কোন পরিস্থিতিতে হয় অগ্নুৎপাত, প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপে মনুষ্য বসতি
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

কোন পরিস্থিতিতে হয় অগ্নুৎপাত, প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপে কীভাবে গড়ে উঠলো মনুষ্য বসতি

দক্ষিণ জাপানের একটি আগ্নেয়গিরি থেকে ধারাবাহিক অগ্নুৎপাতের পর কর্তৃপক্ষ তার আশেপাশে বসবাসকারী লোকজনকে সতর্ক করে দিয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখ দিয়ে নির্গত বড় বড় পাথরের টুকরো উড়ে গিয়ে চার কিলোমিটার দূরেও পর্যন্ত পড়ছে।

এই আগ্নেয়গিরিটি অবস্থিত জাপানের কিউশু দ্বীপে। এর নাম মাউন্ট শিনমোয়েডাকে।

কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েকদিন ধরেই এই আগ্নেয়গিরিটি থেকে ছাই নির্গত হচ্ছিলো কিন্তু গত শনিবার থেকে বিস্ফোরণের মতো অগ্নুৎপাত ঘটতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী আরো কয়েক মাস ধরে এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাত অব্যাহত থাকবে বলে তারা ধারণা করছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, অগ্নুৎপাতের সময় আশেপাশের এলাকায় এতো জোরে কম্পনের সৃষ্টি হয় যে দূরের বহু ভবনও এর ফলে কেঁপে উঠে এবং গলিত লাভা আগ্নেয়গিরিটির একপাশে বেয়ে নেমে আসছে।

এই মাউন্ট শিনমোয়েডাকে আগ্নেয়গিরিতে অনেকেই হয়তো চেনেন জেমস বন্ডের একটি ছবির কারণে।

ছবির কপিরাইট NIPPON HOSO KYOKAI
Image caption এই আগ্নেয়গিরিটিতে প্রায়শই অগ্নুৎপাতের ঘটনা ঘটে

১৯৬৭ সালে এখানে চিত্রিত হয়েছিলো জেমস বন্ড ছবি- You Only Live Twice. শিনমোয়েডাকে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখটিকে ছবিতে দেখানো হয় অপরাধীদের একটি গ্রুপের গোপন আস্তানা হিসেবে।

এর আগেও শিনমোয়েডাকে আগ্নেয়গিরিতে আরো বহুবার অগ্নুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। ২০১১ সালে বড়ো ধরনের অগ্নুৎপাতের পর তার আশেপাশের এলাকা থেকে বহু লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিলো। এর কম্পন এতোটাই জোরালো ছিলো যে এর ফলে আট কিলোমিটার দূরের ভবনের জানালার কাঁচও ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিলো।

ধারণা করা হয় যে সাড়ে সাত হাজার থেকে ২৫ হাজার বছর আগের কোন এক সময়ে শিনমোয়েডাকে আগ্নেয়গিরিটি গঠিত হয়েছিলো।

এসব বিষয়ে শুনুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা আলমের সাক্ষাৎকার। শুনতে হলে উপরের অডিও লিঙ্কে ক্লিক করুন।

প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপে মনুষ্য বসতি

প্রাচীন কালের ডিএনএর উপর গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের আশেপাশের এলাকায় কিভাবে মানব বসতি গড়ে উঠেছে তার একটি ধারণা তারা পেয়েছেন।

এই এলাকা পৃথিবীর এমন শেষ জায়গাগুলোর একটি যেখানে লোকজন নৌকায় করে সমুদ্র পথে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এখানে বসতি গড়ে তুলেছে।

ভিন্ন ভিন্ন দুটো গবেষণা করে দেখা গেছে, ভানুয়াতু দ্বীপে যারা বসতি গড়েছিলো, তাদের জিনের গঠনে, সময়ের সাথে সাথে কি ধরনের পরিবর্তন ঘটেছিলো।

ছবির কপিরাইট TORSTEN BLACKWOOD
Image caption ভানুয়াতু দ্বীপকে দেখা হয় প্রশান্ত মহাসাগরের গেটওয়ে হিসেবে

মানব সভ্যতার জন্যে এই দ্বীপকে দেখা হয় প্যাসিফিকের দরজা বা গেইটওয়ে হিসেবে।

এই গবেষণার সাথে যুক্ত ছিলেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক ডেভিড রাইশ। তিনি বলেছেন, ওই অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করতো। ভানুয়াতু ছোট্ট একটি দ্বীপ হলেও সেখানে ভাষার অনেক বৈচিত্র্য ছিলো।

ধারণা করা হয়, ক্ষুদ্র এই দ্বীপটিতে মানুষ ১৩০টিরও বেশি ভাষায় কথা বলতো। এর মধ্যে বহু ভাষা ইতোমধ্যে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ভাষায় হয়তো কথা বলছে মাত্র গুটিকয়েক মানুষ।

গবেষকরা বলছেন, তাইওয়ানের লাপিতা সংস্কৃতি থেকে লোকজন এসব দ্বীপে প্রথম এসে পৌঁছায় প্রায় তিন হাজার বছর আগে। তারা ছিলো সত্যিকারের সমুদ্র-বিজয়ী মানুষ।

বিশেষ এক ধরনের নৌকায় করে তারা এই দ্বীপে আসে। এমন প্রযুক্তিতে এসব নৌকা তৈরি করা হতো যা সমুদ্রের উপর দিয়ে বহু বহু মাইল পর্যন্ত যাওয়া যেতো।

এসময় তারা সাথে করে নিয়ে আসতো কৃষিকাজের প্রযুক্তি এবং উপকরণ। তারা এসেছিলো অস্ট্রোনেশিয়া পরিবার থেকে যা বিস্তৃত ছিলো পশ্চিমে মাদাগাস্কার থেকে পূবে রাপা নুই দ্বীপ পর্যন্ত।

ভানুয়াতু দ্বীপে প্রায় তিন হাজার থেকে দেড়শো বছর আগের মৃতদেহ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে এই গবেষণাটি চালানো হয়েছে। দেখা গেছে তখনকার লাপিতা গোষ্ঠীর লোকেদের সাথে বর্তমানের আমি গ্রুপের মিল আছে যারা তাইওয়ানে বসবাস করছে।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান

সম্পর্কিত বিষয়