মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

কেমন ছিল সৌদি আরবে মেয়েদের স্টেডিয়ামে গিয়ে প্রথম ফুটবল ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা ?

জানুয়ারি মাসে সৌদি আরবের মেয়েরা প্রথম বারের মতো স্টেডিয়ামে গিয়ে ফুটবল খেলা দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

কেমন অভিজ্ঞতা ছিল সেটা?

সৌদি আরবে এখন নানা রকমের পরিবর্তন আসছে - মেয়েরা গাড়ি চালানোর অধিকার পাচ্ছেন এ বছরই জুন থেকে। আর ইতিমধ্যেই মেয়েরা পেয়ে গেছেন স্টেডিয়ামে গিয়ে ফুটবল খেলার অনুমতি।

এর পর রাজধানী রিয়াদ. দাম্মাম আর জেদ্দায় তিনটি ফুটবল ম্যাচে প্রথম সৌদি আরবের মেয়েরা ফুটবল খেলা দেখতে যান। রাজধানীয় রিয়াদে সৌদি প্রো লিগের ম্যাচ ছিল আল-হিলাল বনাম আল-ইতিহাদের মধ্যে। আর জেদ্দার ম্যাচটি ছিল আল-আলি আর আল-বাতিনের মধ্যে যাতে আল-আলি ৫-০ গোলে জেতে।

ফুটবল থেকেই কি সৌদি আরবে একটা আগামী দিনে একটা বিরাট পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে?

জেদ্দার এই ম্যাচটিতে একজন স্টুয়ার্ড হিসেবে মেয়েদের গ্যালারিতে কাজ করেছিলেন ১৮-বছর বয়স্কা ছাত্রী সারা আল-গাশকারি।

তিনি বিবিসির কাছে বর্ণনা করেছেন সৌদি আরবে প্রথম মেয়েদের স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption আল-হিলাল ও আল-ইতিহাদের ম্যাচে নারী দর্শকরা

"এ ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা, মেয়েরা উত্তেজিতভাবে তাদের যারা যার পছন্দের দলকে উৎসাহ দিচ্ছিল। তাদের জন্য এটা ছিল একটা ঐতিহাসিক এবং আনন্দের মুহুর্ত - যে তারা কোন পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই খেলা দেখতে আসতে পেরেছে।"

"মেয়েদের জন্য এখানে আলাদা কোন নিয়ম ছিল না । পুরুষের জন্য যে নিয়ম - মেয়েদের জন্যও তাই। ফলে তাদের মধ্যে ছিল এক আনন্দের উচ্ছাস ।"

"সৌদি মেয়েরা সব সময়ই সরাসরি মাঠে বসে খেলা দেখতে চেয়েছে - কিন্তু এতদিন পর্যন্ত তাদের খেলা দেখতো হতো শুধু টিভির পর্দায়।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption স্টেডিয়ামে ঢোকার জন্য লাইন দিয়েছেন সউদি মেয়েরা

"আমি একজন স্টুয়ার্ড হিসেবে কাজ করেছি। তাই আমাকে খেলা শুরুর ছয় ঘন্টা আগে স্টেডিয়ামে ঢুকতে হয়েছে - আর বের হয়েছি খেলা শেষ হবার তিন ঘন্টা পর। অনেক পরিশ্রমের কাজ, কিন্তু আমার কখনো ক্লান্তি লাগে নি। "

"তা ছাড়া খেলা দেখাটাও ছিল একটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার - আমি খেলোয়াড়দের চোখের সামনে খেলতে দেখছি, গোল করতে দেখছি - এটা যেস বিশ্বাসই হচ্ছিল না। "

"আমার মনে হচ্ছিল এ যেন এক নতুন সৌদি আরব। আমি মনে করি, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি - আমাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল। আমরা ফুটবল খেলা দেখতে যেতে পারছি, সামনের বছর আমরা গাড়িও চালাতে পারবো।"

"আইনের পরিবর্তনের আগে আমরা শুধু আমাদের প্রিয় দল কি করছে তার খোঁজখবর রাখতাম। খেলা দেখতাম শুধু টিভিতে। তবে এখন ভবিষ্যতের ব্যাপারে আমরা খুবই আশাবাদী।"

ছবির কপিরাইট ALI AL-ARIFI
Image caption আল-হিলাল ও আল-ইতিহাদের একটি ম্যাচের দৃশ্য

মেয়েরা মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলা দেখবে - এর বিরোধিতা কি কেউ করে নি?

আল-গাশকারি বলছিলেন, "এর পুরোপুরি বিরুদ্ধে ছিল - এরকম কাউকে আমি চিনি না। তবে কেউ কেউ বলেছেন, তারা নিশ্চিত নয় যে এটা উচিত হচ্ছে কিনা। তাদের ধারণা, সমাজ এখনো এর জন্য তৈরি হয় নি, মানুষও তৈরি নয়। বয়স্করা বলছিলেন, আগে কখনো মেয়েরা খেলা দেখতে যায় নি। তারা ভয় পাচ্ছিলেন যে এখানে গোলমাল হতে পারে।"

"কিন্তু আমি বলেছিলাম, আমরা আয়োজকদের অংশ, কোন গোলমাল হবে না - হয়ও নি। প্রায় আড়াইশো সউদি মেয়ে শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করেছে, দর্শকরাও আমাদের সহযোগিতা করেছে।"

"স্টেডিয়ামের অভিজ্ঞতা - আমি বলবো, আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চাইতেও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। দর্শকরা গান গাইছিল, যার যার দলকে উৎসাহ দিচ্ছিল। আমি নিজেকে মনে করছি এই ইতিহাসের অংশ।"

"আমি দেখেছি, একজন লোক তার মেয়েকে ফুটবলের নিয়মকানুন বুঝিয়ে দিচ্ছেন, মেয়েদের দেখেছি প্রাণ খুলে তাদের দলকে চিৎকার করে উৎসাহ দিচ্ছে, কে কি ভাবলো তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না।"

"আমি মনে করি, এই অভিজ্ঞতা আমার মধ্যেও একটা পরিবর্তন এনে দিয়েছে" - বলছিলেন জেদ্দা থেকে সারা আল-গাশকারি

মরা উইকেটে টেস্ট ক্রিকেট: স্পোর্টিং উইকেট পেতে এখন কি নিরপেক্ষ কিউরেটর আনতে হবে?

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption চট্টগ্রাম টেস্টে রান উঠেছে, বোলারদের জন্য কিছু ছিল না

চট্টগ্রাম টেস্টে এক হাজারের বেশি রান উঠেছে প্রথম তিন দিনে কিন্তু উইকেট সেরকম পড়ে নি।

স্পিন সহায়ক উইকেট বলা হলেও বাংলাদেশের স্পিনাররা তো শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে একেবারেই সুবিধে করতে পারেন নি।

টেস্ট এখন ড্র হয়েছে। কিন্তু এরকম উইকেট থাকলে কি টেস্ট ক্রিকেট কখনো উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারবে?

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের মুমিনুল হক

আজকাল বিশেষ করে উপমহাদেশে এমন এক ধরণের উইকেটের ওপর টেস্ট খেলা হচ্ছে - যা পুরোপুরিই স্বাগতিক দেশকে সুবিধা দেবার কথা মাথায় রেখে তৈরি ।

উপমহাদেশের এসব উইকেট হয় পুরোপুরি স্পিন সহায়ক, ফাস্ট বোলাররা উইকেট থেকে কোন সহায়তাই পান না।

এ নিয়ে এ সপ্তাহের মাঠে ময়দানেতে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট।

তিনি বলছেন, এধরণের উইকেট টেস্ট ক্রিকেটকে উপভোগ্য করার জন্য সহায়ক হবে না। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য দরকার স্পোর্টিং উইকেট - যেখানে ফাস্ট বোলার, স্পিনার ও ব্যাটসম্যান - সবাই কিছু না কিছু সহায়তা পাবেন।

খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, আইসিসির রের্টিং চালু হবার পর হোম এ্যাডভান্টেজ নিয়ে পয়েন্ট পাওয়া, এবং তালিকায় ভালো অবস্থায় থাকার জন্য স্বাগতিক দেশগুলোর মধ্যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এটা ঠেকাতে হলে আইসিসি'র নিরপেক্ষ আম্পায়ারের মতো নিরপেক্ষ কিউরেটর থাকা দরকার - যারা তৃতীয় দেশ থেকে আসবেন এবং ১০-১৫ দিন থেকে উইকেট তৈরি করে দেবেন।