নিজ দলের বিরুদ্ধে দলিত নির্যাতনের অভিযোগ আনলেন বিজেপি এমপিরাই

ভারত ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভারতের নানা শহরে এখন দলিত সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ চলছে

ভারতে শাসক দল বিজেপিকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে তাদের একের পর এক দলিত বা তথাকথিত নিম্নবর্ণের এমপি প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলছেন যে দলীয় নেতৃত্বের মদতেই দেশে দলিতরা নির্যাতিত হচ্ছেন।

উত্তরপ্রদেশের অন্তত চারজন এমপি এ ব্যাপারে চিঠি লিখে বা জনসভায় মুখ খুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নালিশ জানিয়েছেন - একই ইস্যুতে সরব হয়েছেন দিল্লি থেকে নির্বাচিত বিজেপির দলিত এমপি উদিত রাজও।

দলের ভেতরেই এই তীব্র সমালোচনা বিজেপিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে - অন্যদিকে রাহুল গান্ধী বা মায়াবতীর মতো বিরোধী নেতারাও বিজেপিকে 'দলিত-বিরোধী দল' হিসেবে চিহ্নিত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

বিজেপির মতো রেজিমেন্টেড বা শৃঙ্খলাবদ্ধ দলে নেতারা সচরাচর পার্টির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন না।

কিন্তু গত কয়েকদিনে একের পর এক দলিত এমপি - বাহরাইচের সাবিত্রীবাই ফুলে, রবার্টসগঞ্জের ছোটেলাল, এটাওয়ার অশোক কুমার দোহরে এবং নাগিনার যশওয়ন্ত সিং সরাসরি অভিযোগ করেছেন তাদের দল দলিতদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

এমপি ছোটেলাল তো প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এমনও নালিশ করেছেন যে এইসব অভাব-অভিযোগ নিয়ে তিনি যখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে যান , তখন তাকে নাকি ধমকে বের করে দেওয়া হয়।

উত্তরপশ্চিম দিল্লির এমপি উদিত রাজ এই তালিকায় সবশেষ সংযোজন। তিনি বলছেন, "২রা এপ্রিল দলিতদের ভারত বনধের পর থেকেই তাতে সামিল হওয়া সরকারি কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে।"

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

কোটা সংস্কারের দাবি বিবেচনায় সরকারের আশ্বাস

ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সরকার, দেশজুড়ে বিক্ষোভ

সরকারি চাকরিতে কোটা: কাদের জন্য, কী উদ্দেশ্যে

চলন্ত বাসে আবার ধর্ষণ ঢাকার ধামরাইয়ে

ছবির কপিরাইট বিবিসি হিন্দি
Image caption গোয়ালিয়রে দলিত বিক্ষোভকারীদের দিকে এক উচ্চবর্ণের ব্যক্তির গুলি ছোঁড়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে

"আন্দোলনকারীদের থানায় নিয়ে গিয়ে পেটানো হচ্ছে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। জয়পুর, গোয়ালিয়র থেকে আমি রোজ ফোন পাচ্ছি - লোকে কান্নাকাটি করছে, উচ্চবর্ণের অত্যাচার চলছে। এখন আমি নিজের পদ বাঁচাতে পার্টিকে কিছু বলব না, তা তো হতে পারে না।"

উদিত রাজ যে সব ঘটনার কথা বলছেন, সেই সব রাজ্যেই কিন্তু এখন বিজেপিরই সরকার।

ওদিকে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির অন্যতম দলিত এমপি সাবিত্রীভাই ফুলে গত সপ্তাহে নিজের উদ্যোগে একটি জনসভা করেছেন - যেখানে মঞ্চের ওপর ছিল বহুজন সমাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কাঁসিরামের ছবি।

তার বক্তব্যও খুব পরিষ্কার - বিজেপি নেতারা দেশের দলিতদের জন্য কোনও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছেন না।

তিনি বলছেন, "সবাই আপনারা দেখছেন কখনও বলা হচ্ছে দেশের সংবিধান বদলে দেওয়া হবে - কখনও বলা হচ্ছে নিম্নবর্ণের জন্য কোটা বন্ধ করে দেওয়া হবে।"

"বাবাসাহেব আম্বেদকরের চালু করা ব্যবস্থা পাল্টে দিয়ে বহুজন সমাজের কখনও মঙ্গল হতে পারে না - সেটা আমি স্পষ্ট জানাতে চাই।"

ছবির কপিরাইট INDRANIL MUKHERJEE/AFP/GETTY IMAGES
Image caption দলিতদের নেতা আম্বেদকরের ছবি হাতে আন্দোলনকারীরা

গত সোমবার কোনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়া কিংবা কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা ব্যতিরেকেই দলিতরা যেভাবে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে প্রায় গোটা ভারত জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে, তা বিজেপিকে এমনিতেই দুশ্চিন্তায় রেখেছিল - তার সঙ্গে যোগ হয়েছে দলের ভেতর থেকেই এই আক্রমণ।

বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী অবশ্য বিজেপি এমপি-দের এই বিদ্রোহকে সাজানো নাটক হিসেবেই দেখছেন।

আর দলিত-নিগ্রহের প্রতিবাদে আজ গান্ধীর সমাধি রাজঘাটে প্রতীকি অনশনে বসা কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বিজেপির দলিত-বিরোধী চেহারা এখন ফাঁস হয়ে গেছে।

রাহুল গান্ধী এদিন অঙ্গীকার করেছেন, দলিত-আদিবাসী-সংখ্যালঘু-কিষাণ বিরোধী মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলনে অবিচল থাকবেন, তাদের হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়াতে দেবেন না।

২০১৪র সাধারণ নির্বাচনে ভারতে প্রতি তিনজন দলিতের একজন বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন। উত্তরপ্রদেশে তফসিলি জাতিভুক্তদের জন্য সংরক্ষিত ১৭টি আসনের সবগুলোই পেয়েছিল তারা।

কিন্তু দেশ জুড়ে দলিতদের ক্ষোভ ও আক্রোশে এই ইঙ্গিত পরিষ্কার যে বিজেপির প্রতি তাদের মোহভঙ্গ হচ্ছে খুব দ্রুতই।

সম্পর্কিত বিষয়