পর্যটক ভিসায় বিদেশি সাহায্যকর্মীদের তৎপরতা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগ

ছবির কপিরাইট TAUSEEF MUSTAFA
Image caption টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাথা গোঁজার ঠাঁই।

বাংলাদেশের কক্সবাজারে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করতে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশ ৩৯ জন বিদেশি সাহায্য-কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদেরকে সেখান থেকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে।

পুলিশ বলছে, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তারা যেসব সংস্থায় কাজ করেন সেসব সংস্থার কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যেসব বিদেশি কাজ করছেন তাদেরকে তারা ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কাজ করতে বলেছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক বিবিসি বাংলাকে "অনেকেই আছেন যারা পর্যটক ভিসা নিয়ে মাসের পর মাস এখানে কাজ করছেন। আমরা তাদেরকে বলেছি তারা যাতে কাজ করার সরকারি অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে এখানে কাজ করতে আসেন।"

সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, অতীতে দেশি বিদেশি কিছু এনজিওর নামে রিপোর্ট সরকারের কাছে এসেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যেই পুলিশ তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।"

পুলিশ বলছে, যাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাদের মধ্যে বিদেশি সাহায্য সংস্থার কর্মীই বেশি। তাদের সাথে স্থানীয় কিছু বেসরকারি সংস্থার কর্মীও রয়েছেন।

তারা কোন কোন সাহায্য সংস্থার কর্মী পুলিশ সেটা বলতে চায়নি।

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption গত অগাষ্ট মাস থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।

তবে ঢাকায় বিবিসির সংবাদদাতা কাদির কল্লোল বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছেন তাদের মধ্যে রয়েছে এমএসএফ, সেভ দ্যা চিলড্রেন, ফুড ফর হাংরিসহ আরো কিছু সংস্থার কর্মী।

বিদেশি এই ত্রাণ-কর্মীরা ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, কেনিয়া, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

পুলিশ বলছে, বিদেশী সাহায্য-কর্মীরা যাতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশে কাজ করতে আসেন সেটা নিশ্চিত করতেই তারা মাঝে মধ্যে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে থাকেন। সাহায্য সংস্থাগুলোকেও তারা এবিষয়ে পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন।

কক্সবাজারে এমএসএফের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশে তাদের সংস্থাটি ২৫ বছর ধরে কাজ করছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে তাদের ১৫টি বুথ রয়েছে।

পর্ণ অভিনেত্রীর অভিযোগ: বিপদে পড়বেন ট্রাম্প ?

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ভয় কি কাটলো এবার?

শাহিরা ইউসুফ: ব্রিটেনের প্রথম হিজাবধারী মডেল

রুশ গুপ্তচর হত্যা চেষ্টা: নার্ভ এজেন্টের সন্ধান মিলেছে

মুখপাত্র সাজ্জাদ হোসেন বিবিসিকে বলেন, 'সেখানে কাজ করার অনুমতি আমাদের আছে। বাংলাদেশের নিয়মকানুন মেনে আমাদের সংস্থা এখানে কাজ করতে বদ্ধ পরিকর।"

পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গাদেরকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে সেজন্যে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।