রাশিয়ার গুপ্তচরকে হত্যার চেষ্টায় 'নার্ভ এজেন্ট' রাসায়নিক প্রয়োগে তোলপাড়

সাবেক রুশ গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়েকে হত্যার চেষ্টায় স্নায়ুকে আঘাতকারী রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে ছবির কপিরাইট EPA/ YULIA SKRIPAL/FACEBOOK
Image caption সাবেক রুশ গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়েকে হত্যার চেষ্টায় স্নায়ুকে আঘাতকারী রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে

ব্রিটেনের পুলিশ বলছে, একজন সাবেক রুশ গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়েকে হত্যার চেষ্টায় স্নায়ুকে আঘাতকারী রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে।

ঐ রুশ গোয়েন্দা এবং তার মেয়েকে রোববার একটি পার্কে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাদের উদ্ধারে যাওয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তা এখন গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

নার্ভ এজেন্ট কী?

নার্ভ এজেন্ট হচ্ছে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক যা স্নায়ুতন্ত্রকে বিকল বা অকার্যকর করে দিতে পারে এবং দৈহিক কর্মক্ষমতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সাধারণভাবে মুখ অথবা নাক দিয়ে এই রাসায়নিক দেহে প্রবেশ করানো হয় কিন্তু চোখ বা ত্বক তা শোষণ করতে পারে।

'বিষয়টি অনেক বড় একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে'

কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং ইউনিটের প্রধান মার্ক রাউলি বলেছেন সরকারি বিজ্ঞানীরা শনাক্ত করেছেন যে তাদের ক্ষেত্রে নার্ভ এজেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে এ পর্যায়ে তারা খবরটিকে উন্মুক্ত করতে চাননা। তিনি জানান, বিষয়টি অনেক বড় একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে যেখানে 'হত্যা চেষ্টার' সন্দেহ করা হচ্ছে ।

২০০৬ সালে রাশিয়ার আরেকজন গুপ্তচর আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কোকে বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল লন্ডনে।

নার্ভ এজেন্ট সাধারণভাবে ক্রিমিনাল গ্যাং বা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো তৈরি করতে পারে তেমনটি নয়। বিশেষ গবেষণাগারে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এই রাসায়নিক উৎপাদন করা হয়। এখন এর অবশ্যম্ভাবী সন্দেহ পড়বে রাশিয়ার দিকে। কারণ তাদের শত্রুদের বিষ প্রয়োগে হত্যার রেকর্ড আছে শুধু তাই নয়, সের্গেই স্কিপ্রাল-এর ঘটনার সাথে অন্য মোটিফও আছে।

রাশিয়ার একজন সামরিক গোয়েন্দা হিসেবে নিজেরে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তিনি এমআইসিক্সকে তথ্য দিতেন. ইউরোপে রাশিয়ার এজেন্টদের সম্পর্কে। বিশ্বাসঘাতকদের হত্যার বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অতীতের এমন ইঙ্গিতও রয়েছে ।

যদিও মি স্ক্রিপাল যখন ব্রিটেনে আটবছর ধরে বসবাস করছিলেন তেমন সময় কেন তাকে হামলার শিকার হতে হল সে প্রশ্নও রয়েছে।

সেইদিন দুপুরে সিটি সেন্টারে যারা ছিলেন তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। যারা বিশেষ করে জিযযিতে খেয়েছেন কিংবা পান করেছেন তাদের কথা শুনবেন। তার এবং তার

পাঁচদিন আগে যে দোকানে ৬৬বছর বয়সী মি. স্ক্রিপাল এবং তার ৩৩ বছর-বয়সী মেয়ে পড়ে গিয়েছিলেন সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে।

মিস্টার রাউলি জানান, কয়েকশো গোয়েন্দা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, বিশ্লেষক এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। তবে এর তদন্ত শেষ হতে আরও কদিন লেগে যাবে।

সম্পর্কিত বিষয়