কোটা সংস্কার আন্দোলন: ঢাবি ক্যাম্পাসে এখনো উত্তেজনা

বাংলাদেশ কোটা ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption মাঝরাত নাগাদ এই বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই এলাকা ছেড়ে যায়

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের সাথে সরকারের সমঝোতার পর ছাত্রদের একাংশ তা প্রত্যাখ্যান করার পটভূমিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিবিসির একজন সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, যে ছাত্রছাত্রীরা সন্ধ্যার পর পর্যন্ত টিএসসির মোড়ে রাজু ভাস্কর্য এলাকায় অবস্থান করছিলেন, মাঝরাত নাগাদ দেখা যায় এলাকাটি প্রায় ফাঁকা।

সেখানে খুবই অল্প কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ছিলেন, আর ছিলেন সংবাদমাধ্যমের কিছু কর্মী।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বর, উপাচার্যের বাসভবন চত্বর, এবং নীলক্ষেত এলাকায় রড-হকিস্টিক এবং রামদা হাতে কিছু যুবকের দলকে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

এই এলাকাগুলো ঘুরে এসে বিবিসি বাংলার একজন সংবাদদাতা এ খবর জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন নেতা ভিডিও বিবৃতিতে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ি বা হলে ফিরে যেতে আহ্বান জানান।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

সরকারি চাকরিতে কোটা: কাদের জন্য, কী উদ্দেশ্যে

সরকারের সঙ্গে আপোসরফায় বিক্ষোভকারীদের 'না'

রাতভর সংঘর্ষে তছনছ ঢাবি উপাচার্যের বাসবভন

মধ্যরাতের কিছু আগে দেখা যায়, শাহবাগ এলাকায় মোতায়েন আছে পুলিশ এবং বেশ কিছু গণমাধ্যমকর্মীও সেখানে আছেন।

এর আগে, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদের সাথে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা যে সমঝোতায় পৌঁছান, সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হওয়া বিক্ষোভকারীদের একাংশ মানতে অস্বীকৃতি জানান।

ফলে স্পষ্টতই আন্দোলনকারীদের মধ্যে একটা বিভক্তি দেখা দেয়।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে সেখানে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন বহু ছাত্রছাত্রী।

সেখানে তারা সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে শ্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের 'জয় বাংলা' শ্লোগানও দিতে দেখা গেছে।

অন্য দিকে, এরই পাশাপাশি ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় সরকার সমর্থক ছাত্রলীগের বহু কর্মী।

ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

মধুর ক্যান্টিনের সামনে ছাত্রলীগের কয়েকশ কর্মী চোখে পড়ে বলে বিবিসির সংবাদদাতা জানান।

ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীকে তারা কেন সেখানে এসেছেন প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, ছাত্রলীগের একটি সম্মেলন রয়েছে, সেজন্যেই তারা ক্যাম্পাসে এসেছেন।

কোটা বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তাদের এই জমায়েতের কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন ওই ছাত্রলীগ কর্মীরা।

রোববার রাতের সংঘর্ষের জের ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়