বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি চাকরির চাহিদা বাড়ছে?

ছবির কপিরাইট Rezanur Rahman
Image caption বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় আজ জড়ো হয়েছেন

কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে জোর আন্দোলন। এই আন্দোলনের অগ্রভাগে পাবলিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকলেও পিছিয়ে নেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

গতকালের মত আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকার সাত মসজিদ রোড জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক এবং ইউনিভার্সিটি লিবারেল আর্টসসহ আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় চলছে বিক্ষোভ। এসময় তারা কোটা সংস্কারের দাবি সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এসময় তারা যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের দাবি জানিয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকে। অনেকে সড়কে তাদের দাবির কথা লিখে জানান।

তবে কোটা সংস্কারের দাবিতে এর আগে এভাবে কোন অবস্থান নিতে দেখা যায় নি তাদের।

আরো পড়ুন:

কোটা সংস্কার: বিভেদ দূর হলো মতিয়া চৌধুরীর উক্তিতে

কোটা সংস্কার: আন্দোলনের নেপথ্যে কী ঘটছে

সরকারি চাকরিতে কোটা থাকবে না: ছাত্রলীগ সভাপতি

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
কেন কোটা সংস্কার আন্দোলন

একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কর্পোরেট এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অথবা দেশের বাইরে চাকরির চাহিদা বেশি। আর পাবলিক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকুরির জন্য আবেদন করে থাকেন।

কিন্তু চিত্রটা ভিন্ন বলে জানালেন শিক্ষার্থীরা। বললেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও সরকারি চাকরিরর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাজী কামাল হোসেন জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী কর্পোরেট চাকুরির পাশাপাশি প্রতিবছর বিসিএসের জন্য আবেদন করে থাকে।

"তাই এটি নিঃসন্দেহে একটি গণদাবি। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে," তিনি জানান।

ছবির কপিরাইট Rezanur Rahman
Image caption বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় আজ জড়ো হয়েছেন

কিন্তু বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কিভাবে এই একযোগে এই আন্দোলন সংগঠিত করা হলো?

এমন প্রশ্নের জবাবে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর সিয়াম জানান, ফেসবুকে নিজেদের কমিউনিটি গ্রুপে পোস্ট দেয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কর্মসূচির ব্যাপারে জানানো হয়েছে।

"আজ দুপুরে রামপুরা ব্রিজ সংলগ্ন সমাবেশ করার কথা জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে এই আন্দোলনে সংগঠিত হওয়ার পক্ষে সায় দেন শিক্ষার্থীরা। পরে আশেপাশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিফোনে যোগাযোগ করে, বলছেন তিনি।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
কোটা সংস্কারের আন্দোলনে বিভক্তি?

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে নর্থ সাউথ, ইস্ট ওয়েস্ট, ইন্ডিপেন্ডেন্টসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাস সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তেজগাঁওয়ে , সোবহানবাগে ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়, রামপুরা ব্রিজের উত্তর পাশের সড়কে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন বাজার থেকে রামপুরা বাড্ডা- রামপুরাগামী সড়ক পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন এন্ড টেকনোলজি অ্যান্ড সাইন্সেস, প্রগতি সারণী থেকে বসুন্ধরা গেইটের সামনে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছিল। এতে এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

Image caption সরকারি চাকরিতে কোটা

এ সময় অনেক সাধারণ যাত্রীকে গণপরিবহন থেকে নেমে পায়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। তবে এতো ভোগান্তি সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান তারা।

কোটা সংস্কারের দাবিগুলো কী?

কোটা সংস্কারে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ'এর ব্যানারে যে পাঁচটি বিষয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে সেগুলো হল -

•কোটা-ব্যবস্থা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা (আন্দোলনকারীরা বলছেন ৫৬% কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ। সেটিকে ১০% এ নামিয়ে অঅনতে হবে)

•কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া

•সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়স-সীমা- ( মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে চাকরীর বয়স-সীমা ৩২ কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০। সেখানে অভিন্ন বয়স-সীমার দাবি আন্দোলনরতদের।)

•কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নেয়া, যাবে না ( কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকরি আবেদনই করতে পারেন না কেবল কোটায় অন্তর্ভুক্তরা পারে)

•চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

আরো পড়তে পারেন:

ছবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন

মেয়েরা কেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে এতটা সম্পৃক্ত?