কয়েক ঘন্টার জন্য জেলখানার বাইরে খালেদা জিয়া: কেমন আছেন তিনি?

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images
Image caption দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া সাজা খাটছেন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নানা জল্পনা এবং বিতর্কের মধ্যে শনিবার তাকে কারাগার থেকে কয়েক ঘন্টার জন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নানা স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার তাকে ফিরিয়ে নেয়া হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতির মামলায় সাজার পর খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর এই প্রথম তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়। একটি সাদা-কালো জামদানি শাড়ি পরা খালেদা জিয়াকে হাস্যোজ্জ্বলই দেখাচ্ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে যখন তাঁকে নাজিমউদ্দীন রোড থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হচ্ছিল, তখন রাস্তায় ভিড় করেন তার সমর্থকরা।

হাসপাতালে আসার পর প্রথমেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাঁচ তলার একটি কেবিনে। এরপর রেডিওলজি ডিপার্টমেন্টে নিয়ে তার বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লা আল হারুণ পরে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড যেসব উপদেশ বা পরামর্শ দিয়েছেন সে অনুযায়ী তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।

এটা কী বলা যাবে যে খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, "এটি পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে মেডিক্যাল বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং উনারা এটা ভালো বলতে পারবেন যে উনি পুরো সুস্থ আছেন কীনা।"

তাহলে কী এটা বলতে হবে যে উনি পুরোপুরি সুস্থ নেই?

"না, সুস্থ নেই এটাও বলা যাবে না। কারণ উনি তো কেবিন থেকে হেঁটে রেডিওলজি ডিপার্টমেন্টে এসেছেন। এখান থেকে আবার হেঁটে গাড়িতে উঠেছেন। আপাতদৃষ্টিতে আমরা উনাকে ভালোই পেয়েছি।"

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images
Image caption ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেন খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা করা হচ্ছে এবং পায়ে সমস্যা থাকার পরও তাকে হাঁটিয়ে হাসপাতালের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, "এটি সঠিক নয়। উনার জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু নিজেই আমাকে বলেছেন, আমি হেঁটে যেতে পারবো। আমার হুইল চেয়ার দরকার নেই।"

আরও পড়ুন: ফেসবুক জনপ্রিয় পাতাগুলোর তথ্য যাচাই করবে

যুদ্ধ শেষ হলেও কি তারা দেশে ফিরতে পারবে?

লিভার চিকিৎসায় বাংলাদেশী চিকিৎসকদের উদ্ভাবন

হাসপাতালের পাঁচ তলার একটি কেবিনে খালেদা জিয়াকে কেন নেয়া হয়েছিল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমাদের আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল, উনি হাসপাতালে আসলে আমরা উনাকে ঐ কেবিনে নিয়ে যাব। যে ডাক্তারদের উনি চেয়েছিলেন, সেই ডাক্তাররা আসলে উনাদের সাথে নিয়ে এক্সরে ডিপার্টমেন্টে যাবেন।"

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, "আর্থাইটিসের কারণে খালেদা জিয়ার দুটি হাঁটুতে রিপ্লেসমেন্ট অপারেশন হয়েছে। উনি আগে থেকেই আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন। এর সঙ্গে উনার বাম হাত এবং বাম পায়ে নতুন করে ব্যাথা শুরু হয়েছে। এগুলো নতুন লক্ষণ। এসবের জন্য পরীক্ষা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফল পেলে বোঝা যাবে এই সমস্যা কতটা গুরুতর।"

খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রের কোন সমস্যা আছে কীনা, সে প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, "উনি নিজেই বলেছেন উনার কোন প্রেশার নেই এবং ডায়াবেটিস নেই। রুটিন চেক-আপেও তাই দেখা গেছে। উনি বুকে ব্যাথা, বুক ধড়ফড় করা বা একটা হাঁটলেই হাঁপিয়ে যাওয়া এরকম হার্টের অসুখ সম্পর্কিত কোন কথাই আমাদের জানাননি।"

হাসপাতালের ভেতর খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের স্ত্রী এবং কন্যা তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের একজন কর্মকর্তা।

হাসপাতালের বাইরে বিএনপির সমর্থকরা জড়ো হলে সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ সেখান থেকে চারজন বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করে।