কেন বন্ধ হয়ে গেল ভ্যাট ফাঁকি রোধের অ্যাপ

পুরষ্কার হাতে আইসিটি মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক-এর সাথে কথা বলছেন জুবায়ের হোসেন (বাঁয়ে)। ছবির কপিরাইট Md. Jubayer Hossain
Image caption পুরষ্কার হাতে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক-এর সাথে কথা বলছেন জুবায়ের হোসেন (বাঁয়ে)।

বাংলাদেশের একটি জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী মোবাইল অ্যাপ, ভ্যাট চেকার, সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে।

গত দু'মাস ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআর-এর ডেটাবেজে সংযোগ না পাওয়ায় ভ্যাট চেকার কাজ করছে না বলে জানিয়েছেন এই অ্যাপের ডেভেলপাররা।

ভ্যাট চেকার অ্যাপ ব্যবহার করে খদ্দেররা কোন দোকান বা রেস্টুরেন্টের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানতে পারতেন যে প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে ভ্যাট দেয় কি না।

ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার প্রমাণ পাওয়ার পর গ্রাহকই রাজস্ব বোর্ডে এব্যাপারে অভিযোগ করতে পারতেন।

এই অ্যাপের উদ্ভাবকদের একজন জুবায়ের হাসান বিবিসিকে জানান, রাজস্ব বোর্ড থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে তাদের স্টার্ট-আপ কোম্পানি যতদিন পর্যন্ত একটি কর্পোরেট আকার না নেবে ততদিন পর্যন্ত তারা এনবিআর-এর ডেটাবেজে অ্যাকসেস পাবে না।

তারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন, তাদের নানা রকম আশ্বাসও দেয়া হয়েছে, কিন্তু এখনও সার্ভারে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

আরো দেখুন:

মেয়ের চিকিৎসার টাকা যোগাতে বুকের দুধ বিক্রি?

গণজাগরণ মঞ্চ এখন কোথায়? কী করছে?

একজনের মাথা, আরেকজনের দেহ: ভুয়া পর্নো

ছবির কপিরাইট Masud Khan
Image caption প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

চালু হওয়ার পর গত দু'বছরে এই অ্যাপ ব্যবহার করে খদ্দেররা এনবিআর-এর কাছে ১১,০০০ অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এতে সরকার অন্তত ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা গেছে বলে জানান জুবায়ের হোসেন।

সেরা অ্যাপ হিসেবে ভ্যাট চেকারকে চলতি বছর জাতীয় মোবাইল অ্যাপ পুরষ্কার দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি গত বছর এটি দক্ষিণ এশিয়ার আইটি সম্মাননা এমবিলিয়ন্থ অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে।

চলতি বছর ভিয়েনাতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভ্যাট চেকারের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে কথা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জুবায়ের হোসেন নিরুপায় হয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন যাতে ভ্যাট চেকারকে আবার চালু করে জাতীয়করণ করার অনুরোধ করেছেন।

ভ্যাট চেকার অ্যাপ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়ার সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, অ্যাপটি চালু করা হবে কি না, সেই বিষয়টি তারা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন।