বিভিন্ন দেশ থেকে ১০০ জনের বেশী রুশ কূটনৈতিক কর্মকর্তা বহিষ্কার

ক্রেমলিন ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ক্রেমলিন

যুক্তরাজ্যের ২৩ জন রুশ কূটনেতিককে বহিষ্কারের প্রেক্ষিতে ২০টির বেশী দেশ মোট ১০০র বেশী রুশ কূটনৈতিক বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছে।

সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ের ওপর সোভিয়েত আমলের দুর্লভ নার্ভ এজেন্ট দিয়ে আক্রমণ করার প্রেক্ষিতে এমাসের শুরুতে ২৩জন রুশ কূটনৈতিক বহিষ্কার করে যুক্তরাজ্য। তারই ধারাবহিকতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছেন রুশ কূটনীতিকরা।

তবে সবচেয়ে বেশি মোট ৬০ জন কূটনীতিক বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বলা হচ্ছে, এই প্রথম রাশিয়ার এত বেশি সংখ্যক কূটনীতিককে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে একসঙ্গে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইউরোপে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে হত্যার চেষ্টাকে খুবই দুঃখজনক বলে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল।

এদিকে, এ আচরণকে উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করে রাশিয়া জানিয়েছে শীঘ্রই পাল্টা ব্যবস্থা নেবে তারা। সের্গেই স্ক্রিপালকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া।

গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা রাশিয়ার নার্ভ এজেন্ট ব্যবহারের বিষয়টিতে একমত হন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে বলেন, "প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকার আমাদের সবার স্বার্থ ও রীতির বাইরে গিয়ে মহাদেশের ভেতরে ও বিশ্বব্যপী বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন।"

"ইউরোপের একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সাথে এই হুমকির প্রতিরোধ করবে।"

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটি মনে করে এ পদক্ষেপ বিরোধিতার সম্পর্ক তৈরির ধারাবাহিক অংশ। সেই সঙ্গে এ আচরণকে 'অবন্ধুত্বপূর্ণ' উল্লেখ করে, এ ব্যবস্থায় অংশ নেয়া সব দেশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেয়া হয় ঐ বিবৃতিতে।

আরো পড়তে পারেন:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: যে লেখা পাল্টে দেয় ইতিহাস

গায়ের রংয়ের ওপর নাগরিকত্ব দেয়া হয় যে দেশে

‘রাবেয়াকে জীবিত রাখা হয় মরদেহ পরিষ্কারের জন্য’

কারা কূটনীতিক বহিষ্কার করছে

এমাসের শুরুতে ২৩ জন রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য।

সোমবার আরো কয়েকটি দেশ ঘোষণা দেয় যে তারাও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র : ৬০ জন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন : ফ্রান্স (৪), জার্মানি (৪), পোল্যান্ড (৪),চেক প্রজাতন্ত্র (৩), লিথুয়ানিয়া (৩), ডেনমার্ক (২), নেদারল্যান্ডস (২), ইতালি (২), স্পেন (২), এস্তোনিয়া (১), ক্রোয়েশিয়া (১), ফিনল্যান্ড (১), হাঙ্গেরি (১), লাটভিয়া (১), রোমানিয়া (১), সুইডেন (১)

ইউক্রেন: ১৩জন

কানাডা: ৪ জন এবং রাশিয়া থেকে আরো ৩ জনের আবেদন প্রত্যাখ্যান

আলবেনিয়া : ২ জন

অস্ট্রেলিয়া : ২ জন

নরওয়ে : ১ জন

মেসিডোনিয়া : ১ জন

আইসল্যান্ড ঘোষণা দিয়েছে তারা রাশিয়ার সাথে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত করছে। তাদের রাষ্ট্রীয় নেতারা জুনে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টেও যাবে না বলে জানিয়েছে তারা।

এমাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যও জানিয়েছে তারা মন্ত্রী বা রাজপরিবারের সদস্যদের বিশ্বকাপে পাঠাবে না।

অস্ট্রিয়া, গ্রীস ও পর্তুগাল জানিয়েছে তারা তাদের দেশ থেকে কোনো রুশ কূটনৈতিককে বহিষ্কার করবে না। তবে যুক্তরাজ্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে তারা।

রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের অতীত উদাহরণ

১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান স্নায়ুযুদ্ধকালীন ৮০ জন রুশ কূটনৈতিক বহিষ্কার করেন।

২০১৬ তে বারাক ওবামা প্রশাসন হিলারি ক্লিনটনের ২০১৬'র নির্বাচনী প্রচারণা হ্যাক করার অভিযোগে ৩৫ জন কূটনীতিক বহিষ্কার করেন। মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করে।