পুরুষ সেজে দুটো বিয়ে করে ভারতে গ্রেপ্তার ছলনাময়ী নারী

কৃষ্ণ সেন (বাঁয়ে) প্রথম বিয়ে করেছিলেন ২০১৪ সালে।
Image caption কৃষ্ণ সেন (বাঁয়ে) প্রথম বিয়ে করেছিলেন ২০১৪ সালে।

অভিযোগটা ছিল: পণের জন্য স্ত্রীর ওপরে অত্যাচার করছে স্বামী। ভারতের নানা থানায় এধরণের অভিযোগ অনেকই জমা পড়ে। অত্যাচারী স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পালিয়ে যায়। এক্ষেত্রেও সেই অত্যাচারী স্বামী পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

অবশেষে কৃষ্ণ সেন নামের সেই স্বামী গ্রেপ্তার হন শৈলশহর নৈনিতালের কাছে কাঠগোদাম এলাকা থেকে।

পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে এসেছিল সেই স্বামীকে। চলছিল জিজ্ঞাসাবাদ। তখনই ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে এল।

"আমরা তো পণের জন্য স্ত্রীর ওপরে অত্যাচার চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিলাম কৃষ্ণ সেন নামের এক পুরুষকে। জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়ে সন্দেহ হয় যে গ্রেপ্তার হওয়া কৃষ্ণ সেন আদৌ পুরুষ তো? জেরার মুখে সে স্বীকার করে যে সে আসলে নারী," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন নৈনিতালের সিনিয়র পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট জন্মেজয় খান্ডুরি।

এরপরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। সেখানেও প্রমাণিত হয়েছে যে সেই অত্যাচারী স্বামী কৃষ্ণ সেন আসলে একজন নারী।

আসল নাম সুইটি সেন, বাড়ি পার্শ্ববর্তী উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে।

তাঁর চুল আর পোশাক-আশাক দেখে যে কেউই মনে করবেন যে তিনি নারী নন, পুরুষ।

এতটা জানার পরে পুলিশ যখন আরও তদন্ত শুরু করে, তখন জানা যায় সুইটি সেন নামে ওই নারী একজনকেই বিয়ে করে পণের জন্য অত্যাচার চালাচ্ছিলেন তা নয়। আগেও একটা বিয়ে করেছেন ওই নারী।

Image caption পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর পুরুষ বেশে কৃষ্ণ সেন।

আরও দেখুন:

ভিক্ষার নামে বাণিজ্য চলছে?

জমিয়ে রাখা শুক্রাণু থেকে যমজ শিশুর জন্ম ভারতে

মি. খান্ডরী বলছিলেন, "ফেসবুকে পুরুষের পোশাক পরে একটি প্রোফাইল তৈরি করেছিলেন ধৃত ব্যক্তি। তা দিয়েই ২০১৩ সাল থেকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে আলাপ জমান। পরের বছরই নৈনিতালের একটি মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং শেষে তাকে বিয়ে করেন সুইটি।"

সেই বিয়ের কথা লুকিয়ে ২০১৬ সালে আবারও সুইটি নিজের জালে ফাঁসান হলদওয়ানির বাসিন্দা আরেক নারীকে।

দুই স্ত্রীর কাউকেই নিজের শরীর নাকি দেখাতেন না পুরুষ রূপী নারী সুইটি সেন।

তবে একজন স্ত্রী ধরে ফেলেছিলেন কৃষ্ণ সেন যে আসলে একজন নারী। অভিযোগ, সেই স্ত্রীর মুখ টাকার লোভ দেখিয়ে বন্ধ করে রেখেছিলেন সুইটি।

গতবছর প্রথম স্ত্রী অভিযোগ করেন যে তাঁর স্বামী পণের জন্য অত্যাচার করছেন।

সেই অভিযোগের তদন্তে নেমেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে 'কৃষ্ণ সেন'কে।

পুলিশ বলছে, প্রথমে তো স্বামীর বিরুদ্ধে পণের জন্য অত্যাচারেরই মামলা দায়ের হয়েছিল। কিন্তু এখানে তো স্বামী-ই নেই কেউ।

তাই নতুন করে জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়েছে পুরুষ রূপী নারী সুইটি, ওরফে কৃষ্ণ সেনের বিরুদ্ধে।

আদালত ওই নারীকে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়