ইউটিউবের সদর দফতরে গুলি চালানো নারী নাসিম আগদামের বিচিত্র জীবন

ইউটিউব যুক্তরাষ্ট্র
ছবির ক্যাপশান,

নাসিম আগদাম

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ইউটিউবের সদর দফতরে গুলিবর্ষণকারী মহিলার পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। তার নাম নাসিম আগদাম, ইরানী বংশোদ্ভূত এই মহিলার বয়েস ৩৯।

ইউটিউব কার্যালয়ে নাসিম আগদামের বন্দুক হামলায় একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলা আহত হন। মিজ আগদাম পরে নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ আক্রমণের উদ্দেশ্য কি তা এখনো তদন্ত করা হচ্ছে। তবে সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়, ইউটিউবে নাসিম আগদাম যে সব ভিডিও পোস্ট করতেন তা ফিল্টার করা হচ্ছিল বলে তিনি ইউটিউব কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন।

নাসিম আগদাম দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোর বাসিন্দা। তার একটি ইউটিউব চ্যানেল এবং একটি ওয়েবসাইট ছিল। তিনি যে সব ভিডিও পোস্ট করতেন তার মধ্যে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাকে তুলে ধরা হতো।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির ক্যাপশান,

ইউটিউবে গুলিবর্ষণের ঘটনা সারা যুক্তরাষ্ট্রে আলোড়ন সৃষ্টি করে

নাসিম আগদামকে বিভিন্ন জায়গায় একজন 'ভেগান বডিবিল্ডার, শিল্পী এবং র‍্যাপ গায়ক' বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

তিনি গত বছর জানুয়ারি মাসে অভিযোগ করেন যে ইউটিউব তার ভিডিওগুলো ফিল্টার করছে। এ কারণে অপেক্ষাকৃত কম লোক তা দেখতে পারছে এবং এ থেকে তিনি যে অর্থ আয় করতেন তাও কমে যাচ্ছে।

তিনি এডলফ হিটলারকে উদ্ধৃত করে তার ওয়েবসাইটে বলেন, একটা বড় মিথ্যেকে বার বার বলতে থাকলে এক পর্যায়ে লোকে তা বিশ্বাস করবে।

নাসিমওয়ান্ডারওয়ান নামে তার চ্যানেলটি এখন মুছে দেয়া হয়েছে। এর ৫ হাজার সাবস্ক্রাইবার ছিল।

আগদামের পিতা ইসমাইল বলেছেন, ইউটিউব তার ভিডিও জন্য অর্থ দেয়া বন্ধ করে দেয়ায় তার মেয়ে ক্রুদ্ধ ছিল।

আরো পড়ুন:

ছবির ক্যাপশান,

ইউটিউব অফিস থেকে মাথার ওপর হাত তুলে বেরিয়ে আসছেন কর্মচারীরা

তিনি আরো জানান, দু'দিন ধরে নাসিম আগদাম তার ফোন ধরছিলেন না। সোমবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

এর পর ইউটিউব সদর দফতরের ১৫ মাইল দূরে রাস্তার ওপর পুলিশ তাকে খুঁজে পায় ।

তিনি গাড়ির মধ্যে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে পুলিশ তার পরিবারকে জানায়, তবে আগদামকে আটক করা হয় নি।

আগদামের পিতা ইসমাইল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তার মেয়ে 'ইউটিউব কোম্পানিকে ঘৃণা করতো' বলেই হয়তো তাদের সদর দফতরে গিয়েছিল।

গুলিবর্ষণের ঘটনার পর নাসিম আগদামের একাউন্টটি বন্ধ করে দিয়েছে ইউটিউব। তার ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম একাউন্টও মুছে ফেলা হয়েছে।