বাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষায় এবার 'প্রশ্নফাঁস হবে না'

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ করছেন ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকরা। কিন্তু সমস্যার সমাধান দেখা যাচ্ছে না। ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ করছেন ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকরা। কিন্তু সমস্যার সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশে গত এসএসসি পরীক্ষার ব্যাপকহারে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবারে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নতুন করে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এসএসসি'র প্রশ্নফাঁসের পর আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ মনে করেন,এসব উদ্যোগের ফলে সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না।

মি. কায়কোবাদ বলেন, "শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের নজরদারি জোরদার করেছে যেন প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়।"

"তবে এটা মনে রাখতে হবে প্রশ্নপত্র কিন্তু বেশ কিছুদিন আগেই প্রণীত হয়ে গেছে। আমাদের সিস্টেমে এই প্রশ্নপত্র বিভিন্ন সময় আড়াইশো থেকে পৌনে তিনশো মানুষের দেখার সুযোগ থাকে।"

মি. কায়কোবাদ বলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করছে প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার সময় তা ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনা রোধ করতে এবার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

"শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বোর্ড কর্তৃপক্ষের ধারণা হয়েছে ভল্ট কিংবা ট্রেজারি থেকে যখন প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে যায় তখন তা ফাঁস হয়ে যায়। সেটি যদি সত্য হয় তাহলে আমি আশা করি এবারের এইচ.এস.সি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দুষ্টচক্রে পড়বে না।"

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কোচিং সেন্টার বন্ধ করার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে মি. কায়কোবাদ বলেন প্রশ্ন ফাঁসের সবরকমের সম্ভাবনা বন্ধ করার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মি. কায়কোবাদ বলেন, " পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কোন সেটে পরীক্ষা হবে। প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেলে একজনকে দুটি প্রশ্নপত্রই পড়ে আসতে হবে। যেটি খুবই সম্ভব। এই সম্ভাবনা ঠেকাতেই কোচিং সেন্টার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।"

তদন্ত কমিটি এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণ চিহ্নিত করতে পেরেছে কিনা জানতে চাইলে মি. কায়কোবাদ বলেন প্রশ্নপত্র ট্রেজারি বা ভল্ট থেকে কেন্দ্রে যাওয়ার সময় সম্ভাবনা কম।

মি. কায়কোবাদ বলেন, "ঐ তদন্তে ডিবি এবং সিআইডির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। তারা মনে করছেন এসএসসি'র প্রশ্নপত্র আগে থেকে ফাঁস হয়েছে। ট্রেজারি কিংবা ভল্ট থেকে হয়নি। সেটি অবশ্যই বড় একটি সমস্যা, এই সমস্যা নিয়ে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়াকিবহাল।"

আরো পড়তে পারেন:

চিকিৎসা শিক্ষায় পুষ্টিজ্ঞানের অন্তর্ভূক্তি কতটা জরুরি?

প্রিন্সের ভাতা কমালো বেলজিয়ামের পার্লামেন্ট

সম্পর্কিত বিষয়