বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর বিএনপি এবার কেন হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচি দেয়নি

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনগত লড়াইও চালাবেন বলে জানান দলটির মহাসচিব ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনগত লড়াইও চালাবেন বলে জানান দলটির মহাসচিব

বাংলাদেশে দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের প্রতিবাদে দলটির নেতাকর্মীরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছেন।

দুই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রথম দিনে শুক্রবার বিএনপির এসব বিক্ষোভ থেকে বড় রকমের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

এরপর দলটি কী ধরনের কর্মসূচি নিতে পারে, তা নিয়ে নানান আলোচনা রয়েছে।

তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাঁরা এ মুহূর্তে হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচি না দিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি নিয়ে এগুতে চান।

একইসাথে তাঁরা তাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য আইনগত লড়াইও চালাবেন বলে তিনি জানান।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, তাঁরা আসলে নির্বাচন সামনে রেখে তাদের দলের নেত্রীর পক্ষে মানুষের সহানুভূতি এবং জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপি হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচির দিকে না গিয়ে তাদের নেতা কর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখতে চাইছে।

রোহিঙ্গা 'গণহত্যার খবরের কারণে' রয়টার্সের সাংবাদিক আটক

বিএনপি নেতা মি. আলমগীর বলেছেন, "নেত্রী আমাদেরকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, আমরা সেই ধরনের হরতাল অবরোধের মতো কোন কর্মসূচিতে যাব না। আমরা নিয়মতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের যে প্রতিবাদ চলছে,সেভাবে আমরা সোচ্চার হবো, যেমন আমরা দু'দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছি।"

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের আগে এবং পরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলন যে সহিংস রূপ নিয়েছিল, এবার বিএনপি সে ধরণের আন্দোলনের দায় নিতে চায় না।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption রায়ের প্রতিবাদে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ

এছাড়া বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। সেই নির্বাচনের আগে বড় ধরনের কোন আন্দোলনে গিয়ে সেটাকে নির্বাচন পর্যন্ত লম্বা সময় টেনে নেয়া সম্ভব নাও হতে পারে বলে দলটির নেতাদের অনেকে মনে করেন।

একইসাথে খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সারাদেশের নেতা কর্মীরা সক্রিয় হয়েছে, সেটাকেও দলটি কাজে লাগাতে চাইছে।

এসব বিবেচনা করে বিএনপি এখন মিছিল বা জমায়েত করার মতো কর্মসূচি নিয়েই এগুতে চাইছে।

খালেদা জিয়া কি এবার নির্বাচন করতে পারবেন?

খালেদা জিয়াকে কত দিন জেলে থাকতে হতে পারে?

অন্যদিকে বিএনপি নেত্রীর পাঁচ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে রবি-সোমবারের মধ্যে তাঁর আইনজীবীরা আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিএনপির নেতারা মনে করছেন, আপিল করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেতে পারেন।

তবে দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ায় খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা, এনিয়ে বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

অবশ্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, তাদের নেত্রী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

"আমরা আইনজীবীদের সাথে যতদূর আলোচনা করেছি, এই সাজার মাধ্যমে শেষপর্যন্ত আমাদের নেত্রীকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না। এটা তারা করতে পারবে না। এটা সম্ভব হবে না।"

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া জেনারেল এরশাদের আমলে কয়েক বার বন্দী হয়েছিলেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি এক বছরের বেশি সময় জেলে ছিলেন।

সুখী হওয়ার পাঁচটি উপায়: অধ্যাপকের পরামর্শ

কিন্তু এবারই প্রথম তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে গেছেন। সেটা বিএনপির রাজনীতি কী প্রভাব ফেলবে, সেই প্রশ্নও উঠছে।

কিন্তু বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

"আমরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো না। বরং আমরা মনে করি যে, আমরা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবো। কারণ বেগম জিয়াকে আজকে যে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে, এটি জনগণ মেনে নেয়নি এবং মেনে নেবে না।"