'রোহিঙ্গাদের আসা-যাওয়ায় বাড়ছে ইয়াবা পাচার'

মাদক, পাচার, রোহিঙ্গা, ইয়াবা
Image caption সীমান্তে রোহিঙ্গাদের নৌকায় নজরদারি আরও কড়াকড়ির ফলে উল্লেখযোগ্য হারে নিষিদ্ধ মাদকের চালান ধরা পড়ছে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তে রোহিঙ্গাদের নৌকায় নজরদারি আরও কড়াকড়ির ফলে উল্লেখযোগ্য হারে নিষিদ্ধ মাদকের চালান ধরা পড়ছে।

বাংলাদেশের সীমান্ত-রক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বার্মা সীমান্তে চলতি বছর জানুয়ারি মাস থেকে প্রায় ৫১ লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় চালানও আটক করা হয়েছে চলতি মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে।

টেকনাফে বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসাদুজ্জামান চৌধুরী বিবিসিকে বলেছেন,"যখন মিয়ানমার থেকে লোকজনের আসা-যাওয়া বেড়েছে তখন থেকে মাদক পাচারও বেড়ে গেছে। লোকজন দিনে-রাতে আসা-যাওয়া করছে এবং চেক (তল্লাশি) করতে গেলে এগুলো পাওয়া যাচ্ছে।"

মি: চৌধুরী আরও জানান, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচারের পথে নাফ নদীতে গত ১৫ই মার্চ এক রাতেই রোহিঙ্গাদের তল্লাশি চালিয়ে ১৮ লাখের বেশি ইয়াবা আটক করেছেন তারা। যা এ যাবতকালের মধ্যে আটক করা সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালান বলেও তিনি জানান।

Image caption মিয়ানমার থেকে গত অগাস্ট-এর পর বাংলাদেশে ঢুকেছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা, এখনো আসছে অনেকে।

মি: চৌধুরীর ভাষায়, "মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে অনেক পরিবার বসবাস করে যারা বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের ভেতরে ঢুকতে পারে না। মিয়ানমার থেকে তাদের সরবরাহ করা হয় এসব মাদক। সেগুলো তারা আবার বাংলাদেশে যখন রোহিঙ্গারা আসে তখন পাচার করে।"

মি: চৌধুরী আরও বলেন, "অনেক জায়গায় রাতের আঁধারে হয়তো তারা সীমান্ত অতিক্রম করছে, তখন হয়তো তাদের আটকানো যাচ্ছে না। কিন্তু আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছি। "

তবে মানবিক কারণে অনেক সময় অনেককে তল্লাশিও করা যায় না বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা। "নারীরা যখন আসছে তাদের ক্ষেত্রে সবসময় চেক করা সম্ভব হয় না মানবিক কারণে। আবার অনেক সময় এত বেশি সংখ্যায় মানুষ ঢুকছে যে সবসময় চেক করা যায় না।"

আরও পড়ুন:

হয়রানি রুখে দাঁড়ানো এক বাংলাদেশি নারীর গল্প

ভারতে ট্রেনের চাকরির জন্য পিএইচডি ডিগ্রীধারীও মরীয়া কেন?

মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?