এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

কবি ও সাংস্কৃতিক সংগঠক টি এম আহমেদ কায়সার

বিবিসি বাংলার এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকারের অতিথি টি এম আহমেদ কায়সার - কবি এবং লন্ডনের সাংস্কৃতিক সংগঠন 'সৌধ'-এর প্রধান ব্যক্তিত্ব।

সৌধ এমন একটি সংগঠন যারা ব্রিটেনের বিভিন্ন বাংলা গান ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের নিরীক্ষাধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে - এসব অনুষ্ঠানে উপমহাদেশীয় সঙ্গীতকে গান, কবিতা, এবং চলচ্চিত্রিক দৃশ্যের সমন্বয়ে তুলে ধরা হয়।

এর লক্ষ্য হচ্ছে প্রধানত ব্রিটিশ সমাজের মূলধারার সামনে বাংলা গান এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতকে তুলে ধরা। এ ছাড়া তারা রাধারমণ উৎসব নামে একটি

টি এম আহমেদ কায়সারের জন্ম সিলেটে। তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কবিতা ও চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন।

"স্কুল জীবন থেকেই আমার কবিতার মধ্যে বড় হয়ে ওঠা, লেখালিখি করতাম - গল্প ও কবিতা। আর কবিতার সঙ্গে একাবর যাদের বন্ধন তৈরি হয়, কবিতা থেকে অন্যান্য শিল্পমাধ্যম - যেমন সঙ্গীত বা চিত্রকলা - কিন্তু খুব দূরের বিষয় নয়" - বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন টি এম আহমেদ কায়সার।

"বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জড়িয়ে পড়লাম চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে। বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তুলি চোখ ফিল্ম সোসাইটি। আমি মনে করি চলচ্চিত্রে তারাই সফল যারা সেলুলয়েডে কবিতা নির্মাণ করতে পেরেছেন - যেমন সত্যজিৎ রায়, আকিরা কুরোসাওয়া বা ওয়াল্টার সালাস যার ছবি আমাকে খুবই মুগ্ধ করে।"

"সঙ্গীতের ক্ষেত্রে আমি প্রধানত ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল মিউজিক শুনতাম। হঠাৎ নিখিল ব্যানার্জির সেতার শুনে ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে আকৃষ্ট হই আমি। তার পরে রবিশংকর, সুব্রামানিয়াম, আলি আকবর খানকে শুনে এই সঙ্গীতের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ি।"

যুক্তরাজ্যে আসার পর তিনি এখন থাকেন উত্তর ইংল্যান্ডের লিডস শহরে - কিন্তু তার সংগঠন 'সৌধ' অনুষ্ঠান করছে রাজধানী লন্ডন সহ ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে।

এসব অনুষ্ঠানে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতকে কবিতা ও চলচ্চিত্রের সহায়তায় তুলে ধরা হয়।

টি এম আহমেদ কায়সার বলছিলেন, "সবসময়ই মনে করা হয় যে ক্লাসিকাল মিউজিক যারা শিখেছে বা জানে তারাই শুধু এটা শুনবে। আমাদের মত যারা খুব টেকনিকাল না - তাদের জন্য এ মিউজিক নয় - এরকম একটা ধারণাও আছে।"

"তখন আমার মনে হলো ক্লাসিকাল মিউজিক সবার জন্য, যাদের মনে কবিতার সৌন্দর্য খেলা করে তাদের মতো করে একে তুলে ধরতে হবে।"

আমরা যেসব অনুষ্ঠান করছি তা মূলত নন-এশিয়ানদের জন্য। তারা হয়তো বিটোফেন-বাখ-মোৎজার্ট শুনেছেন কিন্তু কখনো উপমহাদেশের উচ্চাঙ্গ সংগীত শোনেন নি। অনেক এশিয়ানও হয়তো এর সাথে পরিচিত নন।"

"তাদের কাছে একে বোধগম্য করার জন্য কোন একটা রাগের যে 'মুড' - তা বিশ্বের বড় কবিদের কবিতার মধ্যে দিয়ে একটা ছবির মতো করে তুলে ধরছি। তারা তখন একটা দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে।

"আমরা ৯০ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ দর্শকের সামনে এসব অনুষ্ঠান করছি। তাদের কবিতার মধ্যে দিয়ে একটা রাগের ভাব তুলে ধরা হয়। কখনো এর সাথে চলচ্চিত্রিক দৃশ্য, নাচ বা পেইন্টিং ব্যবহার করা হয়।"

ছবির কপিরাইট .
Image caption সৌধ-এর ওয়েবসাইট

টি এম আহমেদ কায়সারের সংগঠন সৌধ ব্রিটেনের বিথ্যাত সাংস্কৃতিক উৎসব এডিনবার্গ ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছে, অনুষ্ঠান করেছে লন্ডনের সাউথ ব্যাংক সেন্টার বা পার্সেল রুমে। লন্ডন ছাড়াও বার্মিংহ্যাম, লিডস বা ম্যানচেস্টারের মত শহরগুলোয় তাদের অনুষ্ঠান হয়েছে।

২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারা ৭০-৮০টির মত অনুষ্ঠান করেছেন।

গত পাঁচ বছর ধরে তারা কয়েকটি বাংলা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল চালু করেছেন।

রাধারমণ সোসাইটি নামে আরেকটি সংগঠনের ব্যানারে টি এম কায়সার একটি লোকসঙ্গীত উৎসব, একটি 'বাউল ও বৈষ্ণব গানের উৎসব' শুরু করেছেন - যা প্রতিবছর পূর্ব লন্ডনের 'রিচ মিক্স' থিয়েটারে হয় ।

এ ছাড়া 'রাধারমণ ফেস্টিভ্যাল' নামে গানের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক গণচেতনাকে তুলে ধরার উৎসব ও তারা করছেন।

তিনি বলছিলেন, মূলত ব্রিটেনে যারা জীবিকা বা কাজের সূত্রে এসেছেন এবং তাদের সাংগীতিক দক্ষতা একটা স্তর পার হয়েছে - তারাই এসব অনুষ্ঠান করছেন।

ব্রিটেনে জন্মানো এবং বড় হওয়া বাঙালি পরিবারের ছেলেমেয়েরা কি এসব অনুষ্ঠান করছে?

মি, কায়সার বলছেন, করছে - তবে তার সংখ্যাটা খুব বেশি নয়।

"আমরা যে অনুষ্ঠান করছি তা টিকিট কিনে লোকে শুনতে আসেন। ফলে তারা ওই স্তরের শিল্পী না হলে আমরা তাদের সুযোগ দিতে পারি না।"

"তবে এটা বলতে পারি যে লন্ডনে এখন দরবার ফেস্টিভ্যালের মত অনুষ্ঠান হচ্ছে যেখানে এদেশের এশিয়ান পরিবারের ছেলেমেয়েরা যাচ্ছে - তাদের কাছে উপমহাদেশের সংস্কৃতির সেরা নমুনা তুলে ধরা হচ্ছে ।"

"এতে তারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে, ফলে আমি আশা করি যে তাদের মধ্যে থেকেও একসময় সেরকম শিল্পী বেরিয়ে আসবে।"