হজ করতে গিয়ে যৌন হয়রানি: মুখ খুললেন আরো এক নারী

সৌদি আরব হজ নারী
ছবির ক্যাপশান,

আনগি আনগুনি

সৌদি আরবে হজ করতে গিয়ে মহিলাদের যৌন হয়রানির শিকার হবার অভিযোগ ওঠার পর অনেক মহিলাই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

আনগি আনগুনি নামে একজন মহিলা বিবিসিকে বলছেন, ২০১০ সালে মক্কায় হজ করতে গিয়ে তিনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।

তিনি বলছিলেন, পবিত্র মসজিদের বাইরে একটা সুপারমার্কেটে একজন লোক তার গায়ে হাত দেয়।

"লোকটি আমার নিতম্ব খামচে ধরার চেষ্টা করলো, চাপ দিতে শুরু করলো"- বলেন তিনি।

এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখ একজন পাকিস্তানী মহিলা ফেসবুকে প্রথম লেখেন - হজ করতে গিয়ে তার যৌন হয়রানির শিকার হবার কথা।

এর পর থেকেই এ নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, টুইটার

ছবির ক্যাপশান,

অনেক নারীই অনলাইনে এসব ঘটনা নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন

মিশরীয়-আমেরিকান নারীবাদী মোনা এলতাহাবি টুইটারে 'মস্কমিটু' নামে একটি হ্যাশট্যাগ শুরু করেন। এর পর একে সমর্থন দিতে এবং এরকম আরো ঘটনার কথা প্রকাশ করতে শুরু করেন অনেক মুসলিম মহিলা।

এরকমই একজন আনগি আনগুনি।

তার কথা - "আমি একেবারেই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমার মা ঠিক দুই মিটার দুরে দাঁড়ানো। কিন্তু আমি এত ভয় পেয়ে গেলাম যে চিৎকার করতেও পারছিলাম না।"

শুধু তাই নয়, আনগি বলছিলেন, তার বোনের গায়ে হাত দেয় একজন রক্ষী - পবিত্র মসজিদের ভেতরেই।

আমি গার্ডটির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললাম: "আপনি কি করছেন? আপনার কোন অধিকার নেই আমার বোনের গায়ে হাত দেয়ার।"

ছবির উৎস, বিবিসি

ছবির ক্যাপশান,

পাকিস্তানের একজন মহিলা প্রথম এমন অভিযোগ তোলেন ফেসবুকে

পুলিশের কাজ লোককে সুরক্ষা দেয়া। কিন্তু আমি যখন তাকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করছি 'আমার বোনের সাথে কি করছেন আপনি?'- তখন সে শুধুই হাসছিল।

আনগি একা নন। তার মতো অনেকেই হজ করতে গিয়ে যৌন হয়রানির শিকার হবার কথা বলতে শুরু করেছেন।

আনগি বলছেন, 'আমি লোকটিকে বললাম, একজন মুসলিম হিসেবে আপনি এটা করতে পারেন না। আপনি কেন একটা পবিত্র স্থানে এরকম করছেন?"

ছবির উৎস, বিবিসি

ছবির ক্যাপশান,

মিশরীয় একজন নারীবাদী কর্মী এ নিয়ে টুইটারে একটি হ্যাশট্যাগ চালু করেন

তিনি বলেন,"এ জায়গাটা নারীদের জন্য নিরপদ নয়। আমি বলবো, এটা গোপন করবেন না, অন্যদের জানতে দিন, এবং নিজে খুব সাবধান থাকুন।"

এসব ঘটনার কথা বেরুনোর পর লন্ডনের সৌদি আরব দূতাবাস থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়,"সৌদি আরব এরকম আক্রমণের ঘটনা গুরুত্বে সাথে নিয়ে থাকে। মক্কার পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী এসব রিপোর্ট পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে দেখছে।"

এতে আরো বলা হয়, দোষীদের বিচারে আওতায় আনতে সবরকম পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।