বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো: আবদুল হামিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুন:নির্বাচিত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ছবির কপিরাইট BBC bangla
Image caption বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

বাংলাদেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো: আবদুল হামিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুন:নির্বাচিত হয়েছেন।

মি: হামিদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে একক প্রার্থী হিসেবে বুধবার তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম নুরুল হুদা।

বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন।

২০১৩ সালের ১৪ই মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো: জিল্লুর রহমান সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকার সময়ে তিনি প্রথম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন । এরপর রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ২০শে মার্চ ২০১৩ থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

পরে মি: হামিদ একই বছরের ২২শে এপ্রিল তিনি বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বীতায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২৪শে এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন।

তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি একটানা অনেক দিন স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তার রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনের সাড়ে তিনবছরের মাথায় বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, শপথ নেবার পর থেকে তিনি পরিপূর্ণভাবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

বঙ্গভবনে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে ওই সাক্ষাৎকারটি নেন সংবাদদাতা আকবর হোসেন। সেসময় মি: হামিদ বলেন, সংবিধানে যা আছে তার ভেতরে থেকেই রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

বাংলাদেশে সম্প্রতি জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সেসময় বলেন, তিনি মনে করেন এর পেছনে হয়তো আন্তর্জাতিকভাবে ইন্ধন থাকতে পারে।

মসজিদে আক্রমণ কিংবা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের হুমকির এবং হামলার বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

জাপানি রাজকুমারী কেন তার বিয়ে পিছিয়ে দিচ্ছেন

কানাডায় শিক্ষার্থীদের ঠিকানায় রহস্যময় সেক্স টয়

পাকিস্তানী বন্দিকে মুক্ত করতে কাশ্মীরে হাসপাতাল তছনছ

টেস্ট ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন 'নড়াইল এক্সপ্রেস"

ছবির কপিরাইট BBC bangla
Image caption বাংলাদেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো: আবদুল হামিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুন:নির্বাচিত হয়েছেন। (ফাইল ছবি)

"এটা আসলে আমাদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত, কোনভাবে এটা বাংলাদেশ হতে পারে না। কারণ, আমরা হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই কিন্তু এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম এবং এভাবেই তো দেশ চলছিল, কিন্তু হঠাৎ করে এটা দুঃখজনক" বলেও সেসময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম-প্রধান দেশে এক ধরনের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেসব দেশের ঘটনা প্রবাহের আঁচ হয়তো বাংলাদেশেও পড়ছে।

বাংলাদেশে সম্প্রতি জঙ্গি কর্মকাণ্ড বেড়ে যাবার পেছনে বিদেশী শক্তির সম্পৃক্ততার বিষয়টিকে সেময় উড়িয়ে দেননি মি: হামিদ।

তিনি বলেন, "কারণ আপনি জানেন, বেশ কিছু কাল যাবতই চলছে, আফগানিস্তানে চলছে, এরপর পাকিস্তানে চলছে, এরপর ইরাকে চলছে এসব যুদ্ধ-টুদ্ধ বিভিন্ন ইলামিক কান্ট্রিতে চলছে, আমার মনে হয় ওখানের ঘটনা প্রবাহ পাশাপাশি মানে আন্তর্জাতিকভাবেও এর পেছনে কিছু ইন্ধন দেয়া- এগুলো হয়তো থাকতে পারে।"

মসজিদে হামলার মতো ঘটনাগুলো পাকিস্তানে হরহামেশাই দেখা যায়। তবে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেছিলেন, তিনি মনে করেন বাংলাদেশের পরিস্থিতি কখনোই পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো হবেনা।

তার মতে, "অনেকে অপচেষ্টা চালাতে পারে। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি ,বাংলাদেশে-পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মত একটা জঙ্গি চেহারায় নিয়ে যেতে পারবে না।"

তিনি বলেন কিছু কিছু রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। জঙ্গি কার্যক্রম বৃদ্ধির পেছনে সেসব দলের ধর্মীয় রাজনীতি উস্কানি দিতে পারে বলে রাষ্ট্রপতি ধারনা করছেন।

তবে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই এসব কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করেনা বলে রাষ্ট্রপতি মনে করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে এটা কঠোরভাবে দেখতে হবে পাশাপাশি সামাজিকভাবেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:

‘বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার নামে বাণিজ্য’

কানাডায় শিক্ষার্থীদের ঠিকানায় রহস্যময় সেক্স টয়

বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী রকেটের যাত্রা শুরু