: ফেসবুকে ‘#আমি গুপ্তচর’ ঝড়

ইস্পাতের মতো শক্ত ঘাস বিন্না নিয়ে গবেষণা, মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলার রোগ ট্রিকোটিলোম্যানিয়া

আরো পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় দুটো যমজ হাতির বাচ্চার মৃতদেহ উদ্ধার

দলটির সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কিত ৫টি মামলার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় যে রায় হতে যাচ্ছে, এনিয়ে বিএনপিতে উদ্বেগ রয়েছে।

বিএনপি মনে করে, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলাটির কার্যক্রম শেষ করে আনা হয়েছে। মামলার বিষয় নিয়েও তাদের প্রশ্ন রয়েছে।

বিএনপি নেতারা তাদের এসব উদ্বেগ ও আপত্তির কথাই বিদেশী কূটনীতিকদের জানিয়েছেন।

কূটনীতিকদের সাথে এই বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন এবং খালেদা জিয়ার আইনজীবীও উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাজ্য, ভারত, সৌদি আরব, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারসহ ১৭টি দেশের কূটনীতিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার মামলার পাশাপাশি তাদের জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি তারা তুলে ধরেছেন।

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption ঢাকায় বিএনপির সদর দফতরের সামনে পোস্টার (ফাইল ছবি)

বিএনপির হিসাব অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নয় বছরের শাসনে তাদের জোটের ৭৪ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

কিন্তু মামলা নিয়ে কূটনীতিকদের সাথে এই বৈঠকের কারণ সম্পর্কে বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা এই বৈঠক করেছেন।

বিএনপির নেতারা বলেছেন, নির্বাচনের আগে সরকার তাদের উপর চাপ সৃষ্টির জন্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে বিএনপি নেত্রীর মামলাগুলো এগিয়ে নিচ্ছে বলে তারা মনে করেন, সে কারণে তারা কূটনীতিকদের কাছে মামলার রায়ের আগেই পরিস্থিতি জানিয়ে রাখলেন।

বিএনপি তাদের নেত্রীর মামলা নিয়ে আইনগত ও রাজনৈতিক এই দু'ভাবে মোকাবেলার কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে। আইনগত দিক থেকে মামলাটির শেষ পর্যায়ে খালেদা জিয়া প্রতিদিন শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পরও তারা আইনগত পদক্ষেপগুলো চালিয়ে যাবেন।

রাজনৈতিক দিক থেকে বিএনপি মনে করছে, তাদের দলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলার রায়ের তারিখ যখন ঘোষণা করা হয়েছে, তখন সারাদেশে দলটির নেতা কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে এই পরিস্থিতিকে বিএনপি কাজে লাগাতে চায়।

হিন্দু দেবীর নামে 'কটূক্তি ও অশালীন' মন্তব্য করার অভিযোগে বাংলাদেশে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা

আরো পড়ুন: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আট মাসের এক শিশু ধর্ষণ: 'যৌনাঙ্গে আঘাত ভয়াবহ'

এখন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হলে দলটির নেতাকর্মীরা রাস্তায় জমায়েত হচ্ছেন এবং মিছিল করছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার পর খালেদা জিয়া বিকেলে বাসায় ফেরার সময় মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এবং সরকার-বিরোধী শ্লোগান দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা কার্জন হলের সামনে রাস্তায় বিক্ষোভ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ভ্যানগাড়িতে আক্রমণ করে আটক বিএনপির দু'জন নেতাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

পরে পুলিশ বিএনপির ৫০জনেরও বেশি নেতাকর্মীকে আটক করেছে।