বেপরোয়া জীবনযাপন করা সুপারস্টার বলিউডের সালমান খান

সালমান খান ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকাদের একজন সালমান খান

২০ বছর আগে কৃষ্ণ হরিণ শিকারের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদন্ডের শাস্তি পাওয়া সালমান খান বিভিন্ন সময় নানারকম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

আইন ভঙ্গ করার দায়ে বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত হয়েছেন এই বলিউড তারকা। শুধু বিরল প্রজাতির প্রাণী শিকারই নয়, ২০০২ এ মুম্বাইয়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় গৃহহীন চারজনকে আহত ও একজনকে হত্যার অভিযোগেও অভিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি।

সাবেক প্রেমিকাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কিন্তু তারপরও সালমান খান ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা তারকাদের মধ্যে একজন।

৫২ বছর বয়সী এই তারকা প্রায় ১০০ হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সিনেমা সংশ্লিষ্ট অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন সালমান খান।

শিক্ষিত মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে শ্রমজীবি দরিদ্র শ্রেণী পর্যন্ত ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption সালমান খান বিভিন্ন সময় নানা রকম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

বিতর্কের সাথে বসবাস

কিন্তু জনপ্রিয় নায়কের পাশাপাশি বেপরোয়া জীবনযাপন করা উশৃঙ্খল এক সুপারস্টারের ভাবমূর্তিও তৈরী করেছেন তিনি।

তবে বিতর্ক আর দুর্ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও সালমানের ফ্যানরা সবসময়ই তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন। এমনকি তাঁর ভক্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েছে।

ব্যবসায়িকভাবে দারুণ সফল সিনেমা তৈরীর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিশাল জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর।

সালমানের ফেসবুক পেইজে লাইকের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটির বেশী। টুইটারে তাঁর অনুসরণকারীও সোয়া তিন কোটি।

কিন্তু খ্যাতনামা চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের তিন ছেলের মধ্যে জেষ্ঠ্য সালমানের চরিত্রের অন্য দিকটিও বেশ সমালোচিত।

বিভিন্ন পার্টিতে তাঁর নানাধরনের কীর্তিকলাপ ও সহ-অভিনেত্রীদের সাথে তাঁর সম্পর্ক একসময় বলিউডের কানাঘুষার প্রধান উপাদান ছিল।

এমনও অভিযোগ আছে, এক রেস্টুরেন্টে ক্ষুদ্ধ হয়ে সাবেক এক প্রেমিকার মাথায় এক বোতল কোমল পানীয় ঢেলে দিয়েছিলেন তিনি।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি দাতব্য সংস্থার কাজে সালমান খান

অভিনেত্রী ও সাবেক মিজ ওয়ার্ল্ড ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সাথে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ঐশ্বরিয়া অভিযোগ করেছিলেন যে সালমান তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছে। সালমান খান এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তবে এই 'ব্যাড বয়' ভাবমূর্তি কাটাতে গত কয়েক বছর নানাধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন এই অভিনেতা।

পরিবার ও ভাইদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের জন্য সবসমই প্রশংসিত সালমান খান। বন্ধুদের তো বটেই, কখনো কখনো অচেনা মানুষকে সাহায্য করতেও পিছপা হননা বলে সুনাম রয়েছে সালমানের।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কয়েকবছর আগে তিনি 'বিইং হিউম্যান' নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান শুরু করেন যারা টি-শার্ট ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করে মুনাফার টাকা দিয়ে দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

নারীদের সাথে সম্প্রতি তাঁর আচরণ অনেক পরিণত হলেও দুই বছর আগে কাজের ব্যস্ত সূচির উদাহরণ টানতে গিয়ে গিয়ে "ধর্ষিতা নারীর মত অনুভব হচ্ছে" বলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

আরেকটি পৃথক ঘটনায় তিনি বলেছিলেন যে ধূমপান, মদ্যপান ও কফির মত "দোষ" ছাড়তে পারলেও নারীলিপ্সা তিনি ছাড়তে পারবেন না।

এই ঘটনার পর ভারতের জাতীয় নারী কমিশন তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আদেশ দেয়।

সালমানের বাবা সেসময় বলেন মি.খানের এই উক্তি "যথাযথ নয়"। তাঁর ভাইয়েরা তার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইলেওে সালমান ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান।

নিজের আইনজীবির মাধ্যমে সালমান খান কমিশনকে জানিয়েছ যে তারা 'এধরণের বিষয়ে কথা বলার অধিকার রাখে না'।

এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি অপরাধমূলক কাজের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় শাস্তি পাওয়া থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের দায়ে একাধিকবার অভিযুক্ত হয়েছেন সালমান খান

আইনের সাথে খণ্ডযুদ্ধ

২০০২ সালের গাড়ি দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ায় ২০১৫'র মে মাসে তাঁকে পাঁচবছরের কারাদন্ডের শাস্তি দেয় আদালত।

তবে ঐ বছরের ডিসেম্বরেই উচ্চ আদালত ‌এই রায় খারিজ করে দেয়। গতবছর ঐ মামলার বাদী সুপ্রীম কোর্টে আপিল করে। মামলাটি বর্তমানে সেখানে বিচারাধীন আছে।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য রাজস্থানে ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণা হরিণসহ সংরক্ষিত হরিণ শিকারের দায়ে অভিযুক্ত হন তিনি।

বৃহস্পতিবার আদালতের বিচারক তাঁকে 'স্বভাবসিদ্ধ অপরাধী' বলে আখ্যা দিয়ে পাঁচ বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেন। তবে তাঁর দিন কয়েকের বেশী জেল খাটার সম্ভাবনা কম।

তাঁর আইনজীবিরা জানিয়েছেন তারা সালমানের জামিনের জন্য আবেদন করেছেন এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে সালমান খানকে

বিপন্নপ্রায় প্রাণী হত্যার দায়ে সালমানের বিরুদ্ধে করা চারটি মামালার দু'টিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ২০০৬ সালে। সেবারও তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেয়া হলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই জামিনে ছাড়া পেয়ে যান তিনি।

২০১৬'র জুলাইয়ে রাজস্থানের হাইকোর্ট তাঁর দন্ডাদেশ বাতিল করে দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে একটি আপিল করা হলেও কবে আদেশ আসবে তা নিশ্চিত নয়।

সম্পর্কিত বিষয়