কয়লার ব্যবহার বন্ধে কেন কঠোর চীন?

মুখোশ পরা মটসাইকেল আরোহী
ছবির ক্যাপশান,

চীনের মানুষের জীবনের উপর প্রভাব ফেলেছে বায়ু দূষণ।

চীনের বেইজিং শহরের বাসিন্দারা ধুসর রঙের আকাশ দেখতেই অভ্যস্ত বহু বছর ধরে।

কিন্তু ইদানীং শহরের মানুষ বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করছে নীল রঙের আকাশ। স্বভাবতই তাদের মনে বেশ আনন্দের রেশ তৈরি হয়েছে।

অনেক এলাকায় শিশুদের ঘুড়িও ওড়াতে দেখা গেলো।

কিন্তু শহরের সবার মনেই খুশি তেমন নয়। যেমন বেইজিং এর শহরতলীতে সিরামিক টাইলস শিল্পের সাথে জড়িতরা রয়েছে হতাশার মধ্যে।

সাতশ বছরের পুরনো এই শিল্প হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সিরামিক শিল্পী জিয়াং জেং গো বলছেন, কোন নোটিশ ছাড়ই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তাদের কারখানা।

তিনি বলছেন, "সব কিছু যেন খুব হঠাৎ করে হল। আমাদের সাথে কোন বৈঠক হয়নি, অথবা আমাদের আগে-ভাগে সতর্কও করা হয়নি। একটা পরিদর্শক দল একদম হঠাৎ করে এলো, আর কোন কথাবার্তা ছাড়াই আমাদের পুরো এলাকার সবার কাজ বন্ধ করে দিয়ে গেলো।"

এই শিল্প জ্বালানি হিসেবে কয়লার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতো। কয়লাকে বলা হয় সবচাইতে ময়লা জ্বালানি ব্যবস্থা।

আরও পড়তে নিচের লিংক এ ক্লিক করতে পারেন-

ছবির ক্যাপশান,

ধুসর রঙের আকাশ দেখতেই অভ্যস্ত চীনের বড় শহরের বাসিন্দারা।

কয়লাকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের ফলে তা মারাত্মক বায়ুদূষণ সৃষ্টি করে।

চীনের সরকার এই কয়লার ব্যবহারকে পুরোপুরি বন্ধ করে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে চাইছে।

আর সে ব্যাপারে কঠোর ভূমিকা নিয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ।

বেইজিং শহরের বাইরে গিয়েও তার নমুনা পাওয়া গেলো।

দেশটির শত শত গ্রামে রাতারাতি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কয়লার ব্যবহার।

লক্ষ লক্ষ পরিবারকে রান্নার জন্য একদম হঠাৎ করে কয়লার বদলে গ্যাস ব্যবহারের আদেশ দেয়া হয়েছে।

এত দ্রুতগতিতে এত বেশি এলাকায় গ্যাসের ব্যবহার শুরু করা হয়েছে যে এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পর্যন্ত গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

বেইজিং এর কাছেই একটি গ্রামে বাড়িতে গ্যাসের চুলায় রান্না করতে হচ্ছে শ্যাং জং শুং এর পরিবারকে।

মিস্টার শুং বলছেন কয়লা তাদের জন্য সস্তা ছিল।

তিনি বলছেন, "আমরা বিষয়টা পছন্দ করি আর না করি আমাদের কোন উপায় নেই। আমাদের কয়লা পোড়ানোর অনুমতি নেই। এমনকি কাঠ পোড়ানোরও অনুমতি নেই"

বিবিসিতে আরও পড়তে পারেন:

ছবির ক্যাপশান,

পরিস্থিতি উন্নয়নে কয়লা ব্যাবহারে কঠোর হয়েছে চীন।

কোন ঘোষণা ছাড়াই লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বদলে গেছে চীনে। সম্ভবত চীনেই এমনটা সম্ভব।

কলমের এক খোঁচায় এক রাতের মধ্যে এমন আদেশ বাস্তবায়ন পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে হয়তো সম্ভব নয়।

কিন্তু সেখানে বায়ুদূষণ এই শীতে ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

তবে এর কৃতিত্ব কিছুটা দেয়া হচ্ছে এবারের শীতে সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসা উত্তরের ভয়াবহ ঠাণ্ডা বাতাসকে।

পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা গ্রিন পিস বলছে চীনের বায়ুদূষণ কমে আসার মুল কারণ এই বাতাস।

তাই আশংকা করা হচ্ছে শীত চলে যাবার সাথে সাথে ধীরে ধীরে আবার ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরতে শুরু করছে কি-না।

বিজ্ঞানীরা বলছেন দূষণ রোধে বেইজিং যে উদ্যোগ শুরু করেছে তাতে আরও বহুদূর যেতে হবে।

আরও পড়ুন: