কেন বদলে দেওয়া হলো বাংলাদেশের পাঁচটি জেলার ইংরেজি বানান

বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইটে জেলাগুলোর আগের ইংরেজি বানান ছবির কপিরাইট Bangladesh Government
Image caption বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইটে জেলাগুলোর আগের ইংরেজি বানান

বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার ইংরেজি নামের বানান বদলে দিয়েছে সরকার। জেলাগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, যশোর ও বগুড়া।

সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই পাঁচটি জেলার ইংরেজি নামের বানানে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় আজ সোমবার নামের বানান পরিবর্তনের এই প্রস্তাবে অনুমোদন করা হয়।

সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ইংরেজিতে এই জেলাগুলোর নামের বানান যে রকম হবে:

চট্টগ্রাম আগে ছিলো Chittagong, কিন্তু এখন Chattogram হবে। বরিশাল Barisal নয়, Barishal লিখতে হবে। কুমিল্লা নামের বানান Comilla এর বদলে Cumilla হবে। যশোর Jessore এর বদলে Jashore লিখতে হবে। আর বগুড়ার Bogra এর বদলে নতুন বানান Bogura হবে।

এর আগে জেনারেল এরশাদের শাসনামলেও রাজধানী ঢাকার বানান Dacca থেকে বদলে Dhaka করা হয়েছিলো।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের একজন সচিব এনএম জিয়াউল আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এই পরিবর্তন কিন্তু আগেও আমরা করেছি। এর আগে ঢাকা, চাপাইনবাবগঞ্জ এসব নামের বানান পরিবর্তন করা হয়েছে। এবারও করা হলো।"

আরো পড়তে পারেন:

মহাকাশে নিখোঁজ ভারতীয় সামরিক স্যাটেলাইট

বাবা মায়ের ঝগড়া কী প্রভাব ফেলে শিশুর উপর?

অটিজম নিয়ে মানুষের ধারণা কতটা বদলেছে?

রাশিয়ার কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক আসলে কত বড়?

জাতিসংঘ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

"বাংলা নামের সঙ্গে ইংরেজি নামের বানানের একটা বৈসাদৃশ্য ছিলো। এই অসামঞ্জস্য ক্রমশ দূর করা হচ্ছে," বলেন মি.আলম। "কিছু জেলার নামের বানান ব্রিটিশ আমলে করা ছিলো। তাই সেগুলো বদলানো হয়েছে। ইংরেজি উচ্চারণে ব্রিটিশরা এসব নামের বানান এভাবে লিখেছিলো। কিন্তু বাংলার সাথে এটা আসলে যায় না।"

"ইংরেজি আর বাংলায় যখন এসব জেলার নাম উচ্চারণ করা হয় তখন একটা বৈসাদৃশ্য থাকে। সেটা দূর করা দরকার ছিলো," বলেন তিনি।

ইংরেজি নামের বানানে এই পরিবর্তনের ফলে প্রশাসনিক কোন সমস্যা হতে পারে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে মি.আলম বলেন, "প্রথমদিকে কিছু সমস্যা হতে পারে। কিন্তু একবার চালু হয়ে গেলে পরে আর কোন সমস্যা হবে না।"

নামের বানান বদলানোর আগে এসব জেলার লোকজনের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিলো কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এজন্যে সুনির্দিষ্ট কোন বিধান বা নীতিমালা নেই। প্রস্তাবের উপর বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

মি. আলম জানান, নতুন এই বানান কার্যকর হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।

সম্পর্কিত বিষয়