'ওদের ফেরত পেতে ৯০ হাজার ডলার দিয়েছি'

সিরিয়া, আইএস ছবির কপিরাইট LEILA MOLANA-ALLEN
Image caption ভাতিজা ভাতিজীদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন খালিদ

ইরাকে কথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস-র আক্রমণের পর ২০১৪ সালে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পালিয়েছিলেন খালিদ তালু খুদুর আল আলী।

কিন্তু তার পরিবারের ১৯ সদস্য বন্দী ছিলো।

পরের চার বছরে তিনি ৯০ হাজার ডলার দিয়ে তিনি ফেরত পেয়েছেন পরিবারের দশ সদস্যকে।

কিন্তু এখন আইএসের পরাজয়ের পর তার ভয় যে পরিবারের বাকীদের হয়তো জীবিত আর পাবেননা তিনি।

গত বছর ২৬শে সেপ্টেম্বর উত্তর ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের শারিয়াতে একটি লাল রংয়ের পিক আপ আসে যার মধ্যে ছিলো ১৬ বছর বয়সী শাইমা।

তিন বছর আইএসের হাতে আটকে থাকার পর ফিরে আসেন তিনি।

আর আটক থাকার সময় তাকে বারবার বিক্রি করা হয়েছিলো আইএস এর এক যোদ্ধা থেকে আরেক যোদ্ধার কাছে।

ছবির কপিরাইট LEILA MOLANA-ALLEN
Image caption শাইমা হাতে টাট্টু একেঁ দিয়েছিলো জিম্মিকারীরা

অবশেষে তার চাচা খালিদ তাকে ফিরে পেয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার ডলারের বিনিময়ে।

২০১৪ সালের ২রা অগাস্ট এই আইএস যখন তাদের সিনজার শহরে যায় সেই রাতের কথা স্পষ্টই মনে আছে খালিদের।

এরপরের সময়টা বিভীষিকার।

"পরদিন সকালের নাস্তার আগেই আমরা চিৎকার শুনছিলাম। দরজা খুলে দেখলাম লোকজন পালাচ্ছে। তাদের জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে। জবাব দিলো আইএস আসছে"।

খালিদের গাড়ি ছিলোনা কিন্তু তার জেনারেটরের চার লিটার তেল প্রতিবেশীকে দেয়ার বিনিময়ে তাদের গাড়িতে ঠাঁই হলো খালিদ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছয় সন্তানের"।

কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরেই মনে হলো খালিদ ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজ ও নগদ টাকা ফেলে এসেছে। খালিদের স্ত্রী তাকে আর ফেরত যেতে দিতে রাজী হচ্ছিলোনা। পরে তাদের এক পুত্র ফেরত যায়।

অন্যদিকে যাওয়ার পথেই খালিদের ভাই আর তার এক পুত্র তাদের সাথে যোগ দেয়।

পরে আইএস খালিদের ভাইয়ের পরিবারের অন্যদের তুলে নেয়।

ছবির কপিরাইট LEILA MOLANA-ALLEN
Image caption এই নারী ও শিশু এখন শারিয়ায় নিরাপদ অবস্থানে আছে

পরে একটি ট্রাক যোগে তারা সীমান্তের দিকে যায় এবং বাড়ি ছাড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তারা শারিয়ায় পৌঁছায়।

কিন্তু এর মধ্যেই আইএসের হাতে পড়ে বন্দী হয় তার ভাইয়ের পরিবারের সদস্য সহ অনেকেই।

পরের বছর খালিদের কাছে একটি তথ্য আসে যে আইএস বন্দী নারী ও শিশুদের সরিয়ে নিচ্ছে এবং ম্যাসেজিং অ্যাপসে ছবি দিয়ে বিক্রির জন্য মূল্য বলছে।

খালিদ এরপর কিছু চোরাচালানীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেন।

এরপর দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টার পর গত বছর প্রায় ৯০ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা করেন এবং পরিবারর ১০ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।

ছবির কপিরাইট LEILA MOLANA_ALLEN
Image caption আটক থাকার সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখবেন এই নারী

যার মধ্যে সর্বশেষ এসেছে শাইমা।

খালিদ বিবিসিকে বলেছেন তিনি আইএস জঙ্গিদের সাথে সরাসরি কোন কথা বলেননি।

বরং যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিলো।

ইরাক ও সিরিয়ায় আবার কিছু এজেন্সি তৈরি হয়েছিলো যারা এসব বিষয়ে অর্থের বিনিময়ে সহায়তা করে।

শাইমাকে ফেরত পেতে খালিদের সময় লেগেছিলো তিন মাসেরও বেশি সময়।

সম্পর্কিত বিষয়