নরওয়ের পাহাড়ের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ বীজের গুদাম, বাংলাদেশে কিভাবে বীজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

নরওয়ের পাহাড়ের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ বীজের গুদাম, বাংলাদেশে কিভাবে বীজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে

সারা বিশ্বের মূল্যবান সব বীজ সংরক্ষণ করে রাখার জন্যে ১০ বছর আগে নরওয়েতে তৈরি করা হয়েছে গ্লোবাল সীড ভল্ট।

গত সপ্তাহে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৭০ হাজার শস্যবীজের একটি চালান পাঠানো হয় এই সংরক্ষণাগারে। ফলে এই ভল্টে বীজের সংখ্যা এখন ১০ লাখেরও বেশি।

এসব বীজ রাখা আছে আর্কটিক অঞ্চলের স্ভালবার্ডে একটি পাহাড়ের ভেতরে।

বিবিসির বিজ্ঞান বিষয়ক সংবাদদাতা ডেভিড সুকমান গিয়েছিলেন ওই ভল্টটি দেখতে। তিনি বলছেন, বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শস্যের বৈচিত্র্য ধরে রাখা খুবই জরুরী। খরা, বন্যা কিম্বা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাদ্যশস্য যাতে কখনো হুমকির মুখে না পড়ে সেকারণেই এই উদ্যোগ।

বীজ জমা রাখার জন্যে বছরে প্রায় দু'বার খুলে দেওয়া হয় এই ভল্ট। গত সপ্তাহে যেসব বীজ রাখা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রোটিনের উৎস - ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি।

ছবির কপিরাইট WOLFGANG STUPPY
Image caption ভল্টের ভেতরে সারি সারি করে রাখা বীজ

গ্লোবাল সীড ভল্টে আছে তিনটি চেম্বার। তার একটি ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সব বীজের প্যাকেটে ভর্তি হয়ে গেছে।

পাহাড়ের ভেতরে তৈরি একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকেছেন ডেভিড সুকমান। ভল্টের প্রবেশ মুখ এটি। তিনি বলছেন, সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এই এলাকা ১৩০ মিটার উপরে।

"জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু অঞ্চলের সব বরফও যদি গলে যায়, তারপরেও এই সংরক্ষণাগারটি নিরাপদ থাকবে," বলেন তিনি।

যতোই ভেতরে যাওয়া হয় ততোই ঠাণ্ডা। এখানে গুদাম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগেই এটি অক্ষত থাকে।

"এই পরিবেশে বীজ অনেক দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত থাকতে পারে। এটা নির্ভর করে কোন ধরনের শস্য তার উপর। কোনো কোনো বীজ চার হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকতে পারে," বলেন ভল্টের একজন কর্মকর্তা।

গুদামের ভেতরে ঢুকে দেখা গেলো সেখানে তাপমাত্রা মায়নাস আঠারো ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারি সারি করে রাখা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করে আনা বীজ।

এসব বীজ আগে রাখা হতো কাঁচের টেস্টটিউবে আর এখন প্লাস্টিকের তৈরি ব্যাগে।

ছবির কপিরাইট ROSSI GRAZIANO
Image caption ইটালি থেকে বিনের এই বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে

গত বছর খারাপ আবহাওয়ার কারণে ভল্টের প্রবেশ মুখ প্লাবিত হয়েছিলো তবে যেসব ফ্রোজেন চেম্বারে বীজ রাখা সেখানে পানি পৌঁছাতে পারেনি। এরপর তীব্র গরম ও ঠাণ্ডার হাত থেকে এটিকে রক্ষার জন্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সারা বিশ্বের জিন ব্যাঙ্কে প্রায় ২২ লাখ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বীজ সংরক্ষিত আছে যা ধীরে ধীরে গ্লোবাল সীড ভল্টে নিয়ে আসা হবে।

বাংলাদেশে কিভাবে বীজ সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে এনিয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেছেন কৃষিবিজ্ঞানী এবং বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. আব্দুল হামিদ। তার সাক্ষাৎকারটি শুনতে হলে উপরের অডিও লিঙ্কে ক্লিক করুন।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান।