বলুন তো দেখি এই টেনিস বলগুলোর রঙ কী

আপনি কি রঙ দেখতে পাচ্ছেন? ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption আপনি কি রঙ দেখতে পাচ্ছেন?

এই টেনিস বলগুলো হলুদ নাকি সবুজ?

মনে হতে পারে খুব সহজ একটা প্রশ্ন- টেনিস বল তো অবশ্যই হলুদ। কিন্তু কেউ কেউ আছেন যারা বলবেন এগুলো অবশ্যই সবুজ।

এখানেই শেষ নয়। এমন লোকও আছে যারা বলবেন, এটা আসলে হলুদ এবং সবুজ- দুটোই।

তাহলে প্রশ্ন হলো- টেনিস বল আসলেই কোন রঙের? সৌভাগ্য যে বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা এই প্রশ্নের একটি উত্তর দিয়েছেন।

সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সুইস টেনিস খেলোয়াড় রজার ফেদেরার বলছেন, টেনিস বল হলুদ।

এক ব্যক্তি তাকে মোবাইল ফোনে টেনিস বলের ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করছিলেন প্রশ্নটি। কারণ তিনি একটু বিভ্রান্ত ছিলেন। তার প্রশ্ন ছিলো, "রজার, এই টেনিস বল কি রঙের?" রজার ফেদেরার তখন জবাব দিলেন, "হলুদ, তাই না?" তখন একদল মানুষ সেখানে চিৎকার করে উঠলো। বোঝাই যাচ্ছে, বলটির রঙ নিয়ে সেখানে তারা একমত হতে পারছিলেন না।

কিন্তু লোকটি তখন বললেন, "দেখুন আমার কাছে মনে হয় সবুজ, কিন্তু আমার ছেলে মনে করে হলুদ।"

এই ভিডিওটি ইতোমধ্যে দেখেছে কয়েক লাখ মানুষ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption টেনিস তারকা রজার ফেদেরার

সামাজিক মাধ্যমে কারো কারো কাছে ফেদেরারের এই উত্তরই শেষ কথা। যেমন একজন বললেন, "রজার যদি বলে এগুলো হলুদ, তাহলে হলুদ।" আরেকজন লিখছেন, "আমি সবসময় ভেবেছি যে টেনিস বল সবুজ কিন্তু রজার ফেদেরার যদি বলেন হলুদ তাহলে আমি তর্ক করার কে?"

আরেকজন লিখেছেন, "উইম্বলডনের ঘাস যেহেতু সবুজ, টেনিস বল কখনো সবুজ হতে পারে না।"

আরেকজন ব্যক্তি এর সাথে একমত হতে পারলেন না। তিনি বললেন, "রজার ভুল বলছেন। এগুলো এক ধরনের ফ্লুরেসেন্ট হলুদ যা সবুজ বলেও মনে হতে পারে।"

আরো পড়ুন:

উন্নয়নশীল দেশ হওয়া কেন উদযাপন করছে সরকার?

ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখবেন কীভাবে

এর আগে ২০১৫ সালে এরকম আরো একটি জিনিসের রঙ নিয়ে বিতর্ক হয়েছিলো। মেয়েদের একটি জামার রঙ নিয়ে ছিলো সেই বিতর্ক। সারা দুনিয়াতে সোশাল মিডিয়ায় লোকজন এই রঙ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলো। একদল বলেছিলো জামাটি কালো ও নীল। আরেক দলের জবাব ছিলো সাদা ও সোনালী।

এখন প্রশ্ন হলো একই জিনিসের রঙ মানুষের চোখে ভিন্ন ভিন্ন হয় কেন?

এর জবাব হলো কোন জিনিসের রঙ কোন ব্যক্তির চোখে কি রঙের দেখাবে সেটা নির্ভর করে অনেক কিছুর উপর। যেমন: আলো, কম্পিউটার কিম্বা ফোনের স্ক্রিন, ওই জিনিসটাকে কারো মস্তিষ্ক কিভাবে গ্রহণ করছে, দর্শকের দৃষ্টিশক্তি ইত্যাদি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আলোর ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কারণে একেক মানুষের মস্তিষ্ক একেক জিনিসের প্রতি একেকভাবে সাড়া দিয়ে থাকে। অর্থাৎ আলোটা কিভাবে কার চোখে এসে পড়ছে, কোন ধরনের আলো ইত্যাদি।

ছবির কপিরাইট PA
Image caption জামার রঙ বিতর্ক

এছাড়াও আমাদের চোখের ভেতরে যেসব রড ও কোন আছে সেগুলোর গঠন একেক জনের চোখে একেক রকমের। একারণেও রঙের ভিন্নতা তৈরি হয়। মনে রাখতে হবে জিনিসটি কোন রঙের- এ ব্যাপারে আমাদের মস্তিষ্কই কিন্তু নেয় শেষ সিদ্ধান্ত।

যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ে রঙের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক অধ্যাপক স্টিভেন ওয়েস্টল্যান্ড বলেছেন, একটি রঙকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্নভাবে দেখে।

"আমরা সবসময় কোন একটি রঙকে ঠিক একইভাবে দেখি না। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এরকমটা সবসময় ঘটে না।"

"এটাও সম্ভব যে মানুষ হয়তো ভিন্ন রঙটাই দেখছে কিন্তু তার মাথায় আসলে কি সেটা বোঝা অসম্ভব।"

আরো পড়ুন:

নাম পরিবর্তনে ইসির কড়াকড়ি: হিন্দুদের আপত্তি

নিজের থানায় ডায়েরি করে আলোচনায় ওসি

ভারতে ঘণ্টায় কেন একজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করছে?