হজে গিয়েও যৌন হয়রানি: টুইটারে নারীদের সম্মিলিত প্রতিবাদ

হজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্তম্ভের একটি ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption হজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্তম্ভের একটি

হজের মতো পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েও যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করে একদল মুসলিম নারী সোশ্যাল মিডিয়ায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।

অনেকটা 'মি-টু' আন্দোলনের অনুকরণে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের এই আন্দোলন চালাচ্ছেন 'মস্ক-মি-টু' হ্যাশট্যাগে।

মিসরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নারীবাদী লেখিকা এবং সাংবাদিক মোনা এলতাহাউই প্রথম তার অভিজ্ঞতার কথা এভাবে জানান। ২০১৩ সালে হজ করতে গিয়ে তিনি যৌন হেনস্থার শিকার হন।

মূলত তাঁর উদ্যোগেই #মস্ক-মি-টু আন্দোলন শুরু হয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় টুই্টারে এই হ্যাশট্যাগটি দু হাজার বারের বেশি রি-টুইট করা হয়েছে।

ফার্সি ভাষায় টু্‌ইটারে এটি এখন শীর্ষ দশটি ট্রেন্ডের একটি।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে কিভাবে ভিড়ের মধ্যে তাদের গায়ে হাত দেয়া হয়েছে বা ধাক্কা দেয়া হয়েছে, ইচ্ছে করে শরীরে শরীর ঘষা হয়েছে, তার বর্ণনা তুলে ধরেছেন অনেক মহিলা।

মুসলিমদের কাছে হজ হচ্ছে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্তম্ভের একটি। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজে যাওয়া কর্তব্য বলে মনে করা হয়।

প্রতি বছর প্রায় বিশ লাখ মুসলিম সৌদি আরবে হজ করতে যান। মক্কা নগরীকে ঘিরে বিশাল জনসমাগম হয়।

ইসলামে নারীকে পর্দা মেনে চলতে বলা হয়। প্রকাশ্যে চলাফেরার সময় মাথা এবং শরীর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে বলা হয়।

কিন্তু ইসলামের বিধান মেনে পোশাক পরার পরও তারা যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা পান না বলে অভিযোগ করেন ইরান, সৌদি আরব, মিশর এবং আফগানিস্তানের মতো রক্ষণশীল মুসলিম দেশের নারীরা।

'মস্ক-মি-টু' হ্যাশট্যাগে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক নারী অভিযোগ করছেন, এমনকি সবচেয়ে ধর্মীয় স্থানে পর্যন্ত তারা রেহাই পাচ্ছেন না। পুরো মাথা শরীর ঢেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার সময় তাদের সঙ্গে এধরণের আচরণ করা হচ্ছে।

ফারানাক আমিদি নামে একজন লিখেছেন, "মস্ক-মি-টু আন্দোলন আবারও প্রমান করেছে যে মেয়েরা পোশাকে কতটা রক্ষণশীল তার সঙ্গে যৌন হয়রানির কোন সম্পর্ক নেই। মেয়েরা কি পরছে সেটা নয়, পুরুষদের আসলে মেয়েদের কি চোখে দেখার এবং কি আচরণের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, তার সঙ্গেই এর সম্পর্ক।"

রুবাহদখত নামে একজন লিখেছেন, সৌদি আরবের মদিনায় এক যুবক আমার শরীর স্পর্শ করেছিল। তখন আমার বয়স ছিল ১৫। আর লোকটির বয়স হবে বিশের কোঠায়। আমি ভেবেছিলাম মদিনা একটি নিরাপদ নগরী। কিন্তু আমি আসলে ভুল জানতাম। আমি এ ঘটনা কখনোই ভুলবো না এবং ক্ষমা করতে পারবো না।"

ইরানের অনেক নারী এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছেন যে হিজাব পরলে সেটা তাদের যৌন হামলা থেকে সুরক্ষা দেয়।

ইরানে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। ইরানের অনেক শহরে এমন পোস্টার সাঁটা আছে যেখানে পর্দা বিহিন নারীকে মোড়ক খোলা ক্যান্ডি বা ললিপপের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা মাছি আকর্ষণ করছে।

ইরানের প্রায় সব সরকারি অফিস বা ভবনে এরকম একটি শ্লোগান লেখা আছে, "হিজাব কোন বিধিনিষেধের সীমা নয়, এটি আপনার সুরক্ষা।"

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
ইরানে হিজাবের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে একদল নারী

সম্প্রতি ইরানে বাধ্যতামূলকভাবে হিজাব পরার বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ শুরু হয়, তাতে অংশ নেয়ায় ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

তেহরানে এক নারী প্রকাশ্যে তার মাথার হিজাব খুলে ফেলে এই প্রতিবাদ শুরু করেন। এটির নাম দেয়া হয়েছে 'দ্য গার্লস অব রেভ্যুলেশন স্ট্রীট'।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় 'মস্ক-মি-টু'র বিরুদ্ধেও মুখ খুলেছেন অনেকে। তারা মার্কিন লেখিকা মোনা এলতাহাউইর সমালোচনা করছেন এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক শুরু জন্য।