ঢাকার শাহবাগে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ এখন কোথায়? কী করছে?

বাংলাদেশ, আন্দোলন, রাজনীতি ছবির কপিরাইট THEMATIC#110115
Image caption শাহবাগের আন্দোলনে স্বত:স্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছিল লাখো মানুষ

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলন- 'গণজাগরণ মঞ্চের' পাঁচ বছর পূর্তি হচ্ছে আজ।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার পর একদল তরুণ তরুণী শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাতে শুরু করে, যা পরে স্বতঃস্ফূর্ত একটি আন্দোলনে রূপ নেয়।

এরপর একের পর এক শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিও কার্যকর করা হয়। কিন্তু এখন এই আন্দোলন তেমন করে আর চোখে পরে না।

আরও পড়ুন কোন দেশের কত পরমাণু অস্ত্র আছে, কোথায় আছে?

নাস্তিকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে পুরো বিশ্ব

নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দলের জের ধরে সরকার পন্থীদের একটি অংশ সরে দাঁড়ানোয় ভাঙ্গনেরও মুখোমুখি হয়েছে এ আন্দোলনের সংগঠকদের মধ্যে।

এমন প্রেক্ষাপটে এখন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মকাণ্ড কি?

এমন প্রশ্নের জবাবে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলছেন অসাম্প্রদায়িক বৈষম্য মুক্ত সমাজ করতে মুক্তিযুদ্ধের যে আকাঙ্ক্ষা তার জন্য লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

"ধর্ষণ, শিশু হত্যা কিংবা অর্থকড়ি লুটপাটের প্রতিবাদ সবই অব্যাহত ছিলও। কয়েক মাস আগে আমাদের কর্মসূচিতে হামলা হয়। আরেকটি কর্মসূচি ঘিরে আমিসহ অনেকের নামে মামলা হয়েছে। এরপরই কিছুটা স্থবিরতা এসেছিলো। কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে"।

ছবির কপিরাইট SK HASAN ALI
Image caption গণজাগরণ মঞ্চের নেতা ইমরান এইচ সরকার ও তার সতীর্থরা

কিন্তু এখন কি আর মানুষের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে ? জবাবে মিস্টার সরকার বলেন, "এটা স্বত:স্ফূর্ত মানুষের আন্দোলন। এখানে সবসময় যে সাড়া থাকে তা নয়। তবে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে রোডমার্চ কিংবা কুমিল্লায় তনু ধর্ষণের প্রতিবাদের কর্মসূচিতে মানুষের সমর্থন আমরা পেয়েছি"।

২০১৩ সালে যে দৃশ্যমান সাড়া এসেছিলো এখন কি ততটা সাড়া আছে কিংবা মানুষের সেই মনোভাব কি এখন আর অবশিষ্ট আছে ?

জবাবে ইমরান এইচ সরকার বলেন তাদের লক্ষ্য ছিলও গণজাগরণ সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া। সেটি হয়েছে কারণ এখন যে কোন অন্যায় হলে মানুষ গণজাগরণ মঞ্চের আদলে প্রতিবাদ করছে। ২০১৩ সালের পর অধিকাংশ আন্দোলনে সাধারণ জনগণই নেতৃত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন এর আগে গাড়িতে আগুন দেয়া ইট পাটকেল নিক্ষেপ এগুলোই ছিলও রাজনৈতিক কর্মসূচী ।

"কিন্তু আমরা দেখিয়েছি কিভাবে রাস্তায় নীরবতা পালন করেও কর্মসূচী পালন করা যায়, কিভাবে মোমবাতি জ্বালিয়েও প্রতিবাদ করা যায়"।

কিন্তু এখন আর গণজাগরণ মঞ্চের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কোথায়?

জবাবে ইমরান এইচ সরকার বলেন এখান থেকে সরে যাওয়া যে সহজ ব্যাপার তাও নয় কিন্তু শুরুতে যে ধরনের কর্মসূচি হয়েছে সেখানে পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন এসেছে আন্দোলনের গতিতেও।

আরও পড়ুন একজনের মাথা, আরেকজনের দেহ: ভুয়া পর্নো

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া অর্থ ফিরে আসবে কবে?

সম্পর্কিত বিষয়