পিছিয়ে গেল খালেদা জিয়ার জামিনের সম্ভাবনা, আদালত চত্বরে বিক্ষোভ

খালেদা জিয়া ছবির কপিরাইট Munir uz Zaman
Image caption খালেদা জিয়া

বাংলাদেশে দুর্নীতি মামলায় কারা-দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার আজ (রোববার) জামিন হয়নি।

জামিনের আবেদনের ওপর শুনানির পর হাইকোর্ট বলেছে, বিচারিক আদালত থেকে রায়ের নথিপত্র পাওয়ার পর তারা সিদ্ধান্ত দেবেন।

আদালতের কাছে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে গত ৮ই ফ্রেবুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। সোমবার ঐ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে এবং তার জামিনের পক্ষে হাইকোর্টে আপীল করেন মিসেস জিয়ার আইনজীবীরা।

বিকেলের দিকে ৪৫ মিনিটের মত শুনানির পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি সহিদুল করিম তাদের সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর হাইকোর্ট চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শতাধিক বিএনপি পন্থী আইনজীবী।

Image caption শুনানির পরপরই বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ বিক্ষোভ

এজলাসে বিশৃঙ্খলা

হাইকোর্ট চত্বর থেকে বিবিসি বাংলার শায়লা রুখসানা জানান, শুনানি শুরু হওয়ার আগে আদালতের এজলাস কক্ষে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পন্থী কয়েকশ আইনজীবী ভিড় করে।

এজলাসে ঢুকে বিচারকরা এত মানুষ দেখে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে এজলাস থেকে বেরিয়ে যান। তার আগে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন - "এটা তো চাপ সৃষ্টি করার মতো অবস্থা। এভাবে তো কাজ করা যায়না"

এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বিএনপি পন্থী অনেক আইনজীবীকে এজলাস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

মিনিট পনের পর এজলাসে ফিরে আসেন বিচারপতি দুজন।

আরও পড়ুন:

কিভাবে বলিউড সুপারস্টার হয়ে উঠেছিলেন শ্রীদেবী?

সিরিয়া নিয়ে কি পরাশক্তিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বাধবে?

যুক্তিতর্ক

খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বয়সের কারণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার প্রয়োজনের যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি বলেন- তিন বারের মত নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রী জামিন পাওয়ার যোগ্য।

এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে জামিনের আবেদন চ্যালেঞ্জ করে বলেন - বাংলাদেশের ইতিহাসে এতিমের টাকা তছরুপের নজির এটাই প্রথম।

মি আলম তার বক্তব্যে দুর্নীতির মামলায় জেনারেল এরশাদের এবং ভারতের সিনিয়র রাজনীতিবিদ লালু প্রসাদ যাদবের কারাদণ্ড হওয়ার নজির উপস্থাপন করেন। তবে আদালত একে ভিন্ন প্রসঙ্গ বলে মন্তব্য করেন।