মাঠে-ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

আঙুল-স্পিনারদের হঠিয়ে কীভাবে জায়গা করে নিচ্ছেন কব্জি-স্পিনাররা?

আঙুল-স্পিনারদের হঠিয়ে কীভাবে জায়গা করে নিচ্ছেন কব্জি-স্পিনাররা?

অশ্বিন-জাডেজার মতো অভিজ্ঞ স্পিনার জুটিকে ভুলে ভারত ইদানীং ওয়ান-ডে ও টিটোয়েন্টি ফর্ম্যাটে ভরসা রেখেছে তরুণ কুলদীপ যাদব বা য়ুজবেন্দ্র চাহালের ওপর।

গত কয়েক বছর ধরে দেশে-বিদেশে ভারতের বোলিং আক্রমণের স্তম্ভ স্পিনার জুটি রবিচন্দ্রন আশ্বিন ও রবীন্দ্র জাডেজা - তারা দুজন মিলে ভারতকে অসংখ্য ম্যাচ জিতিয়েছেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে লিমিটেড ওভার ফর্ম্যাটে এই দুজনেই ছিলেন দলের বাইরে, তার বদলে ভারত খেলিয়েছে এই কুলদীপ যাদব ও য়ুজবেন্দ্র চাহালের তরুণ স্পিনার জুটিকে - যারা দুজনেই দারুণ সফল।

ভারতের ওয়ান-ডে ও টিটোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পেছনেও ছিল তাদের বিরাট ভূমিকা এবং দেশের ক্রিকেট ভক্তরা এখন কুলদীপ-চাহালের নামটা ছোট করে আদর করে এই জুটিকে ডাকছেন 'কুল-চা' বলে।

এই 'কুল-চা'র বিশেষত্ব হল, অশ্বিন ও জাডেজার মতো আঙুলের সাহায্যে নন - তারা বলটা ঘোরান কব্জির মোচড়ে, অর্থাৎ এরা রিস্ট স্পিনার।

ভারতের জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার শরদিন্দু মুখার্জি বিবিসিকে বলছিলেন কেন সাবেকি ফিঙ্গার স্পিনারের জায়গায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইদানীং এই রিস্ট স্পিনারদের কদর বেড়েছে।

তিনি জানাচ্ছেন, ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে - বিশেষত দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের বাউন্সি, ফাস্ট উইকেটে ফিঙ্গার স্পিনাররা খুব একটা কার্যকরী নন।

ছবির কপিরাইট AFP Contributor
Image caption কুলদীপ যাদব, ক্যাপ্টেন ভিরাট কোহলির আলিঙ্গনে

ওই ধরনের উইকেট থেকে তারা তেমন একটা সাহায্য পান-না বলে উইকেটও তত তুলতে পারেন না। তার ওপর 'দুসরা'র মতো বল বিশ্ব ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়াও সাবেকি অফ স্পিনারদের কার্যকারিতাও অনেক কমে গেছে।

দুসরা আর করা যায় না বলেই কার্যত শেষ হয়ে গেছে সাঈদ আজমল বা হরভজন সিংয়ের মতো স্পিনারদের কেরিয়ার।

অন্যদিকে রিস্ট স্পিনারদের ভাঁড়ারে আছে অন্তত তিন রকমের অস্ত্র - ফ্লিপার, গুগলি ও লেগ স্পিন। বিদেশের ফাস্ট, বাউন্সি উইকেটেও একই ওভারে তারা তিন ধরনের বল করতে পারছেন - রানও আটকাচ্ছেন, উইকেটও তুলছেন।

ঠিক সেই কারণেই কুলদীপ যাদব ও য়ুজবেন্দ্র চাহালকে বিদেশে এখন খেলাচ্ছে ভারত। শরদিন্দু মুখার্জি আরও বলছিলেন, রিস্ট স্পিনারদের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ ক্রিকেটারদের দুর্বলতার কথাও সবারই জানা - ঐতিহাসিক সেই তথ্যটাকেও কাজে লাগানো হচ্ছে।

তবে আগামী বছরে (২০১৯) ইংল্যান্ডে ওয়ান-ডে বিশ্বকাপে কুল-চার পাশাপাশি জাডেজা-অশ্বিনের মধ্যে অন্তত একজন অফ স্পিনারকেও ভারত খেলাতে চাইবে বলে তার বিশ্বাস, কারণ এই দুজনের অভিজ্ঞতার দামটাও বিরাট।

শরদিন্দু মুখার্জির পুরো সাক্ষাৎকারটি শুনতে পাবেন আমাদের অনুষ্ঠানে।

বাংলাদেশে মহিলা ক্রিকেট কেন এত পিছিয়ে?

মাত্র দুদিন আগে ৮ মার্চ সারা দুনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশও উদযাপন করল আন্তর্জাতিক নারী দিবস - আর ক্রীড়াঙ্গনও তার ব্যতিক্রম ছিল না।

বিভিন্ন খেলায় মেয়েদের যোগদান বাড়ানোর লক্ষ্যে, নারী খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে সেদিন দেশ জুড়ে নানা অনুষ্ঠানও হয়েছে যথারীতি।

কিন্তু এই মুহুর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের কথাই যদি ধরা যায়, সেখানে কিন্তু পুরুষ ক্রিকেট দলের সাফল্য বা গ্ল্যামারের সঙ্গে মহিলা জাতীয় দল কোনও তুলনাতেই আসবে না।

গত কয়েক বছর ধরে ছেলেদের জাতীয় দলের গ্রাফ যেখানে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী এবং সেখানে বহু তারকার ছড়াছড়ি - মেয়েদের ক্রিকেটের ছবিটা কিন্তু অনেকটাই হতাশায় ভরা।

ছবির কপিরাইট ASIF HASSAN
Image caption বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল (ফাইল ছবি)

মেয়েদের ক্রিকেট ঠিক কেন আর কোথায় পিছিয়ে পড়ছে, তা নিয়ে কথা বলেছিলাম সাবেক ক্রিকেটার, বর্তমানে কোচ ও ক্রীড়া-ব্যক্তিত্ব পারভিন নাসিমা নাহার পুতুলের সঙ্গে।

তিনি বলছেন, এর পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে - মেয়ে ক্রিকেট দল ঠিকমতো শিডিউল পাচ্ছে না, তাদের দেশে-বিদেশে নিয়মিত খেলার সুযোগ হচ্ছে না - এবং প্রতিষ্ঠিত দু-তিনজন ক্রিকেটারের পর পাইপলাইনে তেমন কোনও প্রতিভাকেও উঠে আসার সুযোগ করে দেওয়া যাচ্ছে না।

মেয়ে ক্রিকেটারদের আরও অনেক বেশি 'এক্সপোজার' দরকার, মিডিয়াতে তাদের আরও বেশি করে সামনে আসা দরকার ও ইন্টারভিউতে মুখ খোলা দরকার - কারণ 'প্রচারটা অপরিহার্য' বলেই বিশ্বাস করেন পারভিন নাসিমা নাহার পুতুল।

এমন কী ঠিকমতো তুলে ধরতে পারলে, বিজ্ঞাপনে মুখ দেখানোর সুযোগ পেলে ও স্পনসরদের সাহায্য পেলে মেয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকেও সাকিব আল-হাসান বা তামিম ইকবালের মতো তারকা বেরিয়ে আসা সম্ভব বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।

খুলনা, জয়পুরহাট বা রংপুরে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য প্রতিভাবান মেয়ে ক্রিকেটারকে কীভাবে পাদপ্রদীপে নিয়ে আসা সম্ভব, তা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন জাতীয় মহিলা দলের এই প্রথম কোচ - তার সাক্ষাৎকার থাকছে এবারের পর্বে।

এ সপ্তাহের মাঠে-ময়দানে পরিবেশন করেছেন শুভজ্যোতি ঘোষ