বাংলাদেশে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং নজরদারি, কী প্রভাব পড়ছে?

রাস্তার মোড়ে মোড়ে এরকম বহু জায়গায় চলছে টাকা-পয়সা পাঠানোর জমজমাট মোবাইল ব্যাংকিং ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN/GETTY IMAGES
Image caption রাস্তার মোড়ে মোড়ে এরকম বহু জায়গায় চলছে টাকা-পয়সা লেনদেনের জমজমাট মোবাইল ব্যাংকিং

বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেক্টরে প্রতিদিন ৫০ লাখ বার লেনদেন করা হয়। এবার এইচএসসি পরীক্ষা চলার সময় দেশের সব মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম নজরদারি করোর জন্য সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের রোববার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মোবাইল ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বিকাশ। এই প্রতিষ্ঠানের চীফ এক্সটারনাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মনিরুল ইসলাম বলছিলের তারা কী ধরনের নির্দেশনা পেয়েছেন।

"এমএফএস (মোবাইল ব্যাংকিং) সার্ভিস প্রদানকারী যেসমস্ত সংস্থা আছে তাদের পরামর্শ আকারে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ২০১৮ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে কিছু ব্যবস্থা সম্বলিত।"

আরো পড়ুন:

এইচএসসি পরীক্ষায় 'প্রশ্নফাঁস হবে না'

রোহিঙ্গা সহিংসতায় দায় স্বীকার করলো ফেসবুক

মি: ইসলাম আরও বলেন, "এফএসএস তো নিম্ন আয়ের আন-ব্যাঙ্কড মানুষদের জন্য একটা সার্ভিস এবং নিয়ন্তিত সীমার মধ্যে তারা লেনদেন করে। সেখানে যদি অস্বাভাবিক লেনদেন পরিলক্ষিত হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি দিতে বলা হয়েছে।"

নির্দেশনা অনুসারে যেসব মোবাইল হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে আসবে তাদের তালিকা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

কোন ধরনের ট্রানজ্যাকশন হলে সেটিকে অস্বাভাবিক মনে করা হবে?

এমন প্রশ্নে বিবিসি বাংলার শাহনাজ পারভীনকে বিকাশেরর একই কর্মকর্তা বলেন, "এটা হলো ট্রানজ্যাকশন হিস্ট্রি বা লেনদেন ইতিহাসের সাথে মেলানোর ব্যাপার রয়েছে। ধরেন একজন ব্যক্তি সাধারণ যে লেনদেন করেন সেখানে একটা প্যাটার্ন নিশ্চিতভাবে আছে। সেখানে হঠাৎ করে কোনও কারণে অনেক বেশি লেনদেন করলো বা অনেকে একসাথে হয়তো টাকা পাঠালো সেক্ষেত্রে সেটি অস্বাভাবিক লেনদেন। যেহেতু এটা পরীক্ষা এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত একটি ব্যাপার। যে এই প্রশ্নগুলো ফাঁস করবে সে তো কোনও মূল্যের বিনিময়েই তা করবে। এবং যারা এই প্রশ্ন পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী তারা সেই মূল্য একযোগে দেবে। সুতরাং বেশ কয়েকটি লেনদেন হয়তো তার অ্যাকাউন্টে হবে।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিকাশ, রকেট কিউক্যাশ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ব্যাংকিং এ প্রতিদিন লেনদেন করছেন লাখ লাখ মানুষ।

এ ধরনের অস্বাভাবিকতার দিকেই তাদের নজর রাখতে বলা হয়েছে।

মিস্টার ইসলাম বলেন, এজেন্ট এবং ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট-ধারী- দুপক্ষের ব্যাপারেই মনিটর করা হচ্ছে।"আমরা মনিটরিং করছি। এর ভেতরে যদি কিছু ধরা পড়ে তাহলে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাবো।"

এই নজরদারির প্রেক্ষাপটে বিকাশ, রকেটসহ যেসব মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে সেগুলোর লেনদেনে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে?

ঢাকার কিছু এজেন্ট জানিয়েছেন, পরীক্ষার প্রশ্নঁফাস ঠেকানোর উপায় হিসেবে এ খাতের লেনদেনে নজরদারির নির্দেশ আসার প্রেক্ষাপটে লেনদেন কমে গেছে।

গ্রাহকরা বিকাশ বা অন্য কোনও মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা লেনদেন করার ক্ষেত্রে তাদের ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে? এ প্রসঙ্গে বিকাশের কর্মকর্তা মিস্টার ইসলাম বলেন, এটাতে স্বাভাবিক লেনদেন-কারী গ্রাহকরা কোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়বে না।

আরো পড়তে পারেন:

চীন-আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধ, জিতবে কে?

সৌদি যুবরাজ যে কারণে ইসরায়েলিদের মাতৃভূমির পক্ষে

তালেবানকে অস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া?