সিরিয়ার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নিতে পারেন ট্রাম্প?

সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ডোনাল্ড ট্রাম্প

সিরিয়ার দুমায় কথিত রাসায়নিক অস্ত্র হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, বাশার আসাদকে এ জন্য কঠোর মূল্য দিতে হবে এবং তিনি কোন বিকল্পই বিবেচনার বাইরে রাখছেন না। কিন্তু কী কী করতে পারেন তিনি?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে বেশ কিছু বিকল্প রয়েছে। তবে প্রত্যেকটিরই নিজস্ব কিছু অসুবিধাও রয়েছে।

একটি হচ্ছে কূটনৈতিক পন্থা।

জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাশার আসাদের সামরিক ক্ষমতার পেছনে রাশিয়া ও ইরানের ভুমিকাকে যুক্তরাষ্ট্র উপেক্ষা করতে পারে না।

সুতরাং নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কোন পদক্ষেপ যদি নেয়া হয় তাহলে শুরু সিরিয়া নয় রাশিয়া ও ইরানও এর আওতায় পড়তে পারে।

তা ছাড়া জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দলটি চেষ্টা করছে একটি আন্তর্জাতিক দল গঠনের - যারা রাসায়নিক অস্ত্র আক্রমণের তদন্ত করবেন। তবে রাশিয়া এরকম কোন প্রস্তাব আটকে দেয়ার চেষ্টা করবে। এই প্যানেল কাউকে দোষী বলে চিহ্নিত করুক এটা তারা চায় না।

রাশিয়া বলেছে, সামরিক বিশেষজ্ঞরা দুমায় বেসামরিক লোকদের ওপর কোন ক্লোরিন বা রাসায়নিক অস্ত্র হামলার প্রমাণ পান নি।

সমস্যা হলো তদন্তকারীরা যদি সিরিয়ান শাসকদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েও যান, তাহলেও নিরাপত্তা পরিষদ হয়তো কিছুই করতে পারবে না, তারা এতটাই বিভক্ত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে: সীমিত পর্যায়ের সামরিক আঘাত।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

সিরিয়া থেকে কেন সৈন্য ফেরাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র?

Image caption দুমায় রাসায়নিক আক্রমণে বহু লোক নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর সাথে কথা বলছেন।

এখন থেকে ঠিক এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছিল - যুক্তরাষ্ট্রের মতে যে ঘাঁটি থেকে রাসায়নিক আক্রমণ চালানোর জন্য সিরিয়ান যুদ্ধবিমানগুলো উড়েছিল।

এটা ছিলে এক রকমের শক্তি প্রদর্শন, যার মূল বার্তা ছিল যে, এরকম হামলা বন্ধ করুন না হলে আরো বড় আক্রমণ চালানো হবে।

কিন্তু এর পর ১২ মাস পেরিয়ে গেছে। এই বার্তা সিরিয়ার কানে পৌঁছেছে বলে মনে হচ্ছে না। তাহলে একই রকম আক্রমণ চালিয়ে এবারই বা কতটা কাজ হবে?

এখানে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তৃতীয় বিকল্প: বড় আকারের সামরিক হামলা।

মার্কিন এরকম একটি বড় আকারের সামরিক আক্রমণের আদেশ দিলে তার লক্ষ্য হবে সিরিয়ার বিমানবাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারে ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস বা খর্ব করা ।

তবে এর ঝুঁকি অনেক। কারণ সিরিয়ার মিত্র হচ্ছে রাশিয়া এবং এরকম কোন পদক্ষেপ বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ফ্রান্স এবং ব্রিটেন - সিরিয়াকে কঠোর জবাব দেবার কথা বলেছে, কিন্তু তারা ঠিক কতদূর পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগ সমর্থন করবে?

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো কে সাথে আছে বা নেই তা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। তিনি একাধিকবার বলেছেন, তিনি একাই এগিয়ে যেতে তৈরি।

সিরিয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর নীতি কি হবে - সেটাও একটা বিবেচনা বিষয়। কিছুদিন আগেই মি. ট্রাম্প বলেছেন, ইসলামিক স্টেট পরাজিত হবার পর সিরিয়া খুব শিগগীরই সিরিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। কিন্তু রাসায়নিক অস্ত্র ইস্যুতে তাকে যদি আবার সিরিয়ার ঘটনাবলীতে জড়িয়ে পড়তে হয় - তাহলে তার নীতির ভারসাম্যই বা কিভাবে রক্ষিত হবে?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। এই সময়ের অনেকখানি এর মধ্যেই পেরিয়ে গেছে।

আরো পড়তে পারেন:

কেন বিভক্ত হয়ে পড়লো কোটা সংস্কারের আন্দোলন?

৮৫ হাজার বছর আগে সৌদি আরবে কারা থাকতো?

ইন্টারনেটে কে আপনাকে অনুসরণ করছে?