বিশ্বজুড়ে চলছে রহস্যময় স্পাই রেডিও, শুক্রবার পৃথিবীর খুব চলে আসছে গ্রহাণু
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিশ্বজুড়ে চলছে রহস্যময় স্পাই রেডিও, শুক্রবার পৃথিবীর খুব চলে আসছে গ্রহাণু

মাত্র সপ্তাহ দেড়েক আগে এই গ্রহাণুটি সম্পর্কে প্রথম জানা যায়। এর আকার ৪০ মিটারের মতো। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী শুক্রবার এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাবে।

এর নাম দেওয়া হয়েছে ২০১৮ সিবি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে যে দূরত্ব তার পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম দূরত্বে চলে আসবে গ্রহাণুটি।

গ্রহাণুর সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষের কারণেই চাঁদের সৃষ্টি হয়েছিলো। আর পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো ডায়নোসর।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা অ্যারিজোনায় গ্রহাণু সম্পর্কিত যে প্রকল্প পরিকল্পনা করছে, তারাই ২০১৮ সিবি-কে প্রথম চিহ্নিত করে। যেসব গ্রহাণু পৃথিবীর জন্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে সেগুলো নিয়েই কাজ করছে এই প্রকল্পটি।

নাসা বলছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিবেচনায় এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসবে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে এটা ঠিক এতো কাছে আসবে না যা আমদের এই গ্রহটির জন্যে হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এতে ভয়ের কিছু নেই।

ঠিক পাঁচ বছর আগে, ২০১৩ সালে এরকমই একটি গ্রহাণু ঢুকে পড়েছিলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে। আছড়ে পড়েছিলো রাশিয়ার চেলিয়াবিন্সক এলাকায়।

ছবির কপিরাইট NASA
Image caption নাসার ডিজাইন করা একটি গ্রহাণু

নাসার সেন্টার ফর নিয়ার আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজের ম্যানেজার পল চোদাস বলেছেন, ২০১৮ সিবি যদিও আকারে ছোট্ট, কিন্তু এটি রাশিয়াতে পড়া গ্রহাণুটির চেয়েও অনেক বড় হতে পারে।

তিনি বলেন, এই আকারের গ্রহাণু সাধারণত পৃথিবীর কাছাকাছি আসে না। বছরে হয়তো একবার কি দু'বার আসতে পারে। সিবি ২০১৮ পৃথিবীর প্রায় ৪৩ হাজার মাইল কাছে চলে আসবে। কিন্তু এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

এনিয়ে শুনুন নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাৎকার। শুনতে হলে উপরের অডিও লিঙ্কে ক্লিক করুন।

পৃথিবী থেকে চাঁদের যে দূরত্ব সেই একই দূরত্বে গত সপ্তাহেই উড়ে গেছে আরো একটি গ্রহাণু- ২০১৮ সিসি।

এটি চলে এসেছিলো পৃথিবী থেকে প্রায় সোয়া এক লক্ষ মাইল দূরে। আর এর আকার ছিলো ১৫ থেকে ৩০ মিটারের মতো।

রহস্যময় স্পাই রেডিও

সারা বিশ্বেই মানুষ বছরের পর বছর ধরে রহস্যময় কিছু রেডিও অনুষ্ঠান শুনে আসছে। যেকোনো জায়গাতেই এসব রেডিও শোনা যায়। শোনা যায় শুধু একটি রেডিও সেটের মাধ্যমেই।

এগুলোকে বলা হয় স্পাই রেডিও। বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা গর্ডন কোরেরা এরকম রহস্যময় রেডিও স্টেশনের দুনিয়া অনুসন্ধান করে দেখেছেন।

তিনি বলছেন, বিভিন্ন কোডের মাধ্যমে এসব স্টেশন থেকে গোয়েন্দাদেরকে আসলে কিছু বার্তা দেওয়া হয়। এসব রেডিও পরিচিত নম্বর স্টেশন হিসেবে। এবং যে কেউই এসব অনুষ্ঠান শুনতে পারেন।

"এসব রেডিও আপনি সারা বিশ্বেই শুনতে পারেন - রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কিউবা, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনেও।"

Image caption এসব রেডিও আপনি সারা বিশ্বেই শুনতে পারেন - রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কিউবা, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনেও

তিনি বলছেন, "এসব রেডিও স্টেশন খুব সহজভাবে কাজ করে এবং সেটাই তাদের প্রধান আকর্ষণ। এসব অনুষ্ঠানে অসংখ্য নম্বর প্রচার করা হয়। সেগুলো থেকে শুধু তারাই অর্থ বের করতে পারে যাদের কাছে এসবের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গোপন বার্তা বের করার জন্যে কোড বই আছে। যেমন ধরুন - ১,২,৫,৮,৭,৯,৪,৮ - এটা হয়তো হতে পারে কোনো একটি পরমাণু কর্মসূচি চুরি করার গোপন সঙ্কেত।"

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এসবের ভেতর দিয়ে যে একটি বিশেষ বার্তা দেওয়া হচ্ছে সেটি গোয়েন্দারা কিভাবে বুঝতে পারেন?

গর্ডন কোরেরা বলছেন, এসব রেডিও স্টেশন থেকে প্রায়শই গান বাজানো হয়। এই গান দিয়ে বোঝানো হয় যে বার্তাটি শুরু হতে যাচ্ছে।

"আপনি যদি একজন ব্রিটিশ গোয়েন্দা হন, তাহলে হয়তো পুরনো একটি ব্রিটিশ লোকগীতিটি শুনতে পাবেন। আর আপনি যদি দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা হন তাহলে শুনতে পারেন আশির দশকের ধ্রুপদী কোনো সঙ্গীত।"

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এসব নম্বর স্টেশনগুলোর ব্যাপারে আমরা জানতে পারি রেডিরও ব্যাপারে অপেশাদার লোকজনের কাছ থেকে। এরকম একজন লুইস বুশ। তিনি একটি বই রচনা করেছেন যেখানে স্যাটেলাইট থেকে তোলা কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

এসব ছবিতে যেসব জায়গা থেকে সারা বিশ্বে 'নম্বর রেডিও'র অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে সেগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

Image caption গত কুড়ি বছরে ইউরোপ ও অ্যামেরিকায় এরকম বহু গোয়েন্দা ধরা পড়েছেন যারা এসব নম্বর রেডিও ব্যবহার করছিলেন

এসব রেডিও ব্যাপকভাবে চালু ছিলো শীতল যুদ্ধের সময়। এর মধ্যে প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে কিন্তু এসব নম্বর রেডিও এখনও হারিয়ে যায় নি।

গত কুড়ি বছরে ইউরোপ ও অ্যামেরিকায় এরকম বহু গোয়েন্দা ধরা পড়েছেন যারা এসব নম্বর রেডিও ব্যবহার করছিলেন।

"এই প্রযুক্তির সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হচ্ছে যে এসব রেডিও অনুষ্ঠান শোনার জন্যে কিম্বা বিশেষ বার্তাটি গ্রহণ করার জন্যে তার বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। এজন্যে শুধু মাত্র একটি রেডিওর দরকার এবং এজন্যে আপনাকে কেউ সন্দেহও করবে না। এছাড়াও ডিজিটাল নজরদারির এই আধুনিক বিশ্বে এই নম্বর রেডিওর আরো একটি সুবিধা হচ্ছে সেখান থেকে বার্তা গ্রহণের জন্যে আপনাকে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে না। ফলে আপনাকে কেউ অনুসরণও করতে পারবে না, বলেন গর্ডন কোরেরা।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, বর্তমান বিশ্বেও এরকম বহু নম্বর রেডিও তাদের সম্প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এবং কোথাও না কোথাও, গোয়েন্দারা, নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে, এসব নম্বর রেডিও থেকে বিশেষ বার্তা গ্রহণ করছেন।

এসপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান।