বাংলাদেশে বছরে ৬ লাখ মানুষ আগুনে পোড়ে, অসাবধানতা প্রধান কারণ

ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট বলছে, সারাদেশে বছরে আনুমানিক ছয় লক্ষ লোক আগুনে পুড়ে যায়। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট বলছে, সারাদেশে বছরে আনুমানিক ছয় লক্ষ লোক আগুনে পুড়ে যায়।

একমাস আগে আগুনে পুড়ে যান মোহাম্মদ রমজান। সিলেটের জৈন্তাপুরে বাসা-বাড়ীতে পাইপ জোড়া লাগানোর কাজের সময় তার শরীরের ৪৫ শতাংশ ঝলসে যায়।

প্রথমে সিলেট মেডিকেলে নিয়ে গেলেও পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে তার চিকিৎসা শুরু করা হয়।

মি. রমজানের ভাই মোহর আলী বলছিলেন, "বাসার টুকটাক কাজ আমরা বাসায় করি, কিন্তু সেদিন যে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে সেটা কারো চিন্তায় ছিল না।"

মি. রমজান ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে একমাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তার মত অনেকেই বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন কাজ করতে যেয়ে আবার অনেক সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফারণ, গরম পানি বা বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনে পুড়ে অনেকেই অগ্নিদগ্ধ হন।

ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট বলছে, সারাদেশে বছরে আনুমানিক ছয় লক্ষ লোক আগুনে পুড়ে যায়।

আর আগুনে পুড়ে প্রতিদিন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিতে আসছেন ২০ থেকে ২৫ জন।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ বাসা বাড়িতেই অগ্নিনির্বাপকযন্ত্র নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, যখন তারা চিকিৎসা নিতে আসেন তখন দেখা যায় তাদের মধ্যে সচেতনতার ভীষণ অভাব রয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ড. সামন্ত লাল সেন বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে অগ্নিকান্ডের ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়তে পারেন:

বিচারের আগেই 'অপরাধী'র তকমা, কতটা আইনসিদ্ধ?

বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের পাঁচ বছরের জেল

'ভেবেছিলাম পড়ার ভয়ে হোস্টেলে যেতে চাইছে না'

ছবির কপিরাইট BBC bangla
Image caption সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অগ্নি নির্বাপন সংক্রান্ত প্রদর্শনীর আয়োজন।

"যেমন বাসা-বাড়িতে রান্না করতে গিয়ে শাড়ি পড়ে রান্না করে, অগোছালো থাকে তখন ওখান থেকে আগুন ধরে যায় অনেক সময়। আবার বাচ্চাদের বেলায় দেখা যায় গৃহকর্মীরা যখন গরম পানি ডেকচিতে করে নিয়ে যায়, কিন্তু সেটা যদি বালতিতে করে নেয়া যায় তাহলে কিন্তু এ ধরনের দুর্ঘটনা হয়না। আমাদের দেশে এগুলো খুব খুব কমন(সাধারণ)কারণ।"

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ছয় বছরে সারাদেশে ৮৮ হাজারের মতো অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

প্রাণহানি হয়েছে ১ হাজার ৪ শ' জন, আহত হয়েছে অন্তত ৫ হাজার মানুষ।

কেবল সচেতনতা ও অগ্নিকান্ডের কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশিক্ষণসহ নির্বাপণের সরঞ্জাম রাখলে আগুনের ভয়াবহতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

এমন এক প্রেক্ষাপটে ঢাকায় বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্স-পো।

আয়োজকরা বলছেন আন্তর্জাতিক এই এক্সপোতে বিভিন্ন দেশে থেকে কোম্পানি অংশ নিয়েছে। তারা তাদের দেশের তৈরি অগ্নিনির্বাপণের অত্যাধুনিক যন্ত্র এমনকী রোবটও প্রদর্শন করছে।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক মেজর একে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, "এগুলোর মাধ্যমে মানুষকে আসলে সচেতন করা হচ্ছে যে, আগুনের নিরাপত্তার বা পূর্ব-প্রস্তুতির কোনও বিকল্প যে নাই সেটি তুলে ধরা হচ্ছে।"

সম্পর্কিত বিষয়