নিদাহাস ট্রফি: ফেভারিট কি আইপিএল খেলা ভারতীয়রাই?

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption ১০ই মার্চ বাংলাদেশ শ্রীলংকার বিপক্ষে মাঠে নামবে

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল আজ কলম্বোর উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকার মধ্যে একটি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ শেষ জয় পেয়েছিল শ্রীলংকার মাটিতে। সেটি ছিল বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

এই এক বছরের ব্যবধানে চারটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেললেও জয় পায়নি বাংলাদেশ।

এবছরের জানুয়ারি মাসে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে হাতে চোট পাওয়ার পর সাকিব আল হাসান আর মাঠে নামতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে তাকে অধিনায়ক করে স্কোয়াডে রাখা হলেও, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুসরণ করে সাকিবকে সিরিজের দল থেকে বাদ দেয়া হয়।

এই সিরিজে বাংলাদেশের দলটি কেমন হয়েছে এর বিশ্লেষণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমের মতে, বাংলাদেশের এই দলটি অভিজ্ঞ তবে সেটা অন্য দুটি ফরম্যাটে।

তিনি বলেন, "টি-টোয়েন্টিতে এখনো বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত নয়। এটা বেশ চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে। আর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে না।"

এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের ব্যর্থতাও এই সিরিজে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ওপর মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করেন মি. ফাহিম।

ক্রিকেট, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption মাঝারি মানের দলকে উজ্জীবিত করতে পারেন হাথুরুসিংহে- নাজমুল আবেদীন ফাহিম

নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, ভারতের যে ক্রিকেটাররা আছে তারাও যথেষ্ট শক্তিশালি ক্রিকেটার। প্রধান ক্রিকেটাররা না থাকলেও যারা আছেন তারা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে পারফর্ম করেই দলে ঢুকেছেন। তাই দ্বিতীয় একাদশ ও প্রথম একাদশে খুব পার্থক্য নেই।

তিনি যোগ করেন, "ভারতের দলে নতুন যারা ঢুকছেন তারা নিজেদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাল করতে অনেক বেশি মুখিয়ে থাকবেন। সেখান থেকে তাদের মোকাবেলা করা যেকোনো দলের জন্য কঠিনই হবে।"

শ্রীলংকা ক্রিকেট দল বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই জয় নিয়ে ফিরেছে। তাই এই দলটির যে বাজে সময় ছিল সেটা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে।

নাজমুল আবেদীন ফাহিমের মতে, "ঘরের মাটিতে খেলা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স শ্রীলংকাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। তবে এটা চাপও হতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের চেষ্টা থাকতে হবে এটা ব্যবহার করা।"

মাঝারি মানের দলের জন্য চন্ডিকা হাথুরুসিংহে আদর্শ কোচ বলে মনে করেন মি. ফাহিম। এই শ্রীলংকান দলটিকে উজ্জীবিত করে তুলেছেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশের কোচ হিসেবেও তিনি এই ভূমিকা পালন করেছেন।

অভিজ্ঞতায় কী এগিয়ে বাংলাদেশ?

শ্রীলংকার দলটির সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলটির অভিজ্ঞতার খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়না।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের উইকেট বিবেচনায় নুয়ান প্রদীপ ও সুরঙ্গ লাকমলকে দলে ফিরিয়েছে শ্রীলংকা।

বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান পাকিস্তান সুপার লিগে খুব বেশি উইকেট না পেলেও কম খরুচে বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখছেন সীমিত রানে।

রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজের বোলিং প্রেমাদাসায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিক থেকে ভারতের বোলারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা খুব বেশি নেই। পেস বোলারদের মধ্যে ভারতের দলে আছেন জয়দেব উনাদকাট, মোহাম্মদ সিরাজ, ভিজেয় শর্মা ও শার্দুল ঠাকুর।

যাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন জয়দেব উনাদকাট।

বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা উভয় দলের সেরা দুই অলরাউন্ডার ও নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ নেই।

ভারত রোহিত শর্মাকে অধিনায়ক করে প্রায় নবাগত একটি স্কোয়াড করলেও, এই দলটি নিয়মিত টি-টোয়েন্টি খেলে থাকে।

বিশ্বের অন্যতম একটি টি-টোয়েন্টি লিগ, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নিয়মিত পারফর্মারদের নিয়েই গড়া হয়েছে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ভারতের স্কোয়াড।

ওয়াশিংটন সুন্দর, দীপক হুদা আইপিএলে নিয়মিত ভাল করে এই দলে সুযোগ পেয়েছেন।

ভারতের ক্রিকেট দলের নির্বাচকরা জানিয়েছেন যে বিশ্রামের খাতিরেই ভিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনির মত সিনিয়র ক্রিকেটারদের এই সিরিজের দলে রাখা হয়নি।

তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি তিন দলের অধিনায়কদের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা।

ভারতের রোহিত শর্মা ৭৪ ম্যাচে ১৬৭৯ রান তোলেন। গড় ৩০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৭৩।

বাংলাদেশের মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৬২ ম্যাচে ২০ গড়ে ৯২২ রান তোলেন। তার স্ট্রাইক রেট ১১৭.১৭।

শ্রীলংকার দিনেশ চান্দিমাল টি-টোয়েন্টি মাপকাঠিতে কিছুটা পিছিয়ে আছেন। ৫০ ম্যাচে ১৮ গড়ে ৭২২ রান তোলেন। তার স্ট্রাইক রেট ১০৩।

ফাইনাল ম্যাচসহ মোট ৭ ম্যাচের এই টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দলে ৩জন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান রাখা হয়েছে।

তারা হলেন, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও নুরুল হাসান সোহান।

সম্পর্কিত বিষয়